Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৫ অক্টোবর ২০২৬
Purulia

অগ্নাশয় ক্যানসারে বাবাকে হারিয়েছিলেন, জটিল অপারেশনে রোগীর প্রাণ বাঁচিয়ে ‘হিরো’ সেই চিকিৎসক

পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো মেডিক্যালে ৯ ঘন্টার বেশি সময় ধরে অপারেশন নতুন রেকর্ড।

সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১৫:১৬

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১৫:১৬

options
link
অগ্নাশয় ক্যানসারে বাবাকে হারিয়েছিলেন, জটিল অপারেশনে রোগীর প্রাণ বাঁচিয়ে ‘হিরো’ সেই চিকিৎসক zoom
অগ্নাশয়ে ক্যানসার আক্রান্তের ৯ ঘণ্টা ধরে অপারেশন, পুরুলিয়ায় রোগীর প্রাণ বাঁচালেন চিকিৎসক পবন মণ্ডল, নিজস্ব ছবি
Advertisement

অগ্নাশয়ের ক্যানসারে প্রাণ গিয়েছিল বাবার। তখন তিনি কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়া। অর্থের অভাবে বাবার চিকিৎসা করাতে পারেননি। চোখের সামনে তাঁকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেন। কিন্তু সেই আর জি করের পড়ুয়াই আজ অগ্নাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর ৯ ঘন্টা ৩ মিনিট ধরে জটিল অস্ত্রোপচার করে প্রাণ বাঁচিয়ে দিলেন। দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক তথা ওই হাসপাতালের ক্যানসার বিভাগের নোডাল অফিসার পবন মণ্ডল এখন ‘হিরো’।

ক্যানসার আক্রান্ত ওই রোগীর সমগ্র অগ্নাশয়ের দুই তৃতীয়াংশ কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ দিতে হয়েছে পাকস্থলীর বেশ কিছুটা অংশও। রোগীর শরীর থেকে পিত্তথলি, পিত্তনালি ও লসিকা গ্রন্থিও বাদ গিয়েছে। যেভাবে ওই গ্রন্থিগুলি বাদ দিতে হয়েছে, তেমনই পাকস্থলী পিত্তনালির সঙ্গে ফের সেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যে অংশ বাদ দিতে হয়েছে, তা জোড়াও দিতে হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘হুইপলস অপারেশন’। যা বেশ জটিল।

দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ৯ ঘন্টার বেশি সময় ধরে অস্ত্রোপচার করার কোনও রেকর্ড ছিল না। সেই কাজটাই করে দেখিয়েছে মেডিক্যাল ইউনিট টু। ওই টিমে সার্জেন পবন মণ্ডল ছাড়াও ছিলেন সোমনাথ বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম, অর্চনা মিনা, গৌরব মিত্র, মেঘা তামাংরা। ক্যানসার আক্রান্ত ওই রোগীর সমগ্র অগ্নাশয়ের দুই তৃতীয়াংশ কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ দিতে হয়েছে পাকস্থলীর বেশ কিছুটা অংশও। রোগীর শরীর থেকে পিত্তথলি, পিত্তনালি ও লসিকা গ্রন্থিও বাদ গিয়েছে। যেভাবে ওই গ্রন্থিগুলি বাদ দিতে হয়েছে, তেমনই পাকস্থলী পিত্তনালির সঙ্গে ফের সেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যে অংশ বাদ দিতে হয়েছে, তা জোড়াও দিতে হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘হুইপলস অপারেশন’। যা বেশ জটিল।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অস্ত্রোপচার।
নিজস্ব চিত্র

পুরুলিয়ার ঝালদা ১ ব্লকের বুরুডি গ্রামের ৫৮ বছরের ওই রোগী বিরাজ কুমারকে জটিল অস্ত্রোপচারে শুধু সুস্থ করে দেওয়াই নয়। ওই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে ৭০ কিমি দূরে তার বাড়িতে পৌঁছেও দিয়েছেন ওই শল্য চিকিৎসক পবন মণ্ডল। রীতিমতো গাড়ি ভাড়া করে রোগীকে নিয়ে নিজে তিনি ছেড়ে দিয়ে আসেন। দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিন্টেনডেন্ট কাম ভাইস প্রিন্সিপাল সুকোমল বিষয়ী বলেন, ‘‘শল্য বিভাগের সবচেয়ে বড় জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছে। রীতিমতো টিম তৈরি করে এই সাফল্য মিলেছে। ওই টিমকে অভিনন্দন।”

প্রান্তিক কৃষক পরিবারের সদস্য বিরাজ কুমার। অসুস্থ হওয়ার পর ঝাড়খণ্ডের রাঁচির একটি হাসপাতালে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে জানতে পারেন অগ্নাশয়ে টিউমারের কথা। জানতে পারেন যে অস্ত্রোপচার করতে হবে। কিন্তু ওই হাসপাতালে তা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসার খরচ প্রায় সাত-আট লক্ষ টাকা। সামান্য গ্যারেজে কাজ করে এই টাকা জোগাড় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই বাঘমুন্ডির প্রাক্তন বিধায়ক নেপাল মাহাতোর দ্বারস্থ হন তিনি। প্রাক্তন বিধায়ক সঙ্গে সঙ্গে দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে শল্য চিকিৎসক পবন মণ্ডলের কাছে পাঠান। ততদিনে শুধু যন্ত্রণা-ব্যথা নয়। তার সঙ্গে বমিও শুরু হয়ে গিয়েছে। অগ্নাশয়ের টিউমার ততদিনে ক্যানসারে পরিণত হয়েছে।

রোগীকে সুস্থ করে ভাড়া গাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিলেন পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যানসার বিভাগের নোডাল অফিসার তথা চিকিৎসক পবন মণ্ডল, নিজস্ব ছবি

গত ১৮ আগস্ট ওই বিরাজ কুমার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর একটি টিম তৈরি করে ওই অস্ত্রোপচার করেন তারা। অস্ত্রোপচারের পরে টানা তিন সপ্তাহ প্রতিদিন রোগীকে নজরে রাখেন চিকিৎসকরা। ডাক্তারবাবু পবন মণ্ডলের কথায়, ‘‘অগ্নাশয় ক্যানসারে বাবার প্রাণ চলে গিয়েছিল। এই ধরনের রোগী সামনে এলেই মনটা কেমন যেন হয়ে যায়। যাই হোক ওই রোগীকে আমরা সুস্থ করে বাড়িতে দিয়ে এসেছি।” বাড়িতে দেওয়ার সময় ওই পরিবার এদিন চিকিৎসক পবন মণ্ডলকে অনুরোধ করেন তাদের সঙ্গে দুপুরের খাবারটুকু খেয়ে যেতে। চিকিৎসক ওই পরিবারের সঙ্গে আহারে অংশ নেওয়ায় ওই পরিবার ভীষণই খুশি। রোগীর ছেলে জয়ন্ত বলেন, ‘‘অনেক জায়গায় শুনেছি ওই চিকিৎসক দরিদ্র মানুষের ভগবান। আমরা তার প্রমাণ পেলাম।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.