সুপর্ণা মজুমদার: ছোট্ট এক চিলতে ঘর। একপাশে কচুরিপানার সাম্রাজ্য, অন্যপাশে রেললাইন। আশেপাশে লোকের বাস নেই বললেই চলে। এর মধ্যেই পড়ে রয়েছে দু’টি প্রাণী। মানুষ হিসেবে জীবনটাকে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন লীনা নাথ। সঙ্গে মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ে প্রতিমা। রোজগার বলতে কিছু নেই। করার সামর্থ্যও নেই। কোনওদিন শরীরে দিলে প্রতিবন্ধী মেয়েটার মুখে একটু অন্ন তুলে দেন। কোনওদিন মা-মেয়ে এমনিই পড়ে থাকেন হুগলির বৈদ্যবাটির ১৪ নম্বর ব্লকের এই ভিটেতে। আশা একটাই, যদি কোনওদিন ভাগ্য মুখ তুলে চায়! সরকারি কোনও সাহায্য মেলে কিংবা কোনও সহৃদয় মানুষ বা প্রতিষ্ঠান পাশে এসে দাঁড়ায়।
[কেউটের ছোবলেও ভয় নেই! মৃত্যু নিশ্চিত জেনে সাপ হাতে ছবি তুললেন যুবক]
তাঁর এলাকার বিষয় না হলেও এতদিন মা ও মেয়ের দেখভাল করেছেন ৭ নম্বর ব্লকের কাউন্সিলর অমিয় মুখোপাধ্যায়। এই বাড়িটিও তিনিই করে দিয়েছিলেন। তবে যে জায়গায় লীনাদেবী ও তাঁর মেয়ে প্রতিমা থাকেন, সেখানে মানুষের দেখা বিশেষ মেলে না। মাঝেমধ্যেই চোরের উপদ্রব দেখা দেয়। এর জন্য ভুগতে হয় লীনাদেবীকে। একে মানসিক প্রতিবন্ধী কন্যা, তার উপরে নিজের অশক্ত শরীর। এমন পরিস্থিতিতে চুরি আটকানো সম্ভব নয়। তাই ঘরের অনেক জিনিসই চুরি গিয়েছে। বাকি সমস্ত কিছু ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে। গোছানোর শক্তি নেই বৃদ্ধার। এভাবেই কোনওমতে পড়ে থাকা। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড সবই ছিল। সরকারি ভাতাও পেতেন। কিন্তু আশেপাশের কিছু দুষ্কৃতী তা ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে তাঁদের কাছ থেকে সেগুলি উদ্ধারও করেন অমিয়বাবু। যাবতীয় নথি নিজের কাছে রেখে দিয়ে বৃদ্ধা ও তাঁর কন্যার ভাতার দেখরেখ তিনিই করেন। কিন্তু অমিয়বাবুরও বয়স হয়েছে। নব্বইয়ের কোঠায় পৌঁছেছেন তিনি। এই অবস্থায় তাঁর পক্ষেও বেশিদিন নজর রাখা সম্ভব নয়।
[হেরোইনের চড়া দাম, বদলে নেশার জন্য সস্তার ইঞ্জেকশনে মজছে পড়ুয়ারা]
এমন পরিস্থিতিতে বৃদ্ধার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে মহাজীবন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী বৃদ্ধা ও তাঁর মেয়ের দেখাশোনার চেষ্টা চালাচ্ছেন সংস্থার কর্মকর্তা শুভদীপ মুখোপাধ্যায় ও সদস্যা মৈত্রেয়ী বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শংকর দাস ওরফে বাবলুর সঙ্গে কথাও বলেছেন তাঁরা। যদি পূর্তভবনের উদ্যোগে বৃদ্ধা ও তাঁর মেয়ের দেখাশোনার একটা ব্যবস্থা করে যায়। কিংবা তাঁদের যদি অন্য এমন কোনও স্থানে বাসস্থান দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়, যেখানে আশেপাশে লোকজন থাকবে এবং বৃদ্ধা ও তাঁর কন্যার দেখাশোনা করতে পারবে। অমিয়বাবুও এর জন্য কিছু অর্থ সাহায্য করতেও প্রস্তুত। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে অসহায় মা ও মেয়ের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবে কে? কে উদ্যোগ নিয়ে তাঁদের লোকালয়ে একটি বাসস্থান জুটিয়ে দেবে? আর বৃদ্ধার অবর্তমানে মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েটির কোনও দেখভালের ব্যবস্থা করে দেবে?
[উসকানি দিতে পারে বিজেপি, গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি]
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বজয়ের পাঁচ মাসেই পথ হারাল টিম ইন্ডিয়া! আয়ারল্যান্ডের পর ইংল্যান্ডের কাছেও সিরিজ হার শ্রেয়সদের
-
মহারাষ্ট্রে ফের বিরোধী শিবিরে ভাঙন! পওয়ারের ‘অস্থিরচিত্ত’ বিধায়কদের ‘সন্দেহ’ কংগ্রেসের
-
১৬ বছর পর কলকাতা পেল মহিলা ওসি, একসঙ্গে রদবদল ৩৩ ইন্সপেক্টরের
-
খেয়াল রাখতে হবে অভিযোগকারিণীর মানসিক দিকটিও, লালবাজারে বিশেষ প্রশিক্ষণ ১৮৩ মহিলা পুলিশকে
-
ইথানলের মিশ্রণে গাড়ির ক্ষতি না হওয়ার দাবি, গড়করিকে পালটা ‘চ্যালেঞ্জ’ সমাজকর্মীদের