৪ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

ভেনামির সুনামিতে ইলিশের দাম নিম্নমুখী

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 27, 2016 9:38 am|    Updated: June 27, 2016 9:39 am

An Images

তরুণকান্তি দাস: ইলিশ? আড়াইশো টাকা কেজি! হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন৷ হবে না? ইলিশের পাহাড় প্রমাণ জোগান আছে৷ কিন্তু তা মজুত রাখার মতো পর্যাপ্ত বরফ নেই৷ আকাল এতটাই যে, মাছ যদি জমিয়ে রাখতে হয়, তার জন্য বেশ মোটা মূল্য চোকাতে হচ্ছে মৎস্য ব্যবসায়ীদের৷ বরফের দাম ঊর্ধ্বমুখী৷ দেড়শো থেকে ১৭০ টাকা কুইন্টাল৷ স্বাভাবিক কারণেই ইলিশের দাম নামছে হু হু করে৷ আরও মন খুশ করা সংবাদ হল, আগামী তিনদিনের মধ্যে ইলিশের জোগান বাড়বে বর্তমানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ৷

দিঘা, শঙ্করপুর থেকে আরও বেশি এই রুপোলি শস্য আসবে বলে খবর৷ ফলে কার্যত কাটা কাতলা বা রুইয়ের চেয়েও কম দামে ইলিশ পার্বণে মেতে উঠতে পারবেন সবাই৷ কিছুদিন আগে জামাইষষ্ঠীর বাজারে যে মাছে আগুন লেগেছিল, তাতে ইলিশ বিকিয়েছে দু’হাজার টাকা কিলোতে, তা নেমে আসবে দুশো টাকায়৷ তবে হ্যাঁ, আড়ে বহরে কিছুটা খাটো হতে পারে, কিন্তু ইলিশ তো! বাঙালির তাতেই দিলখুশ৷

এর জন্য এই ভ্যাপসা গরমে বরফের চাহিদার পাশাপাশি কৃতজ্ঞ থাকতেই হয় মাছ বাজারের নয়া দখলদারের প্রতি, যার নাম ভেনামি৷ বাগদা চিংড়িকে সরিয়ে বিশ্ব বাজারের মানচিত্রে ঠাঁই করে নেওয়া এই মাছটির উৎপাদন এই রাজ্যে এতটাই যে তার জন্য বরফের জোগান দিতে গিয়ে টান পড়ছে ইলিশে৷ ট্র্যাজেডি এটাই যে, ইলিশের জোগানদার পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেই ভেনামির উৎপাদনে যেন সুনামি৷ যার ধাক্কায় ইলিশের দাম নিম্নমুখী৷ জাত খুইয়ে গত দু’দিন যা ঠেকেছে প্রায় পানসে দক্ষিণের চালানি পোনার দরে৷

দিঘা ফিশ অ্যান্ড ফিশ ট্রলার অ্যাসোসিয়েশনের কর্তা শ্যামসুন্দর দাসের কথায়, “আগামী দিন তিনেকের মধ্যে রোজ ২০ থেকে ২৫ টন ইলিশের জোগান দেবেন পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্রে যাওয়া মৎস্যজীবীরা৷ এখন যা রয়েছে পাঁচ থেকে সাত টনে৷” তার মানে দিঘা, শংকরপুর থেকে মাছ উঠবে দ্বিগুণের চেয়ে বেশি৷ এবং সাইজও ভাল৷

ওয়েস্টবেঙ্গল ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের কর্তা বিজন মাইতিও বলেছেনট “মাছের জোগান ব্যাপক৷ ফলে বরফের চাহিদা হঠাৎ বেশ বেড়েছে৷ যা খবর, নামখানা, কাকদ্বীপ, ডায়মন্ডহারবার, রায়চক থেকে আরও প্রচুর মাছ উঠবে৷ তাই দাম একেবারে নাগালে৷” উল্লেখ্য, এখন প্রতিদিন একশো টনেরও বেশি ইলিশের জোগান দিচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা৷ এবং বাজার দাপাচ্ছে সেই ইলিশ৷

ফিশ ইমপোর্টার-এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের কর্তা অতুল দাস বলেন, “তাও এখন তো বাংলাদেশ থেকে ইলিশ ঢুকছে না৷ মায়ানমারের ইলিশ আসতেও সেই নভেম্বর৷ না হলে বিরাট ধস নামত ইলিশের বাজারে৷”

ধস কি নামে নি? আড়াইশো টাকায় কবে ঘরে তোলা গিয়েছে এই রুপোলি শস্য? কিছুদিন আগেও তিনশোর ঘর ছাড়িয়ে যাওয়া বড় রুই-কাতলাকে ফের আড়াইশোর ভিতরে পাঠিয়ে দিয়েছে ইলিশ৷ ইলশেগুঁড়ি বারি নাই বা পেল মন, ইলিশের এই আয়োজন মন্দ কী?

 

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement