Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬

শৈশবেই বিকশিত প্রতিভা, স্কুলের পুজোয় সরস্বতীর প্রতিমা গড়ে নজির খুদে পড়ুয়ার

এভাবে আস্ত একটা সরস্বতী প্রতিমা গড়ে দেবে তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য ঠেকছে সকলের!

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯, ০৯:৫৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯, ০৯:৫৫

options
link
শৈশবেই বিকশিত প্রতিভা, স্কুলের পুজোয় সরস্বতীর প্রতিমা গড়ে নজির খুদে পড়ুয়ার zoom

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: সেই আড়াই বছর বয়স থেকে প্রপিতামহের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে দুর্গা প্রতিমার আঙুল বানাত। আর এবার প্রায় একাই নিজের স্কুলের সরস্বতী প্রতিমা গড়ে নজর কাড়ল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র কুলদীপ সূত্রধর। শহর পুরুলিয়ার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাবলিং বাডসের দশ বছরের খুদে পড়ুয়া এভাবে সরস্বতী প্রতিমা গড়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আগেই থেকে জানত তার মাটির কাজের প্রতিভা। কিন্তু এভাবে আস্ত একটা সরস্বতী প্রতিমা গড়ে দেবে তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য ঠেকছে সকলের! কিন্তু প্রায় ২০ দিন ধরে ধীরে ধীরে কুলদীপ সরস্বতী প্রতিমার গঠন তৈরি করে। এখন সেই মাটির প্রতিমায় চুনও পড়ে গিয়েছে। এবার শুধু চক্ষুদান ও ফিনিশিং টাচ। তারপরই কুলদীপের হাতে তৈরি সরস্বতী প্রতিমা পুজো পাবে এই স্কুলে।

কুলদীপের এই কাজকে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে দেওয়া উপহার হিসাবে দেখছে। স্কুলের কর্ণধার সুদিন অধিকারী বলেন, “কুলদীপ সত্যিই আমাদের চমকে দিয়েছে। আমরা জানতাম ও ছেলেবেলা থেকেই মাটির কাজে ভীষণ দক্ষ। তার প্রপিতামহের কাছে সে প্রতিমা তৈরির কাজ শেখে। কিন্তু এভাবে যে সরস্বতী প্রতিমা তৈরি করে ফেলবে তা ভাবতেই পারছি না। ও এবার পঞ্চম শ্রেণিতে পা রাখতে অন্য স্কুলে যাবে। তার আগে সরস্বতী প্রতিমা বানিয়ে আমাদের উপহার দিয়ে যাচ্ছে।” কুলদীপের পরিবার মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাই তার রক্তে এই শিল্পকলার প্রতিভা। এবারও সে তার পরিবারের সঙ্গে দুর্গা প্রতিমা বানানোর কাজে হাত দিয়েছিল। তার কথায়, “আর কিছুদিন পরেই এই স্কুল ছেড়ে যাব। তাই কিছু একটা কাজ করে যেতে চেয়েছিলাম। যার জন্য আমাকে সবাই মনে রাখবে। তাই মনে জোর করে সিদ্ধান্ত নিই এবার স্কুলের সরস্বতী প্রতিমা আমি নিজে তৈরি করব। শিক্ষকদের এই প্রস্তাবটা দেওয়ার পর তাঁরা সেভাবে আমল দেননি। কিন্তু নিজের জেদেই এই কাজটা নিই। তবে এই কাজে বাবা–দাদু আমায় কিছুটা সাহায্য করেছে। সেই সঙ্গে বন্ধুরা।”

Advertisement

[হারানো নদীই আসলে দেবী সরস্বতী?]

এই কয়েকটা দিন কুলদীপ স্কুলে এসে বলা যায় শুধু প্রতিমাই গড়ে গিয়েছে। আর তার পাশে থেকে সাহস দিয়েছে বন্ধুরা। এক এক করে চোখ, নাক, মুখ গড়ে উঠেছে আর খুশিতে উপচে পড়েছে কুলদীপের বন্ধুরা। কিন্তু সে এখনও লক্ষ্যে স্থির। আজ শনিবার যে তার ওই বানানো প্রতিমাই চক্ষু দান করবে। তার বন্ধু শ্রেয়া নন্দী, অর্পিতা দত্ত, শুভাঙ্গী মণ্ডল বলেন, “আমরা অবাক হয়ে শুধু ওর কাজ দেখেছি। স্কুলের সরস্বতী প্রতিমা যে আমাদের বন্ধুর হাতে গড়া এটা ভেবেই খুব ভাল লাগছে। এবার পুজোয় আমরা খুব মজা করব।” তুলি নিয়ে প্রতিমার কাজ করে যাচ্ছেই কুলদীপ।

[কেন সরস্বতী পুজোর আগে কুল খায় না ছাত্র-ছাত্রীরা?]

ছবি: সুনীতা সিং

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.