Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ আষাঢ় ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৬ জুলাই ২০২৬

১৪ ঘণ্টা লুকিয়েও হল না লাভ, জুতোর লোভে ধরা পড়ল চোর 

শখের জুতোর মায়াই কাল হল।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০১৮, ১৯:৩৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০১৮, ১৯:৩৭

options
link
১৪ ঘণ্টা লুকিয়েও হল না লাভ, জুতোর লোভে ধরা পড়ল চোর  zoom

ধীমান রায়, কাটোয়া: গিয়েছিল চুরি করতে। ফেঁসে গিয়েও হাল ছাড়েনি। পাকা ১৪ ঘণ্টা কঠিন ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিয়ে গিয়েছিল সে। ধৈর্য্যের গুণে উদ্ধারও হয়েছিল কাজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জুতোর মায়াতেই ধরা পড়ে যেতে হল শ্রীমান চোরকে। অবশেষে ভাতারের আলিনগর মোড়ে পরপর পাঁচ দোকানে চুরির কিনারা করে ফেললেন স্থানীয়রাই। মঙ্গলবার রাতে ওই চোরবাবাজিকে হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন তাঁরা। তবে ধরা পড়লেও গণধোলাই থেকে রেয়াত করা হল তাকে। কারণ চুরিতে অভিজ্ঞ হলেও বয়সে সে নাবালক।

সোমবার রাতে ভাতারের আলিনগর বাসস্ট্যান্ডের কাছে পরপর পাঁচটি দোকানে চুরি হয়। কোনও দোকানে চাল ফুটো করে, কারও দোকানের দেওয়ালে সিঁদ কেটে, কারও দরজার তালা ভেঙে চুরি হয়। সকালে ব্যবসায়ীরা দোকান খুলতে গিয়ে চুরির ঘটনা জানতে পারেন। খেয়াল করেন কাঠের আসবাবপত্রের ব্যবসায়ী ঝন্টু শেখের দোকানের পিছন দিকে একটি নিমগাছের তলায় একজোড়া জুতো পড়ে রয়েছে। এলাকাবাসী তখনই বুঝতে পারেন চোর জুতো খুলে নিমগাছ ধরে ঝন্টু শেখের দোকানের চাল ফুটো করে ঢুকেছিল। জুতোজোড়া সেখানেই পড়েছিল। পুলিশি তদন্তের খাতিরেও কেউ সরাননি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[কুল পাড়ার ‘অপরাধে’ অন্তঃসত্ত্বা মা ও শিশুকে বেধড়ক মার]

ঘটনার পর মঙ্গলবার সারাদিন কেটে যায়। বিকেল নাগাদ পুলিশ আলিনগরে যায়। তদন্ত করে চলেও আসে। সন্ধ্যা নাগাদ আলিনগরে জাকির শেখের দোকানে চা খেতে যায় ১৪ বছরের এক কিশোর। জাকির চা-বিস্কুট বাড়িয়ে দিতে গিয়ে খেয়াল করেন ওই ছেলেটির পায়ে রয়েছে গাছতলায় পড়ে থাকা সেই জুতোটি। জুতোর কথা জিজ্ঞাসা করতেই পালানোর চেষ্টা করে কিশোরটি। কিন্তু ধরা পড়ে যায়। তখনই পুরো ঘটনা খুলে বলে ছেলেটি।

সাবিরউদ্দিন শেখ (নাম পরিবর্তিত) নামে ওই চোর জানায় ভাতারের সন্তোষপুর গ্রামে মামাবাড়িতে থাকে সে। বাড়ি ছিল কাটোয়ার আউরেডাঙ্গা গ্রামে। বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ির পর  মা তাকে সঙ্গে করে মামাবাড়ি চলে আসেন। স্কুলে কোনও দিনই যায়নি। সোমবার রাতে একাই সবক’টি দোকানে সে চুরি করেছিল। আর সব দোকানেরই ক্যাশবাক্স টার্গেট ছিল। কিন্তু মেরেকেটে মাত্র হাজার ছয়েক টাকা সে চুরি করতে পেরেছিল।

[কুল পাড়ার ‘অপরাধে’ অন্তঃসত্ত্বা মা ও শিশুকে বেধড়ক মার]

তাহলে কিভাবে ধরা পড়ল? সাবিরউদ্দিন নিজেই জানিয়েছে কাঠের আসবাবের দোকানে আ্যসবেসটসের চাল ফুটো করে নামার পর আর সে উঠতে পারেনি। তখন আলমারি ও সোফার মাঝে লুকিয়ে ছিল। দোকানে বহু লোক যাতায়াত করেছে। অথচ কারও নজরে পড়েনি। দোকানমালিকের নজর এড়িয়ে পালানোর সুযোগ খুঁজছিল চোরটি। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ ঝন্টু শেখ দোকান ছেড়ে পাশে কোথাও যেতেই সে বাইরে চলে আসে। সাবিরউদ্দিনের কথায়, খালি পায়ে থাকলে কেউ ধরতেই পারত না। কিন্তু শখের জুতোর মায়া ছাড়তে পারেনি সে। জুতো পড়েই পালাবে ভেবেছিল। কিন্তু প্রায় ১৪-১৫ ঘণ্টা কিছু খায়নি। তাই খিদের চোটে চা-বিস্কুট খেতে গিয়েছিল। তখনই ধরা পড়ে যায়।

পুলিশ সাবিরউদ্দিনকে আটক করার পর আলিনগরের ওই পাঁচ ব্যবসায়ী পুলিশের কাছে আসেন। সব দোকান মিলে কয়েক লক্ষ টাকা চুরির অভিযোগ ছিল তাঁদের। তবে পুলিশের সামনে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেয় চোরই। পুলিশকে সাফ জানিয়ে দেয়, ওসব ভাঁওতা। কারও ক্যাশবাক্সে অত টাকা ছিল না। অধিকাংশই খুচরো পয়সা ছিল। আর এক বাসন-ব্যবসায়ীর দোকানে পুরানো একটি ১০০০ টাকার নোট ছিল। পাঁচ টাকার কয়েন ছাড়া অন্য কয়েন নেয়নি বলেই জানা সাবিরউদ্দিন। কিশোর চোরের স্মার্টনেস দেখে অবাক পুলিশও। এখনও কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি চোরের বিরুদ্ধে। তা পেলেই মামলা দায়ের করা হবে। আর জুভেনাইল কোর্টে পাঠানো হবে চোরকে।

ছবি: জয়ন্ত দাস

[নাটকীয় কায়দায় হাসপাতালের বিছানায় রক্ত দিয়ে প্রেমিকার সিঁথি রাঙালো যুবক]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.