৯ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

এবার সাংসদদের কড়া বার্তা মমতার

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 25, 2016 4:06 pm|    Updated: May 25, 2016 4:06 pm

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: শপথের দু’দিন আগেই ফের দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংসদ, বিধায়ক, গুরুত্বপূর্ণ জেলা সভাপতি ও সাংগঠনিক নেতাদের নিয়ে কালীঘাটে বৈঠকে বসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বুধবার দুপুর তিনটের থেকে এই বৈঠকে থাকবেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ভোটের ফল প্রকাশের পরের দিন অর্থাত্‍ ২০ মে কালীঘাটের বাড়িতে নব নির্বাচিতদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেই বৈঠক থেকেই দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেন মমতা৷ এদিন দলের সাংসদদের এখন থেকেই লোকসভা ভোটের প্রস্তুতির পাশাপাশি কড়া বার্তাও দেন নেত্রী৷ সূত্রের খবর, আট মন্ত্রীর হার ছাড়াও যে সব জেলায় বা মহকুমায় দলের ফল খারাপ হয়েছে তার পর্যালোচনা করে জেলা সভাপতিদের রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে৷ দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার আগে এদিন মমতার এই সাংগঠনিক বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মত রাজনৈতিক মহলের৷ সাংগঠনিক স্তরে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মমতা বলেও খবর৷
যে জায়গায় অন্তর্ঘাতের কারণে দলীয় প্রার্থীদের হার হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তৃণমূলনেত্রী৷ একই সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে যারা দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে দলবিরোধী কাজ করেছে তাঁদের ছেঁটে ফেলা হতে পারে বলে খবর৷
এর আগে বিধানসভা নির্বাচনে বিরাট জয় আসার পরদিনই দলের রাশ ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি বুঝিয়ে দেন জয়ের আবেগে ভাসলেও দলের প্রত্যেকের ভূমিকা তাঁর নজরে রয়েছে৷ ২০ মে নবনির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা দেওয়া হয়, যেমন খুশি বলা, যেমন খুশি চলা আর বরদাস্ত করা হবে না৷ তবে যাঁরা দলের নীতি, শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে ভাল কাজ করেছেন তাঁরা ভোটে হারলেও দল তাঁদের পাশে থাকবে কালীঘাটের তরফে তাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়৷ ইতিমধ্যে মণীশ গুপ্ত, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শঙ্কর চক্রবর্তীর মতো রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা পরাজিত প্রার্থীদের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে গুরুদায়িত্ব দিতে চেয়েছেন দলনেত্রী৷ এমনকী ভোটেও দাঁড় করিয়ে জিতিয়ে আনা হতে পারে বলে খবর৷ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে দলনেত্রীর অবস্থান খুব স্পষ্ট৷ দলের সৈনিক হিসাবে শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে দলের পাশে থাকলে দলনেত্রীও তাঁদের পাশে থাকবেন৷ কিন্তু দলবিরোধী কাজ করলে কাউকে ছাড়া হবে না৷ আগের বৈঠকেই মমতা জানিয়ে দিয়েছেন, “যুদ্ধের সময় যাঁরা দলের বিরোধিতা করেন, তাঁদের কোনও ক্ষমা নেই৷”
অন্যদিকে দ্বিতীয়বারের জন্য সরকারে শপথ নেওয়ার আগেই বুধবার প্রথম সরকারি অনুষ্ঠানে দেখা যাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ এদিন বিকেল পাঁচটা নাগাদ নজরুল তীর্থে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি৷ সেখানে তাঁর বক্তব্য রাখার সম্ভাবনাও রয়েছে৷ এর আগে রবীন্দ্রসদনে ২৫ বৈশাখের অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও নির্বাচনী বিধি থাকায় কোনও বক্তব্য রাখেননি তিনি৷ শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে৷ চলেছে শেষ মুহূর্তের আমন্ত্রিতদের নামের তালিকা খতিয়ে দেখার কাজ৷ কোনও নাম যাতে বাদ না পড়ে যায় তার জন্য সতর্ক রয়েছে দলের কর্মীরা৷ নবান্নের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে৷ যা খবর তাতে কেন্দ্রের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকতে পারেন এই শপথে৷ আসার কথা রয়েছে বিদেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের৷ থাকবেন দেশ ও এরাজ্যের শিল্পিপতিরা৷ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদেরও৷ এছাড়া এরাজ্যের বিশিষ্টরা রয়েছেন আমন্ত্রিতের তালিকাও৷ রেড রোডের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঠিকমতো সম্পন্ন করতে নবান্নের তরফেও চলছে রুটিন তদারকি৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement