সৌরভ মাজি, বর্ধমান: বাপের বাড়িতে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী গৃহবধূ। মৃতের নাম সালমা বিবি (২৬)। পণের দাবি ও সন্তান না হওয়ার গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন ওই গৃহবধূ। এমনটাই দাবি বাপের বাড়ির তরফের। গোটা ঘটনায় শ্বশুরবাড়ির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে মৃতের পরিবার। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে মৃতের স্বামী কিতাবুল শেখের পরিবার। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কালনা থানার নান্দাইয়ের নতুনগ্রামে।
[ডাইনি অপবাদে মারধর দুই বৃদ্ধাকে, গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন হাসপাতালে]
বাপের বাড়ির তরফে জানা গিয়েছে, পেশায় স্কুল শিক্ষক আলি হোসেন শেখের বাড়ি নতুন গ্রামে। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। সেই মেয়েই সালমা বিবি। বছর ছয়েক আগে মন্তেশ্বর থানার সোনাগাছি গ্রামের কিতাবুল শেখের সঙ্গে সালমার বিয়ে হয়। কালনার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মী কিতাবুল বিয়ের সময় মোটা বরপণের দাবি করেছিল। তার সবটাই মিটিয়ে দেয় সালমা বিবির পরিবার। তাতেও আশ মেটেনি কিতাবুলের। অভিযোগ, প্রায় দিন আরও টাকা আনার দাবি করে স্ত্রীর উপরে শুরু হয় অত্যাচার। এদিকে বিয়ের বয়সও ততদিনে বেড়েছে। কোল আলো করে কোনও সন্তান আসেনি সালমা বিবির। তাতে শ্বশুর বাড়ির লোকের রাগ আগুনে পরিণত হয়। মারধরের সঙ্গে সঙ্গে চলে মানসিক গঞ্জনা। সন্তান না হওয়ার নিত্য খোঁটায় জেরবার সালমা বিবি। স্বামী কিতাবুলের থেকেও ধিক্কার ছাড়া কিছুই পাননি। এরমধ্যেই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ায় কিতাবুল। সেই খবরও আসে সালমা বিবির কাছে। তানিয়ে কথা বলতে গেলেই তাঁকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দাদা গালিফ শেখ বেশ কয়েকবার বোনের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছেন। তবে তাতে কোনও ফল হয়নি। দিন যত গড়িয়েছে, সালমা বিবি ততই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন। ফের বোনকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন দাদা। তবে শ্বশুরবাড়ির দিকের কারওরই গরজ দেখা যায়নি। গত বৃহস্পতিবার স্বামী কিতাবুল শেখ সালমা বিবিকে ফোন করে। তারপর থেকেই চুপচাপ হয়ে যান ওই গৃহবধূ। খাওয়াদাওয়াও বন্ধ করে দেন প্রায়। শনিবার সকালে সকলের অলক্ষে কেরোসিন নিয়ে নিজের ঘরে ঢুকে যান তিনি। একটু পড়েই দরজা আটকে গায়ে আগুন দেন। পোড়া গন্ধ পেয়ে বাড়ির অন্যরা দরজা ভেঙে অগ্নিদগ্ধ সালমা বিবিকে বের করেন। তড়িঘড়ি কালনা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়। তবে কলকাতা নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় ওই গৃহবধূর।
[বিলাসবহুল বিদেশি গাড়িতে বেপরোয়া গতি, দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর]
এরপরেই কালনা থানায় অভিযোগ দায়ের করে মৃতের পরিবার। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। এমনকী, সালমা বিবির বাপের বাড়ির তরফে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে কিতাবুলের পরিবার।
ছবি: মোহন সাহা
সর্বশেষ খবর
-
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, উইকএন্ডে দিঘায় সমুদ্রস্নানে না প্রশাসনের, চলছে মাইকিং
-
বিশ্বকাপে আফ্রিকার লক্ষ্মীলাভ, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা পেল দেশ, প্রাপ্য মূল্য পাবেন ভোজিনহা-সালাহরা?
-
আর জি কর কাণ্ডে ভিসেরা নমুনা ও রিপোর্ট বিকৃত! সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ শিয়ালদহ আদালতের
-
মমতা জমানায় পড়ুয়াদের জামায় ‘রাজনীতির রং’, স্কুল ইউনিফর্ম নিয়ে ডিআইদের সমীক্ষার নির্দেশ
-
ভিয়েতনামে ডুবল ভারতীয় পর্যটক বোঝাই নৌকা, মৃত অন্তত ১৫, জারি হেল্পলাইন নম্বর