১৫ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  বৃহস্পতিবার ২ ডিসেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

ভিনধর্মে প্রেমের ‘সাজা’, পরিবারের সম্মানরক্ষায় খুন তরুণী

Published by: Tanujit Das |    Posted: September 11, 2018 6:33 pm|    Updated: September 11, 2018 6:33 pm

Honour killing in Burdwan, Bihar couple held

সৌরভ মাজি, বর্ধমান: ভিনধর্মের ছেলের সঙ্গে প্রেম করায় বাবা ও দাদার হাতে খুন বিহারের তরুণী৷ মৃতার নাম জাহানা খাতুন, বয়স উনিশ৷ পূর্ব বর্ধমানের দু’নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে গত মাসের ত্রিশ তারিখ উদ্ধার হয় কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত দেহ৷ হাতে খোদাই করে রাখা মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে কলকাতা তিলজলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার দাদা মহম্মদ জাহিদ এবং বেনিয়াপুকুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার বাবা মহম্মদ মুস্তাক৷ জেরায় দোষ স্বীকার করেছেন দুজনেই৷ সামাজিক সম্মান রক্ষার্থে খুন বলে জানিয়েছে তারা৷ ধৃতদের মঙ্গলবার তোলা হয় আদালতে৷ দু’জনকেই ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়৷ 

[কাটা হাত নিয়ে রাতভর রাস্তামে]য় ঘুরলেন শ্রমিক, অবশেষে ভরতি নার্সিংহো

সূত্রের খবর, মৃতার বাড়ি বিহারের মুজাফ্ফরপুর জেলার চক এলাহাবাদ গ্রামে৷ তবে নাগপুরে এক ভিনধর্মের ছেলের সঙ্গে প্রেম করতেন তিনি৷ বাড়ির অমতেই দীর্ঘদিন ধরে চলে এই প্রেমপর্ব৷ এমনকি নাগপুরে ছেলেটির কাছে পালিয়েও যান তিনি৷ তবে মগজ ধোলাই করে কোনওমতে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসে পরিবারের লোকজন৷ এরপর অন্য একটি ছেলের সঙ্গে তাঁর বিয়ের ব্যবস্থাও করে৷ মেহেন্দিও হয়ে যায়৷ তবে আগের প্রেমের কথা জানাজানি হতেই ভেঙে যায় সেই বিয়ে৷ জানা গিয়েছে, এরপর ওই তরুণীকে কলকাতায় নিয়ে আসে তাঁর বাবা ও দাদা৷ নিয়ে আসার সময় পথেই শ্বাসরোধ করে খুন করে তাঁকে৷ এমনকি মৃত্যু নিশ্চিত করতে মাথায় ভারী পাথর দিয়ে আঘাত করা হয়৷ ফেলে রাখা হয় পূর্ব বর্ধমানের নবগ্রাম ময়না এলাকার দু’নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে৷ এরপর গতমাসের ৩০ তারিখ ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ৷ পাঠানো হয় ময়নাতদন্তে৷

[রোগ লুকিয়ে একাধিক পুরুষের সঙ্গে সঙ্গম মহিলার! এইডস আতঙ্ক বাঁকুড়ায়]

ময়না তদন্তের রিপোর্টই পুলিশের কাছে খুলে দেয় তদন্তের নয়া দিশা৷ কিশোরীর দেহ থেকে একটি ফোন নম্বর পান তদন্তকারীরা৷ তাঁর পায়ে ওটা খোদাই করা ছিল বলে জানা গিয়েছে৷ এরপর সেই ফোন নম্বরের সূত্র ধরেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে পুলিশ৷ জানা যায়, ফোন নম্বরটি নাগপুরের এক যুবকের৷ সেই যুবকের থেকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান তদন্তকারীরা৷ জানতে পারেন সমস্ত বিষয়টি৷ তারপরেই তরুণীর বাবা ও দাদার উপর সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের৷ কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্ধমান পুলিশ৷ এরপরেই তদন্তের স্বার্থে কলকাতার তিলজলা এলাকা থেকে প্রথমে আটক করা হয় মৃতার দাদা মহম্মদ জাহিদকে৷ জিজ্ঞাসাবাদের সময় দোষ কবুল করে সে৷ তারপরেই বেনিয়াপুকুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার মৃতার বাবা মহম্মদ মুস্তাককে৷ আজ, মঙ্গলবার ধৃতদের তোলা হয় আদালতে৷ দু’জনকেই ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত৷ অনুমান, প্রাণনাশের আশঙ্কাতেই শরীরে প্রেমিকের ফোন নম্বর খোদাই করেন ওই তরুণী৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে