সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সাত সকালে শহরের বুকে অন্ধকার নামিয়ে নাগাড়ে চলছে বর্ষণ৷ আষাঢ়ে বর্ষণে বিপর্যস্ত গোটা রাজ্য৷ বর্ষার জমা জলে স্তব্ধ শহরের স্বাভাবিক ছন্দ৷ থমকে গ্রাম-বাংলার জনজীবন৷ বিরামহীন বৃষ্টিতে লাফিয়ে বাড়ছে নদীর জল৷ বর্ষার জলে ফুলতে শুরু করেছে গ্রাম-বাংলার নদী-নালা-পুকুর৷ হাওয়া অফিস বলছে, আগামী তিনদিন একই থাকবে পরিস্থিতি৷ ফলে, রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা আষাঢ়ে বর্ষণের উপর কড়া নজর রাখছে নবান্ন৷ অতিবর্ষণের বিপর্যয় রুখতে ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেচ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরকে তৈরি থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ প্রশাসনিকস্তরে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে৷
[ তাড়া করে গাড়ির যন্ত্রাংশ পাচার চক্রের পাঁচ দুষ্কৃতীকে ধরল পুলিশ ]
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফায় মৌসুমি অক্ষরেখা সক্রিয় হয়েছে। সমুদ্র থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকে পড়েছে। পুঞ্জীভূত হয়েছে মেঘ। সেই পুঞ্জীভূত মেঘের কারণে অন্ধকার দিনের বেলাতেও। তার সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত। কলকাতা ও তার আশপাশের বহু জায়গায় পরপর বাজ পড়ে। বাজ পড়ার শব্দে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন পথচারীরা।
জানা গিয়েছে, এদিন সকালে কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে একটি বাজ পড়ে। এর পরই বিমানবন্দরে কর্মরত একটি বিমানসংস্থার কর্মী স্বামী দাস অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়। এদিন সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের ঝিংকার উত্তরপাড়ায় ১০০ দিনের কাজে পুকুর খনন করছিলেন এলাকারই কয়েকজন বাসিন্দা। তখনই শুরু হয় প্রচণ্ড বৃষ্টি ও তার সঙ্গে বজ্রপাত। বজ্রপাতে সইদুল মণ্ডল (৬২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় পাঁচজনকে বসিরহাট হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বনগাঁর গোবরাপুরে আল ধরে যাওয়ার সময় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে মফিদুল মণ্ডল নামের এক ব্যক্তির। আহত হন ইলিয়াস বিশ্বাস৷
[মাথাব্যথা বাড়াচ্ছে বাইক রেসিং, রুখতে কী পদক্ষেপ পুলিশের?]
যদিও দক্ষিণবঙ্গে স্বাভাবিক বর্ষা নিয়ে এখনও আশার বাণী শোনায়নি আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। এদিন সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ ৩৩.৪ মিলিমিটার। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, বর্ষা সক্রিয় হয়েছে। যার জেরে আগামী ৩-৪ দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আসলে দীর্ঘদিন দুর্বল থাকার পর চাঙ্গা হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। যার জেরে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যের বাকি অংশে ঢুকে পড়বে বর্ষা। ফলে উপকূলবর্তী জেলা ও ঝাড়গ্রামের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু আপাতত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে কলকাতা-সহ বাকি দক্ষিণবঙ্গবাসীকে। তবে বৃষ্টির ফলে কমবে তাপমাত্রা। নতুন করে কোনও নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত দানা না বাঁধলে ফের দুর্বল হয়ে যেতে পারে বর্ষা। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের এক কর্তা জানান, দক্ষিণবঙ্গে মৌসুমি বায়ুকে পরিপুষ্ট করার মতো কোনও প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ না থাকায় স্বাভাবিক চেহারায় দেখা যাবে না বর্ষাকে৷
ছবি-পিন্টু প্রধান
সর্বশেষ খবর
-
শংকরপুর থেকে রওনা হয়ে নিখোঁজ, ৭ দিন পর বকখালিতে উদ্ধার ট্রলার, মৃত ৫ মৎস্যজীবী
-
সামনে দামী মোবাইল, লোভ সামলাতে না পেরে পার্সেল কেটে চুরি! কী পরিণতি অনলাইন বিপণি সংস্থার কর্মীর?
-
‘স্কুলেই ফিনান্সিয়াল লিটারেসি পড়ানো উচিত’, কলকাতায় বেঙ্গল রাইজিং বিসনেস সামিটে বললেন সুকান্ত মজুমদার
-
আশঙ্কাই সত্যি! বারুইপুরে গণপিটুনিতে উসকানির অভিযোগে গ্রেপ্তার বামনেতা লাহেক আলি
-
মাকে পৃথিবী থেকে সরালেই ঘরে ফিরবে বউ, শাশুড়ির শর্ত মেনে জন্মদাত্রীকে খুনের চেষ্টা ছেলের!