নব্যেন্দু হাজরা: স্কুল হোক বা বাড়ি, বাস হোক বা স্কুলবাস, কারও ছোঁয়ায় কোনও অশালীনতা আছে কি-না তা বুঝবে শিশু নিজেই। কোনটা ‘গুড টাচ’ আর কোনটা ‘ব্যাড টাচ’ তা বোঝাতে সমস্ত প্রাথমিক স্কুলেই এবার নয়া শিক্ষা শিশুদের। হুগলি জেলার সমস্ত স্কুলে যা শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন। কর্মসূচির নাম ‘ভরসা’।
এতদিন কোনও কোনও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ‘টাচের’ ভাল-মন্দ বোঝানো হলেও তা সরকারি স্কুলে হত না। কিন্তু শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এই শিক্ষা ইতিমধ্যেই চালু করেছে হুগলি জেলা প্রশাসন। শুধু স্কুলেই নয়, যেখানে শিশুদের উপস্থিতি বেশি, মানে কোনও মেলা, সার্কাস, বা কোনও সেমিনারে ভিডিও-র মাধ্যমে স্পর্শের ভাল-মন্দ বোঝানো হচ্ছে। নাবালিকাদের ভরসা জোগাতেই এই উদ্যোগ বলে জেলা প্রশাসনসূত্রে খবর। জিডি বিড়লা এবং কারমেল স্কুলে দুই নাবালিকা ছাত্রীকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। প্রশ্ন উঠেছিল স্কুলে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে। এমনকী, কিছু ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পুরুষ শিক্ষাকর্মী রাখার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু তাতেও বহুক্ষেত্রেই নানা জায়গায় শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
[এবার ট্যাক্সির ‘বেয়াদপি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারবেন হোয়াটসঅ্যাপে]
প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, শিশুরা বুঝতেই পারে না কে তাকে কোন উদ্দেশ্যে স্পর্শ করছে। বাসে, বাড়িতে নানা সময়ে তাই তাঁরা দিনের পর দিন যৌন হেনস্তার শিকার হয়। বাড়িতে সেকথা বলতেও ভয় পায় তারা। তা দূর করতেই এই উদ্যোগ। জেলা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, প্রথমে শিক্ষককদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। একাধিকবার বিভিন্ন স্কুলে কর্মশালা করা হয় শিক্ষকদের নিয়ে। যাতে তাঁরা ছোট ছোট শিশুদের ভালভাবে বোঝাতে পারেন বাজে স্পর্শ কোনটা। তাছাড়া স্কুলে কোনও শিশুকে কেউ খারাপভাবে স্পর্শ করছে কি না তা দেখেই বুঝতে পারেন। ভিডিওর মাধ্যমে এবং প্রতি শিশুকে আলাদা আলাদা করে ডেকে পুরো বিষয়টা বোঝানো হয়। তাঁদের বলা হয়, কোনও স্পর্শে অস্বস্তি হলেই তা যেন মা-বাবাকে জানায়। কাউকে ভয় না পায়। ডাকা হয় অভিভাবকদেরও। তাঁদেরও বাচ্চাদের প্রতি আরও দৃষ্টি দিতে বলা হয়। কারণ এই ধরনের যৌন নিগ্রহ শিশুর স্কুলে যাতায়াতের পথে, বাড়িতে, বা অন্য কোথাও যখন তখন হতে পারে।
কোনটা গুড আর কোনটা ব্যাড টাচ? বোঝার বয়স না হতেই সেই টাচের শিকার হতে হয় অনেক শিশুকে। এক আধদিন নয়! কারও কারও ক্ষেত্রে দিনের পর দিন। কারণ ব্যাড টাচের ধরন বুঝতেই কোনও নাবালিকার পেরিয়ে যায় অনেকটা সময়। তাই একেবারে প্রাথমিক স্কুলেই এই শিক্ষা শুরু এই জেলায়। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকেই এই শিক্ষা দিচ্ছি। শিশুদের ভরসা দিতেই এই উদ্যোগ বলেই পরিকল্পনার নাম রাখা হয়েছে ‘ভরসা’।
[অ্যালকেমিস্টের আমানতকারীদের টাকা ফেরতের নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের]
সর্বশেষ খবর
-
কম সুদে চটজলদি লোন পাইয়ে দেওয়ার ছক! বড়সড় প্রতারণাচক্রের পর্দাফাঁস লালবাজারের
-
‘একতরফা পদক্ষেপ নয়’, সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্কে আমেরিকাকে আলোচনায় বসার বার্তা ভারতের
-
অবিশ্বাস্য লড়াইয়েও শেষরক্ষা হল না মুচোভার, ‘চেক-মেটে’ উইম্বলডনের নতুন রানি নোসকোভা
-
বীরগাথা থেকে দেশভাগের যন্ত্রণা, বাংলায় পার্টিশন মিউজিয়াম বানানোর প্রস্তাব গোপাল পাঁঠার পরিবারের
-
প্রথমে দু’হাজার, তারপর দৈনিক ৩ লক্ষ টাকা! রামমন্দিরে চুরির তদন্তে স্বীকারোক্তি অভিযুক্তের