দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: বাড়ির অমতে ভালবেসে ভিনধর্মের যুবককে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু, স্বামীর অত্যাচারে একসঙ্গে থাকতে পারেননি বলে অভিযোগ। ভরসন্ধেয় শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে স্ত্রীকে গুলি করে খুন করল এক যুবক। মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত ওই যুবতীর বাবা-মাও। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হুগলি কোন্নগরে। মৃতার বাবা-মায়ের অভিযোগ, ডিভোর্সের মামলা করার পর থেকে মেয়েকে নিয়মিত খুনের হুমকি দিত জামাই। পুলিশকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে রিভলভারটিও।
[অশান্তির জেরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু দম্পতির, গুরুতর জখম ১৪ দিনের শিশু]
মৃতার নাম শুভলগ্না চক্রবর্তী। তাঁর বাপের বাড়ি কোন্নগরের শ্রীনাথ ঘোষ সরণিতে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুভলগ্নার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল স্থানীয় যুবক সুলতান আলির। সেই বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। কিন্তু, ভিনধর্মের যুবকের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক মেনে নেননি শুভলগ্নার বাবা-মা। বছর চারেক আগে বাড়ির অমতে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেছিলেন শুভলগ্না ও সুলতান। কিন্তু, সেই বিয়ের সুখের হয়নি বলে অভিযোগ। শুভলগ্নার পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকে স্ত্রীর উপর অত্যাচার করত সুলতান। তাই বাপের বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন শুভলগ্না। বিচ্ছেদ চেয়ে আদালতে মামলা করেছিলেন তিনি। আগামী ২৮ জুলাই মামলার শুনানি ছিল। সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে শুভলগ্না ও সুলতানের বিবাহবিচ্ছেদও হয়ে যেত।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাকার বাড়িতে গিয়েছিলেন শুভলগ্না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাড়ি ফিরে যখন দরজা বন্ধ করছিলেন তিনি, তখনই স্ত্রীকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায় সুলতান আলি। গুলির শব্দ পেয়ে ছুটে আসেন শুভলগ্নার বাবা-মা। তাঁদের মাথায় বন্দুকের বাঁট দিয়ে আঘাত করে সে। এদিকে ততক্ষণে বাড়ির বাইরে লোক জমতে শুরু করেছে। বিপদ বুঝে চম্পট দেয় সুলতান। তবে শেষরক্ষা হয়নি। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে তাকে ধরে ফেলে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয় রিভলভারটিও। এদিকে গুলিবিদ্ধ শুভলগ্না ও তাঁর বাবা-মাকে নিয়ে রওনা দেয় পাড়া-প্রতিবেশীরা। কিন্তু মাঝ রাস্তায় প্রাণ হারান ওই যুবতী। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর বাবা ও মাকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, কোনও রোজগার নেই সুলতান আলির। বরং অল্পবিস্তর গুন্ডামির জন্য এলাকার কুখ্যাতই ছিল সে। খবর পেয়ে রাতে শুভলগ্না চক্রবর্তীর বাড়িতে যান উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল ও পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
[‘নিচু জাত’ বলে উচ্চবিত্তদের লাঞ্ছনা, হাওড়ায় চন্দ্র পরিবারের রথ যেন প্রতিবাদের নিশান]
সর্বশেষ খবর
-
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর! কোথায় কত শূন্যপদ, আবেদনের যোগ্যতা কী? জানাবে বিশেষ অ্যাপ
-
ধনেপাতার ডাঁটি ফেলে দেন? রান্নায় ব্যবহার করে ফেলুন এই ৫ উপায়ে
-
সূচনা ১৭৯৭ সালে! কেশরগড়ে পঞ্চকোট রাজবাড়ির রথের জৌলুস ফেরাতে উদ্যোগী রাজ্য
-
‘ফকল্যান্ড চাই’, সেমি লড়াইয়ের আগে হুঙ্কার আর্জেন্টিনার, ‘গণভোটের রায়…’, পালটা ব্রিটেনের
-
ফের রুদ্ধ হরমুজ! আবারও কি চড়চড়িয়ে বাড়বে রান্নার গ্যাসের দাম?