সুনীপা চক্রবর্তী, ঝাড়গ্রাম: লালগড়ের জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারটি মানুষ খেকো নয় এমটাই জানিয়ে দিলেন রাজ্যের চিফ কনজারভেটর অফ ফরেস্ট। বাঘটি মানুষ খেকো হলে গত এক মাসে মানুষকে আক্রমনের ঘটনা ঘটতোই। এদিন শনিবার লালগড়ের জঙ্গলে থাকা বাঘটিকে ধরতে লালগড়ে পৌছেছিল সুন্দরবনের চারজন বাঘ ধরার বিশেষজ্ঞ। এই বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মেদিনীপুরের ডিএফও রবীন্দ্রনাথ সাহা শনিবার দুপুর থেকে লালগড়ের বিভন্ন জঙ্গলগুলি চষে ফেলেন বাঘের সন্ধানে। মুখ্য বনপাল (সিসিএফ) শক্তিশংকর দে তিনিও ছিলেন দলে। বাঘের দেখা না মিললেও দেখা মিলেছে বাঘের পায়ের ছাপ। লালগড় রেঞ্জের মেলখেড়িয়া জঙ্গলে যেখানে শেষ বাঘটির গতিবিধি ক্যামেরা বন্দী হয়েছিল সেখানেই মিলেছে বাঘের পায়ের ছাপ। আর সেই ছাপ এদিন দেখার পর বন দপ্তরের এক্সপার্ট টিম মনে করছে, বাঘটি এখনও রয়েছে মধুপুর সংলগ্ন মেলখেড়িয়ার জঙ্গলের আশপাশে। তাই বন দপ্তর আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, বাঘটি মানুষ খেকো না হলেও গ্রামবাসীদের সাবধানে থাকতে হবে।
[লালগড়ের জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার! বন দপ্তরের ক্যামেরায় অবিশ্বাস্য ছবি]
অন্যদিকে বাঘটিকে ধরতে মরিয়া বন দপ্তর সুন্দরবন অঞ্চল থেকে প্রায় সাত ফুট লম্বা এবং পাঁচ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট প্রমান আকারের দুটি বড় বিশেষ ধরনের বাঘ ধরার খাঁচা আনিয়েছে। আর ওই খাঁচা দুটিকে বসানো হয়েছে শেষ বাঘের পায়ের ছাপ এবং সেখানে ক্যামেরা বন্দী হয়েছিল বাঘটি সেই মেলখেডিয়ার জঙ্গলে। দুটি খাঁচা দু’জায়গায় রাখা হয়েছে ক্যামেরার আওতায়। খাঁচা দুটিতে টোপ হিসেবে রাখা হয়েছে দুটি ছাগল এবং মাংস। আর চারপাশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পচা মাংসের দূর্গন্ধ। বন দপ্তরের মতে পচা গন্ধে বাঘ বেশি আকৃষ্ট হয়। যে ভাবে পচা মাংসের গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে ক্যামেরার আওতায় এসেছিল বাঘটি। আর বন দপ্তর মেলখেড়িয়ার জঙ্গলের দুটি জায়গায় একেবারে প্রকৃতিক পরিবেশে খাঁচা দুটিকে সাজিয়ে রেখেছে। পুরনো গাছ, লতা ,পাতা দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে খাঁচা দুটিকে। আর আশে পাশে রয়েছে জলাশয়। বাঘটিকে আকর্ষণ করার জন্য পুরোপুরি প্রাকৃতিক পরিবেশ রচনা করা হয়েছে। হঠাৎ দেখলে মনে হবে টোপ ছাগল দুটি খাঁচা নয় যেন জঙ্গলের ভিতরে রয়েছে। দুটি জায়গায় রয়েছে ক্যামেরা। এদিন সুন্দরবন অঞ্চল থেকে আগত চার বিশেষজ্ঞ এবং লালগড় রেঞ্জের বনকর্মী, মেদিনীপুরের ডিএফও রবীন্দ্রনাথ সাহা, ঝাড়গ্রামের এসডিএফও দীপক সরকার, লালগড় থানার আইসি অরুন খান-সহ পুলিশকর্মীরা লালগড়ের বিভিন্ন জঙ্গলগুলিতে প্রথমে তল্লাশি শুরু করেন। স্থানীয় বনকর্মীরা আত্মরক্ষার জন্য সঙ্গে নিয়ে ছিলেন বল্লম। যেকোনও ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি ছিল চরমে।
[খাঁড়িতে লুকিয়ে বিপদ, সুন্দরবনে বাঘের হানায় বেঘোরে মৃত্যু মৎস্যজীবীর]
বন দপ্তর জানিয়েছে এদিন প্রথমে আমলিয়া, পোড়াডিহা, কামরাঙ্গি, মধুপুর, মেলখেড়িয়ার জঙ্গলগুলিতে শুরু হয় বাঘটির খোঁজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পায়ের ছাপ মেলে মেলখেড়িয়া জঙ্গলে। পায়ের ছাপ দেখে এদিনও বন দপ্তর মনে করছে লালগড়ের জঙ্গলে একটি আরও বাঘ রয়েছে। আর তাই একটি বাঘের সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই বন দপ্তর এগোচ্ছে। তারা জানিয়েছে সারা রাত খাঁচাগুলির উপর নজরদারি রাখবে বনকর্মীরা। তবে বাঘটি খাঁচায় রাতে ধরা পড়লেও রাতে কিছু করা হবে না। সকালে সবকিছু খতিয়ে দেখে বিশেষজ্ঞ দল বাঘটির উপর ঘুমপাড়ানি গুলি ব্যবহার করবে। আর তাই চার সদস্য বিশিষ্ট এক্সপার্ট দলটি লালগড় রেঞ্জ অফিসেই থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএফও রবীন্দ্রনাথ সাহা। এদিন রাজ্যের মুখ্য বনপাল (সিসিএফ) শক্তিশংকর দে বলেন, “বাঘটি মানুষ খেকো নয় বলে মনে হচ্ছে। তা নাহলে আগেই মানুষকে আক্রমন করত। একটা বাঘ আছে বলেই মনে করা হচ্ছে। দুটো খাঁচা আনা হয়েছে। এভাবেই বাঘকে ধরা হয়। সুন্দরবন থেকে যারা এসেছে তারা এভাবেই বাঘ ধরেছেন। আমরা আশাবাদী। বাঘটি মানুষ খেকো নাহলেও জঙ্গলে গরু, ছাগল পাঠানো নিষেধ করা হচ্ছে। এদিন কোন ছবি না উঠলেও পায়ের ছাপ দেখা গিয়েছে। মনে হচ্ছে বাঘটি এই এলাকাতেই রয়েছে।” সুন্দরবনের ঝড়খালিতে রেসকিউ সেন্টারে পাঠানো হতে পারে বাঘটিকে।
সর্বশেষ খবর
-
‘মুহূর্তটা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে’, শাহী সাক্ষাৎ নিয়ে আবেগপ্রবণ প্রসেনজিৎ
-
বিজেপিতে ‘নো এন্ট্রি’! দলত্যাগী তৃণমূল কর্মীদের নজরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন
-
হাসিনা বিরোধী ছাত্রদলের সভায় বিস্ফোরণ, তারেক প্রশাসনকে দুষছেন নাহিদরা
-
ট্রাম্পের শত চেষ্টাতেও ব্যর্থ! বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় আমেরিকার
-
আজ জানে কি জিদ না করো… চোখের জলে মহাকাব্যে ইতি টানলেন মহানায়ক রোনাল্ডো