Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬

কাঁথির অশান্তিতে রিপোর্ট তলব দিল্লির, ক্ষুব্ধ মমতা

মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন রাজনাথের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০১৯, ০৯:১০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০১৯, ০৯:১০

options
link
কাঁথির অশান্তিতে রিপোর্ট তলব দিল্লির, ক্ষুব্ধ মমতা zoom

স্টাফ রিপোর্টার: বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর সভা শেষে সোমবার কাঁথিতে রাজনৈতিক অশান্তির ঘটনায় নবান্নের রিপোর্ট তলব করল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। রাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে ঘটনা সম্পর্কে অভিযোগ জানিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নবান্নের রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, মন্ত্রীর ফোন আসতেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন,“আমরা রাজ্যে ক্ষমতায় আছি। বাংলাকে শান্ত রাখার দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছি। আমরা কখনও চাইব না, কাঁথি বা কোথাও অশান্তি হোক। কিন্তু আপনাদের নেতারা বাইরে থেকে এসে বাংলার শান্তি নষ্ট করতে চাইছেন। শান্তিপূর্ণ রাজ্যকে অশান্ত করতে প্ররোচনা দিচ্ছে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করছে, আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে জনপদে।” সূত্রের খবর, বাংলায় বিজেপি নেতাদের এই উসকানিমূলক কাজকর্ম বন্ধ করার জন্য রাজনাথ সিংকেই পালটা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

                                  [বিজেপির সভা শেষে রাজনৈতিক সংঘর্ষ, পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশও]

Advertisement

মঙ্গলবার বিকেলে বিজেপি সভাপতির জনসভা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কাঁথি। অভিযোগ, সভা ফেরত বহিরাগত গেরুয়া বাহিনীর একাংশ রাস্তার পাশে থাকা তৃণমূল কার্যালয় থেকে শুরু করে সাধারণের দোকান ও বাড়িতে হামলা চালায়। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় দিঘা রুটের দু’টি সরকারি বাসেও। মাটিতে ফেলে পেটানো হয় তৃণমূল কার্যালয়ে থাকা নিরস্ত্র দলীয় নেতা-কর্মীদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাস্তায় নামা পুলিশের উপর চড়াও হয় তাণ্ডবকারী বহিরাগত বিজেপি কর্মীরা।পালটা ভাঙচুর হয় বিজেপির কয়েকটি বাস ও গাড়িতে। এদিন বীরভূমে বসেই কাঁথির অশান্তির খবর পেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে খবর পৌঁছায়, কাঁথির সংঘর্ষ নিয়ে নবান্নের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এরপর রাতে মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলে ফোন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। জবাবে মুখ্যমন্ত্রীও জানান, এ রাজ্যে বিজেপি নেতাদের কার্যকলাপ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ব্যবস্থা নিক।

অমিত শাহর সভা শেষ হওয়ার পর কাঁথিতে যে এমন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হবে তা কল্পনা করতে পারেননি এলাকার পুরনো বিজেপিকর্মীরাও। কারণ, সভায় যখন বহিরাগতরা বাসে ও গাড়ি করে সভায় পৌঁছেছিলেন, তখনও কোথাও কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু জনসভা শেষ হতেই দলের রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসুর – “আপনারা সবাই একসঙ্গে যান। যারা ভাঙছে তাদের ভেঙে দিন”, মঞ্চ থেকে মাইকে ঘোষণা করার পরেই কাঁথির তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিজেপি কর্মীরা। বাধা দিতে গেলে হামলা চালানো হয় পুলিশের উপর। ঘটনা নিয়ে কাঁথির ভূমিপুত্র পরিবেশ ও পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মুর্শিদাবাদের সভা শেষে তীব্র প্রতিক্রিয়ায় জানান, “শান্তিপূর্ণ কাঁথিতে তৃণমূল কংগ্রেস অফিস ও সাধারণ মানুষের উপর হামলাকারীরা আসলে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সিপিএমের প্রাক্তন কুখ্যাত হার্মাদরা। সঙ্গে ছিল বহিরাগতরা। মঞ্চ থেকে বিজেপি নেতাদের উসকানিতে মিটিং শেষ হওয়ার পর তৃণমূল পার্টি অফিস ও কাঁথির শান্তিপ্রিয় মানুষের উপর বাঁশ, লাঠি, বোমা নিয়ে চড়াও হয়েছে বহিরাগত গেরুয়া-হার্মাদরা। আগুন দিয়েছে সরকারি বাস ও তৃণমূল কর্মীদের মোটর বাইক, গাড়ি ও সাধারণ মানুষের দোকানেও। এর ফল আগামী দিনে বিজেপিকে ভুগতেই হবে।” শান্ত কাঁথিকে অশান্ত করা ও সাধারণ নিরীহ মানুষের উপর হামলার প্রতিবাদে আজ, বুধবার এলাকায় ধিক্কার মিছিল করছে তৃণমূল কংগ্রেস। যে মাঠে অমিত শাহ সভা করলেন, সেখানেই আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি রবিবার পালটা জনসভা করছে তৃণমূল। দলের কর্মসূচি নিয়ে শুভেন্দু জানান, “বিজেপি তো বাইরে থেকে গাড়ি ভর্তি করে লোক এনে মিটিং করেছে। ওই মাঠেই শুধু কাঁথি উত্তর ও দক্ষিণের লোক নিয়ে পাঁচগুণ বেশি জমায়েত করে কুৎসার জবাব দেওয়া হবে।”

                                        [অনলাইনে গাড়ি কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার, খোয়া গেল ৫৬ হাজার টাকা]

বহিরাগতদের হামলায় জখম দুই পুলিশ কর্মী এবং ন’জন তৃণমূল কর্মী এখন কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জখমদের দেখতে হাসপাতালে যান সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী। জেলা তৃণমূল সভাপতি সাংসদ শিশির অধিকারী অভিযোগ করেন, “জনসভায় তিরধনুক হাতে নিয়ে ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড থেকে এসেছিল বিজেপি কর্মীরা। ঝাড়গ্রাম, খড়গপুর, হাওড়া সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে অস্ত্র সহ কর্মীদের নিয়ে আসা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল কাঁথির মতো শান্তিপ্রিয় এলাকায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করে প্রচারে আসা। এর উত্তর সময়ে মানুষ দিয়ে দেবে।” অন্যদিকে, শাসক দলের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে দিঘা-নন্দকুমার জাতীয় সড়কের চণ্ডীপুরের ক্ষুদিরাম মোড়ে পথ অবরোধ করে ঘণ্টাখানেক বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে খণ্ডযুদ্ধ বাধে। অবরোধের জেরে দিঘা-কলকাতা রুটের হাজার খানেক গাড়ি আটকে পড়ে। দুর্ভোগে পড়েন বহু যাত্রী।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.