Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৩ জুলাই ২০২৬

মাছ ধরার জালের সুতো দিয়েই দুর্গা প্রতিমা তৈরি পুলিশকর্মীর

মালদহ জেলা পুলিশ অফিসে হোমগার্ড হিসেবে কর্মরত তিনি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২, ২০১৯, ১৬:০৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২, ২০১৯, ১৬:০৫

options
link
মাছ ধরার জালের সুতো দিয়েই দুর্গা প্রতিমা তৈরি পুলিশকর্মীর zoom

বাবুল হক, মালদহ: মা আসছেন। তবে মাটির নয়। মৃণ্ময়ী রূপেও নয়। মুগা সুতোয় চিন্ময়ী রূপেই এবার মায়ের আগমন ঘটবে মালদহে। বানভাসি মালদহে মাকে এবার এভাবেই আনছেন মালদহ জেলা পুলিশ অফিসে কর্মরত হোমগার্ড বিষ্ণুচন্দ্র সাহা।

বন্যার কারণে জল জলে ডুবে গোটা জেলা। মালদহ শহরটিও জলের তলায়। দুর্যোগ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন সবাই। এদিকে হাতে আর একমাসও সময় নেই। তারপরই বাঙালির মহোৎসব। দুর্গাপুজো। মা আসছেন। কিন্তু এই প্লাবনের মধ্যে মায়ের প্রতিমা গড়ার কাজই শুরু করতে পারেননি মালদহের মৃৎশিল্পীরা। বন্যার জলে ডুবে রয়েছে কৃষিজমি থেকে ভিটেবাড়ি। প্লাবনে ঢাকা পড়েছে নদীর চরও। গঙ্গা, ফুলহার কিংবা মহানন্দা। কোন নদীর চর থেকে মাটি এনে প্রতিমা গড়বে পালপাড়া? মাটি নেই। সব মাটিই গ্রাস করেছে এই প্লাবন। তাহলে মা কি এবার মৃণ্ময়ী রূপ পাবেন না? কিন্তু এই দুর্যোগের মধ্যেও কাজ থামেনি বিষ্ণুচন্দ্রের।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

প্রত্যেক বছরই মায়ের প্রতিমা গড়ে চমক দেন এই পুলিশকর্মী। কিন্তু এই বছর বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি। টানা তিন সপ্তাহ ধরে ভাসছে গোটা জেলা। ইংলিশবাজার শহরের আর পাঁচজন মৃৎশিল্পী যখন বানের জল দেখে হাত গুটিয়ে বসে রয়েছেন, তখনও দিব্যি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কৃষ্ণকালীতলার বাড়িতে বসে মুগা সুতো দিয়েই তিনি তৈরি করছেন দুর্গা প্রতিমা। কাজও প্রায় শেষ হতে চলেছে। মাটি লাগছেনা। খড়ের কাঠামোয় মুগা সুতো। আর দরকার কিছু পরিমাণ প্লাস্টার অব প্যারিস। প্রতিমা গড়তে তাঁকে সাহায্য করছেন স্ত্রী পূর্ণিমাদেবী। কারণ একমাত্র মেয়ে বিপাশা কলকাতায় পড়াশোনা করেন। এই প্রসঙ্গে মৃৎশিল্পী বিষ্ণুবাবু বলেন, “দিনের বেলায় পুলিশ সুপারের অফিসে হোমগার্ডের ডিউটি করি। আর রাত জেগে প্রতিমা তৈরি করছি।” তবে এই দুর্গা প্রতিমা কখনও নষ্ট হবে না। বিসর্জনের পরও এটি সংরক্ষণ করে রাখা যাবে। জানালেন শিল্পী নিজেই।

মূলত মুগা সুতো দিয়েই তৈরি হয় পুকুরে মাছ ধরার ভাউরি বা ঘুরন জাল। মুগা সুতো জলে কখনও পচে না। মাছ ধরার জাল তৈরির সেই সুতোই এবার মায়ের মূর্তির উপকরণ। মাটির অভাবে মালদহতে ঠাকুর তৈরির কাজ আটকে রয়েছে। সমস্যায় পড়েছেন সুকুমার পণ্ডিতের মতো প্রখ্যাত মৃৎশিল্পীরাও। ঠিক তখনই মুগা সুতোকেই প্রতিমা তৈরির প্রধান উপকরণ হিসাবে বেছে নিয়ে কার্যত দুর্যোগকেই হার মানাচ্ছেন মৃৎশিল্পী বিষ্ণুচন্দ্র সাহা।

ছবি: হরেন চৌধুরি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.