কুড়মি জনজাতিদের আদিবাসী তালিকাভুক্তি-র দাবি তৃণমূল ইস্তাহারে না রাখলে ‘উল্টা গুনতি’ হবে! অজিত মাহাতোর আদিবাসী কুড়মি সমাজ তৃণমূলকে একটি ভোট নয়, এই ডাক দেওয়ার পর-ই ওই সংগঠন ভেঙে ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজ গঠিত হয়। সেই সংগঠনের দ্বিতীয় বৈঠকেই বেসুরো তারা। শনিবার বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লকের বিক্রমপুরের কাছে হরিণটুলিতে কুড়মি জনজাতিদের তিনটি সংগঠন মিলে কুড়মি যৌথ মঞ্চ গঠন হয়। ওই যৌথ মঞ্চে রয়েছে ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজ, পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজ, বাইসি কুটুম। তারা-ই এই সিদ্ধান্ত নেয়। একইভাবে ৫-৬ ফেব্রুয়ারি আদিবাসী কুড়মি সমাজের কুড়মালি নেগাচারি সারনা ধরম মহাজড়ুআহিতে শেষমেশ ওই সংগঠন তৃণমূলকে একটি ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্তেই অনড় থাকে। তবে শর্ত দেওয়া হয় শুধু বিজেপিকে। নির্বাচন আচরণ বিধি লাঘুর আগে কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করলে তাদেরকে সমর্থন করবে ওই কুড়মি সংগঠন। কিন্তু ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজ তথা কুড়মি যৌথ মঞ্চ যে ভাবে শাসক দল তৃণমূলের উপর চাপ সৃষ্টি করল তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। এই কুড়মি যৌথ মঞ্চ কুড়মি জনজাতিদের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনগুলিকে কাছে পায়নি বলেই কি শাসকদলের উপর এমন কড়া বার্তা? এই প্রশ্ন উঠেছে।
প্রায় প্রথম থেকেই ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজ বলে আসছিল তাদের পাশে থাকবে কুড়মি সমাজ, পশ্চিমবঙ্গ, নেগাচারি কুড়মি সমাজ। কিন্তু বাঁকুড়ার বৈঠকে তাদেরকে দেখা যায়নি। পুরুলিয়া শহরের প্রথম বৈঠকে কুড়মি সেনার কয়েকজন কর্মী থাকলেও ওই সংগঠনের তরফে তাদের উপস্থিতি থাকার কথা স্বীকার করা হয়নি। এদিনও ওই সংগঠনকে দেখা যায়নি। বরং ৫-৬ ফেব্রুয়ারি কোটশিলায় আদিবাসী কুড়মি সমাজের কর্মসূচিতে কুড়মি সমাজ, পশ্চিমবঙ্গ ও নেগাচারি কুড়মি সমাজের নেতৃত্বরা ছিলেন। তবে ওই কুড়মি যৌথ মঞ্চ দুটি বড় কর্মসূচি নিয়েছে। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের দিন রাজ্যের সমস্ত কুড়মি অধ্যুষিত জেলাগুলিতে তাদের আদিবাসী তালিকাভুক্তের দাবি-সহ একাধিক দাবিতে জেলাশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করবে। এই কর্মসূচি জঙ্গলমহলের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও হবে। তারপর ১১ই মার্চ শহর পুরুলিয়ার ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে একটি বিশাল জনসভার ডাক দিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন:
আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের দিন রাজ্যের সমস্ত কুড়মি অধ্যুষিত জেলাগুলিতে তাদের আদিবাসী তালিকাভুক্তের দাবি-সহ একাধিক দাবিতে জেলাশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করবে। এই কর্মসূচি জঙ্গলমহলের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও হবে। তারপর ১১ই মার্চ শহর পুরুলিয়ার ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে একটি বিশাল জনসভার ডাক দিয়েছেন তারা।
কুড়মি যৌথ মঞ্চের অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজের এক্সিকিউটিভ কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা সুজিত মাহাতো বলেন, “আমরা আপাতত তিনটি সংগঠনকে নিয়ে কুড়মি যৌথ মঞ্চ গড়েছি। আমাদের দাবি পূরণে আমরা একাধিক কর্মসূচি নিচ্ছি। শনিবারের বৈঠক থেকে তা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আমরা জানিয়েছি আমাদের দাবি দাওয়া পূরণের বিষয়টি বিশেষ করে আদিবাসী তালিকাভুক্তির দাবিটি তৃণমূল ইস্তাহারে না রাখলে ‘উল্টা গুনতি’ হবে।” অর্থাৎ শাসকের বিরুদ্ধে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখেন তারা। ভোটের আগে এ যে চাপের রাজনীতি তা বলছে শাসক দল তৃণমূল।
অন্যদিকে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা রাজ্য তৃনমূলের সাধারণ সম্পাদক শান্তিরাম মাহাতো বলেন, “আমরা আগেই বলেছি কুড়মি জনজাতিদেরকে আদিবাসী তালিকাভুক্তির দাবিটি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকারের আওতায়।” আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো বলেন, “কিন্তু রাজ্যেরও তো করণীয় রয়েছে। কেন্দ্র রাজ্যকে কমেন্ট-জাসটিফিকেশন পাঠাতে বলেছিল। কিন্তু টালবাহানা ছাড়া রাজ্য আর কিছু করেনি। আমরা বুঝে গিয়েছি রাজ্য কিছু করবে না। তাই আমরা আর তাদের সঙ্গে কোন আলোচনাতে যাচ্ছি না। আমাদের একটাই ডাক তৃণমূলকে একটি ভোটও নয়।”
সর্বশেষ খবর
-
কোথায় শওকত? ছেলেকে আটক করে হন্যে হয়ে খুঁজছে এনআইএ! তল্লাশি ভাইয়ের বাড়িতেও
-
‘শত্রু দেশ’কে হারিয়ে এশিয়ার সেরা! কিমের সঙ্গে নাচলেন ফুটবলাররা, ভাইরাল ভিডিও
-
জন্ম থেকে দলের ‘মালিকানা’ বদল, মমতার তৃণমূলের ২৮ বছরের ইতিবৃত্ত
-
জিনিয়াস স্পোর্টস নয়, আইএসএল আয়োজনের অধিকার খুব সম্ভবত পেতে চলেছে ক্লাবগুলি
-
ফেডারেশনের বৈঠকে রণক্ষেত্র টলিপাড়া, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে ‘চোর চোর’ স্লোগানে ছোঁড়া হল ডিম