BREAKING NEWS

১২ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৯  শুক্রবার ২৭ মে ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

মহাপ্রভুর লীলাক্ষেত্রে অসংখ্য দেবালয়, ভক্তিভাবে ভরপুর দেনুড়

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: December 18, 2017 2:29 pm|    Updated: September 18, 2019 5:29 pm

In this village, you will find myth and temple of God

সৌরভ মাজি, বর্ধমান: কেশব ভারতী, বৃন্দাবন দাস কিংবা শ্রীচৈতন্যদেব৷ এইসব নাম শুধু বৈষ্ণব সম্প্রদায় নয়, বহু সাধারণ মানুষের হৃদয়ের কাছের। আর এই যুগপুরুষদের  নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার দেনুড় গ্রাম৷ আজ টোটোয় রইল এই গ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বর্তমান নিয়ে নানা কথা।

[মাছের সঙ্গেই দিন-রাত, পর্যটনের অন্য স্বাদ ফিশ ট্যুরিজমে]

বৈষ্ণবতীর্থের অন্যতম ক্ষেত্র এই জনপদ৷ শুধু বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্র বললে কিছুটা ভুল বলা হবে, এখানকার বিভিন্ন মন্দির, মন্দিরগাত্রের টেরাকোটার শিল্পনৈপুণ্যও অন্যতম আকর্ষণ৷ একদিনের ভ্রমণের ক্ষেত্রে খুব ভাল জায়গা৷ ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক বিষয়ে যাঁদের টান রয়েছে তাঁদের এই গ্রাম আগ্রহ বাড়াবে৷

দেনুড়.jpg 4

[মাঝ ডিসেম্বরে শীত শীত ভাব, এই ফাঁকে চুপিসারে চলুন ‘চুপি’]

দেনুড় কথা

বহুকাল আগের কথা৷ জনশ্রুতি অনুযায়ী, আনুমানিক ১৫২২ খ্রিষ্টাব্দে নিত্যানন্দ মহাপ্রভু সপার্ষদ নীলাচলে উদ্দেশে রওনা হন৷ তাঁর সঙ্গে ছিলেন বৃন্দাবন দাসও৷ পথে দেনুড় গ্রামে একটি আমবাগানে হাজির হন তাঁরা৷ গ্রামের ‘ধরা পুকুর’-এর পাড়ে আমবাগানে হাজির হন দুজন৷ সেখানে স্নানাহার সেরে মুখে দেওয়ার জন্য নিত্যানন্দ না কি বৃন্দাবন দাসের থেকে হরিতকি চান৷ বৃন্দাবন আগের দিনে সঙ্গে থাকা হরিতকি দেন মহাপ্রভুকে৷ তাতেই নাকি নিমাই ক্ষুণ্ণ হন৷ সঞ্চয় প্রবৃত্তির জন্য নিত্যানন্দ বৃন্দাবন দাসকে আর তিনি সঙ্গে নেননি৷ তাঁকে নির্দেশ দেন এই গ্রামে বসবাস করে মহাপ্রভুর সেবা করতে৷ বৃন্দাবন দাস শ্রীপাট খোলেন গ্রামে৷ সেখানে বসেই বৃন্দাবন দাস রচনা করেন চৈতন্য ভাগবৎ৷ যাকে অনেকে শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জীবনীগ্রন্থ বলে মনে করেন৷ বৃন্দাবন দাসের শ্রীপাট এখনও রয়েছে গ্রামে৷ এছাড়া শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর সন্ন্যাস গুরু কেশব ভারতীর মন্দিরও রয়েছে ছবির মতো সাজানো এই জনপদে।

দেনুড়.jpg2

চৈতন্যলীলা

কেউ কেউ মনে করেন, নিত্যানন্দর প্রিয় শিষ্য তাঁর সঙ্গে নীলাচল গেলে চৈতন্য ভাগবৎ রচনা সম্ভব হত না৷ এই কারণে হয়তো নিত্যানন্দ ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন৷ বৃন্দাবন দাস রচিত চৈতন্য ভাগবতকে বাংলা সাহিত্যের সম্পদ মনে করা হয়৷ বৃন্দাবন দাসের শ্রীপাটে এই গ্রামেই আজও চৈতন্য ভাগবতের পুঁথি রক্ষিত আছে বলে সেখানকার বর্তমান সেবাইতরা জানিয়েছেন৷ এছাড়া এই শ্রীপাটে গদাধর পণ্ডিতের সংকলিত ভগবতের দশম স্কন্দর একটি পুঁথিও রয়েছে৷ যা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ৷ এই গ্রামেই রয়েছে দেন্দুরেশ্বর বা দীনেশ্বর শিব মন্দির ও ভোলানাথ শিবমন্দির৷ দীনেশ্বর শিবের মন্দিরটিতে আটচালা রীতির ছাপ মেলে। মন্দিরগাত্রে এক সময় টেরাকোটার কাজ ছিল৷ পুরাকীর্তির অন্যতম নিদর্শন ছিল এই মন্দির৷ কিন্তু অবহেলার কারণে তার অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গিয়েছে৷ নতুন করে মন্দির সংস্কারের পর টেরাকোটার কাজও প্রায় নিশ্চিহ্ন৷ গ্রামে রয়েছে দেবী বিক্রমচণ্ডীর মন্দির৷ এই মন্দিরের আকর্ষণ কালো পাথরের প্রাচীন দেবীমূর্তি৷ এই গ্রামে থাকা ভোলানাথ মন্দির নিয়েও রয়েছে নানা মিথ৷ গ্রামবাসীরা জানান ভোলানাথ বছরের ১১ মাস পুকুরে নিমজ্জিত থাকেন৷ এছাড়া টেরাকোটা সমৃদ্ধ পঞ্চরত্ন নারায়ণ মন্দিরও রয়েছে গ্রামে৷ যার টানে বহু মানুষই আসেন এই গ্রামে৷

[সমুদ্রপাড়ে তাঁবুতে রাত্রিবাস, এমন দিঘা কখনও দেখেছেন?]

কীভাবে যাবেন?

হাওড়া-বর্ধমান মেন লাইনে মেমারি স্টেশন নেমে মন্তেশ্বর বা বামুনপাড়ার বাসে যাওয়া যাবে দেনুড়৷ এছাড়া বর্ধমান থেকেও বাসে দেনুড় যাওয়া যায়৷

ছবি: মোহন সাহা

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে