ব্রতদীপ ভট্টাচার্য: ক্রিকেটের হাত ধরেই ঘরে ফিরল মালদহের কিশোর। দূরপাল্লার ট্রেনে চড়ার শখ হয়েছিল বারো বছর বয়সি ওই কিশোরের। ট্রেনে চেপে পাড়ি দেওয়ার পর বাড়ি ফেরার আর পথ খুঁজে পায়নি সে। মালদহ থেকে এসে পৌঁছায় হাওড়ায়। পুলিশ উদ্ধার করে হোমে পাঠায় তাকে। নিজের নাম ছাড়া কিছুই জানত না সে। অবশেষে সেই পথভোলা রাজীব বাস্কেকে দিশা দেখাল ক্রিকেট। বারাসতের কিশলয় হোমে ক্রিকেট খেলতে খেলতে এলাকার একটি টুর্নামেন্টের নাম মনে পড়ে তার। সেই সূত্র ধরেই সন্ধান মেলে রাজীবের পরিবারের।
[বড়দিনে ঘুরতে যাওয়া নিয়ে বচসা, প্রেমিকের অপমানে আত্মঘাতী কিশোরী]
রাজ্যের সমাজকল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে ও ‘সাথী’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় ঘরে ফিরল রাজীব। শুধু রাজীবই নয়, বেপথু বহু কিশোরই পরিবারকে ফিরে পেল। মঙ্গলবার বারাসতের কিশলয় হোমের মোট ১৯ আবাসিককে তাদের পরিবারের লোকেদের হাতে তুলে দিলেন নারী ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজা। তিনি বলেন, “এই শিশুদের মধ্যে অধিকাংশ তাদের বাড়ির ঠিকানা জানত না। বাকিরা বাড়ি ফিরতে চাইছিল না। কিশলয় হোমে এই শিশুদের নিয়ে দু’মাসের একটি ক্যাম্প করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাথী। তাদের পরিবারের লোকেদের খুঁজে বের করে ঘরে ফেরানো হল তাদের।”
[হোয়্যাটসঅ্যাপে ফাঁস পলিটেকনিকের প্রশ্ন, উদাসীন প্রশাসন]
মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, নদিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পথভোলা কিশোররা আশ্রয় পেয়েছিল বারাসতের কিশলয় হোমে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, এমনকী নেপাল থেকেও বেশ কিছু শিশু পথ ভুলে চলে এসেছিল এ রাজ্যে। কেউ কলকাতা শহর দেখতে আসে, কেউ আবার বদসঙ্গের খপ্পরে পড়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। কিশলয় হোমের এমন ২৩ জন আবাসিককে নিয়ে গত দু’মাস ধরে একটি বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করেছিল সাথী। বিভিন্ন খেলা ও কাজের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেন কাউন্সিলররা। এবং সেখান থেকেই একে একে ওই কিশোরদের পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। ক্রিকেট যেমন রাজীবের বাড়ির ঠিকানা পাওয়ার সূত্র দেয়, তেমনই আরও একটি শিশুর হাতের উল্কি তার বাবা—মাকে খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। সাথী—র এক সদস্য সুরেন্দর সাউ জানান, খেলার পাশাপাশি ওই শিশু ও কিশোরদের যোগ ব্যায়াম, মেডিটেশন—সহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যস্ত রাখা হয়। শোনানো হয় জীবনে ফেরার গল্প। উত্তর ২৪ পরগনা সমাজকল্যাণ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অদীপকুমার রায় জানিয়েছেন, “এই আবাসিকদের শুধু বাড়ি ফেরানোই নয়, তাদের লেখাপড়ার জন্য ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ২০০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। বাড়িতে ফিরে তারা ঠিক পরিবেশে থাকছে কি না নজর থাকে সেদিকেও।”
[মদের দোকান বন্ধ করতে ছবি এঁকে খুদেদের অভিনব প্রতিবাদ]
সর্বশেষ খবর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক
-
মমতার জন্যই ধ্বংস ইন্ডিয়া জোট, নীতীশের এনডিএ যোগের নেপথ্যেও কালীঘাট! প্রকাশ্যে রিপোর্ট