Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Poila Baisakh

যুদ্ধ আঁচে পয়লা বৈশাখও! জ্বালানি ‘কাঁটা’য় হালখাতার মিষ্টির বরাত নিচ্ছেন না বিক্রেতারা

'পয়লা বৈশাখ, হালখাতা হয়তো এবার মিষ্টি ছাড়াই পালন করতে হবে', বলছেন হুগলির বিখ্যাত মিষ্টি প্রস্তুতকারী সংস্থার কর্ণধার।

Advertisement
সুমন করাতি
সুমন করাতি

শেষ আপডেট: মার্চ ১১, ২০২৬, ২০:৩৭

link
সুমন করাতি
সুমন করাতি

শেষ আপডেট: মার্চ ১১, ২০২৬, ২০:৩৭

options
link
যুদ্ধ আঁচে পয়লা বৈশাখও! জ্বালানি ‘কাঁটা’য় হালখাতার মিষ্টির বরাত নিচ্ছেন না বিক্রেতারা zoom
যুদ্ধের আঁচ পয়লা বৈশাখেও! জ্বালানি সংকটে হালখাতার মিষ্টির বরাত নিতে নারাজ দোকানিরা।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচে পুড়ছে জ্বালানি জগৎ। তেল থেকে শুরু করে তরল গ্যাসের ভাণ্ডারে টান পড়ছে। এই সংকট আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তেল সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। পরিস্থিতি এমনই যে বাড়তি টাকা দিয়েও সময়মতো মিলছে না সিলিন্ডার। ফাঁপড়ে পড়েছেন মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা। এই অবস্থায় যুদ্ধের ছায়া পড়তে চলেছে পয়লা বৈশাখেও! এমনই আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। ওইদিন হালখাতা হয় বিভিন্ন দোকানে। বাংলা বছরের প্রথম দিনটি ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করিয়ে শুরু করেন দোকানিরা। এটাই রীতি। এর জন্য অনেক আগে থেকে মিষ্টির বরাত দিতে হয়। কিন্তু এবছর গ্যাসের জোগান অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় পয়লা বৈশাখের জন্য মিষ্টির বরাত নিতে পিছপা হচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ এমনও আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবারের বাংলা নববর্ষে হয়তো মিষ্টি ছাড়াই হালখাতা সারতে হবে।

বাংলা বছরের প্রথম দিনটি ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করিয়ে শুরু করেন দোকানিরা। এটাই রীতি। এর জন্য অনেক আগে থেকে মিষ্টির বরাত দিতে হয়। কিন্তু এবছর গ্যাসের জোগান অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় পয়লা বৈশাখের জন্য মিষ্টির বরাত নিতে পিছপা হচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ এমনও আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবারের বাংলা নববর্ষে হয়তো মিষ্টি ছাড়াই হালখাতা সারতে হবে।

মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, চলতি মাসের গোড়ায় ডিলারদের পক্ষ জানানো হয়, বাড়ির রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সরবরাহ করা হবে। তারপরে দোকানদারদের কমার্শিয়াল গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কমার্শিয়াল গ্যাসের যা চাহিদা থাকে, তার মাত্র ৪০ শতাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কোনও কোনও ডিলার কমার্শিয়াল গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন। ভয়ে দোকানদারদের ফোন পর্যন্ত তাঁরা ধরছেন না। আর এই পরিস্থিতিতেই পয়লা বৈশাখের আগে মিষ্টি ব্যবসায়ীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কারণ, গ্যাস ছাড়া মিষ্টির দোকান এখন অচল। বড় বড় মিষ্টি দোকানে কাঠের উনুন অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক না হলে মিষ্টি দোকান চালানো মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে।

Advertisement

হুগলির রিষড়ার প্রখ্যাত মিষ্টি প্রস্তুতকারক সংস্থার কর্ণধার অমিতাভ দে বলেন, ”বাণিজ্যিক গ্যাসের পরিষেবা থমকে যাওয়ায় মিষ্টান্ন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখাটাই এখন আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আমরা মিষ্টির অর্ডার নিতে পারছি না। পয়লা বৈশাখ ও হালখাতা হয়তো এবার মিষ্টি ছাড়াই পালন করতে হবে।”

বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার অমিল হতেই মিষ্টির দোকানে সকালের টিফিনের কচুরি, সিঙাড়া, গজার মতো নোনতা মুখরোচক খাবার তৈরি বন্ধ করে দিয়েছে উত্তরপাড়ার নামী মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠান। ওই মিষ্টান্ন সংস্থার কর্ণধার পলেশু মান্নার কথায়, ”মিষ্টি ব্যবসার লাইফ লাইন হলো গ্যাস। কিন্তু গ্যাসের সিলিন্ডার না মেলায় নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। নোনতা খাবার তৈরিও বন্ধ করেছি। জানি না পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে। বিকল্প হিসেবে ডিজেল কিংবা কয়লার উনুন তৈরির কথাও ভাবছি।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.