ব্রতীন দাস,শিলিগুড়ি: দাঁতে দাঁত চেপে পনেরো বছর ধরে একাই লড়াই করছেন। ঝড় বৃষ্টির ভয়ংকর দুর্যোগের রাত কিংবা জঙ্গল পথে বুনো জন্তুর ভয়, কিছুই তাঁর সেই লড়াইকে থামাতে পারেনি। তাঁর বাইক অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা গোটা দেশে নজির হয়ে উঠেছে। আর এরই স্বীকৃতি হিসাবে তাঁর হাতে উঠেছে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান। কিন্তু ওই সম্মান পেয়ে খ্যাতির গোলকধাঁধায় হারিয়ে না গিয়ে ফের এক নতুন লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন করিমুল হক। চাঁদা তুলে নিজের বাড়িতে অনাথ আশ্রম ও হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগ নিলেন ডুয়ার্সের রাজাডাঙার সুবর্ণপুর চা বাগানের শ্রমিক।
[মার্কিন নেভি সিলসের কায়দায় দুজানাকে খতমের ছক কষে যৌথবাহিনী]
কাজটা যে মোটেই সহজ নয়, জানেন তিনি। কিন্তু ভয় পেতে নারাজ করিমুল। বললেন, “পনেরো বছর ধরে নিজের বাইকটাকে অ্যাম্বুল্যান্স বানিয়ে গ্রামের মুমূর্ষুদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছি। কখনও রোগী নিয়ে নদীর হাঁটুজল পেরিয়ে ওপারে গিয়েছি। আবার কখনও রাতের অন্ধকারে জঙ্গলপথে বুনো হাতি, চিতাবাঘের সামনে পড়েছি। তাতেও যখন দমে যাইনি, এই লড়াইয়েও জিতব।” ঘরে ঠিকমতো হাঁড়ি না চড়লেও নিজের শপথ রক্ষায় আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই বছর পঞ্চাশের মানুষটির। ইতিমধ্যে লাখ দু’য়েক টাকা চাঁদা উঠেছে। আরও অনেকেই সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। চাঁদার টাকায় বাড়ির একফালি উঠোনে অনাথ আশ্রম ও হাসপাতালের ভিত উঠেছে। মাথা তুলছে পিলার। গ্রামের কোনও মানুষটা কেমন আছে, কারও কোনও বিপদ হল কি না সেসব খোঁজ রাখা, প্রয়োজনে ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স’ ছুটিয়ে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এসব তো আছেই। এখন নতুন স্বপ্নকে তিলে তিলে বাস্তবের রূপ দিতে দিন রাত এক করে ছুটতে হচ্ছে। বলেন, “পদ্মশ্রী সম্মান আমাকে অনেক পরিচিতি দিয়েছে। অনেক বড় বড় মানুষ ফোন করেন। কত লোক বাড়িতে আসেন। আমি তাঁদের আমার ভাঙা কাঠের বাড়িতে বসতে দিতেও পারি না। একটা লড়াই জিতেছি। এবার নতুন লড়াই। জিততেই হবে।”
[ছেলেকে খাটের সঙ্গে বেঁধে কুপিয়ে খুন মা-মেয়েকে]
করিমুলের বাড়িতে পা রাখলে দেখা যায়, বাড়ির উঠোনে ভাত রান্না করছেন তাঁর স্ত্রী আনজুরা। পাশে কোদাল দিয়ে তাঁর স্বপ্নের অনাথ আশ্রম আর হাসপাতালের ভিতে মাটি ভরছেন করিমুল। পাশে ঘরের দাওয়ায় কয়েকটা প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়ে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে। জিজ্ঞেস করার আগেই ‘পদ্মশ্রী’ প্রাপক বলেন, “এবার লড়াইটা এদের জন্যই। একে প্রতিবন্ধী। তার উপর অনাথ। কারও বাবা—মা নেই। কারও আবার থেকেও না থাকার মতো। এরকম পনেরো জন আছে। ওদের ভার নিতে চাই।” আর হাসপাতাল? আনন্দে চিকচিক করে ওঠে চোখমুখ। বলেন, “আমার বাড়ির উঠোনে এই হাসপাতালে শহর থেকে নামী ডাক্তারবাবুরা আসবেন। গ্রামের মানুষ বিনা পয়সায় সুস্থ হয়ে নতুন জীবন লাভ করবেন। এই স্বপ্নটাই তো বুকে নিয়ে বেড়াচ্ছি।” কেমন হবে সেই স্বপ্নের ভোর? সব চা বাগানে বেজে উঠবে সাইরেন। একটিও বন্ধ থাকবে না। খুশিতে মাতবে শ্রমিক মহল্লা। সবার হাতে কাজ আর সবার পেটে ভাত।
[তৎকাল টিকিট কেটে বেড়াতে যাচ্ছেন, এই বিষয়টি জানা আছে তো?]
সর্বশেষ খবর
-
‘দাবির প্রশ্ন নেই, তৃণমূল আমরাই’, জ্ঞানেশের কাছে সওয়াল ঋতব্রতদের, দলের তহবিল হারাবেন মমতা?
-
পদ নেই, তবু দল নির্বাচনী বৈঠকে হাজির মদন! সিএবির প্রাক্তন যুগ্মসচিবকে ঘিরে জোর বিতর্ক
-
জনরোষে তৃণমূল নেতারা, পাথরপ্রতিমায় জুতোপেটা, গণধোলাই! বারাসতে পা ধরে চাইলেন ক্ষমা
-
অস্বস্তিতে কালীঘাট তৃণমূল! ফ্রিজই থাকছে অ্যাকাউন্ট, ব্যাঙ্ক-পুলিশের কাছে রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের
-
‘ডিম থেরাপি’র শিকার মহুয়া, ‘রাজনৈতিক শত্রু’র পাশে বিকাশরঞ্জন, সমর্থন অখিলেশেরও