BREAKING NEWS

১ আশ্বিন  ১৪২৭  শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

মর্যাদা দিয়েই মণীশদের ফেরাচ্ছেন মমতা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 24, 2016 9:09 am|    Updated: May 24, 2016 9:09 am

An Images

বিশেষ সংবাদদাতা: পরাজিত চার ক্যাবিনেট মন্ত্রী মণীশ গুপ্ত, উপেন বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও শঙ্কর চক্রবর্তীকে সম-মর্যাদা দিয়েই সরকারে কাজে লাগাতে চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়৷ তৃণমূল সূত্রে যতদূর খবর, সম্ভবত প্রাক্তন মুখ্যসচিব মণীশ গুপ্তকে ফের মন্ত্রিসভায় এনে বিদ্যুত্‍ দফতরেরই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে৷ ছ’মাসের মধ্যে তাঁকে কোনও একটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনে জিতিয়ে আনা হবে৷ সেই আসনটিও চিহ্নিত হয়ে গিয়েছে৷ বাকি তিনজনকেও গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজে লাগাতে চান মমতা৷

২১১ আসনে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করলেও আট মন্ত্রী পরাজিত হয়েছেন৷ এর মধ্যে যাদবপুরে হেরেছেন মণীশবাবু৷ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তিনি বিদ্যুত্‍ দফতরের দায়িত্ব সামলেছিলেন৷ বাংলায় যে এখন লোডশেডিং হয় না এর পুরো কৃতিত্ব মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে দিয়েছিলেন মণীশবাবুকেই৷ নেত্রীর দৃঢ় বিশ্বাস যাদবপুরে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যসচিব৷ সেই জন্যই তাঁকে তিনি মন্ত্রিসভায় এনে পুরনো মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে চান৷ উপেন বিশ্বাস ছিলেন অনগ্রসর কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী৷ তিনি হেরেছেন বাগদায়৷ এক্ষেত্রেও মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত প্রাক্তন সিবিআই পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা সীমান্ত এলাকার নানা সমীকরণের ফলেই হেরেছেন৷ তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিতে চান৷ একইভাবে উত্তর দমদমের পরাজিত চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্বাস্থ্য ও আইন দফতরের দায়িত্বে ছিলেন৷ তাঁর কাজেও মুখ্যমন্ত্রী খুশি৷ আর বর্ষীয়ান শঙ্কর চক্রবর্তী ছিলেন বালুরঘাটের বিধায়ক ও পূর্তমন্ত্রী৷ মুখ্যমন্ত্রী এঁদের দু’জনের অভিজ্ঞতাকে কীভাবে কাজে লাগাবেন তা ভাবছেন৷ আগামিকাল তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ থাকবেন পদাধিকারীরা৷ সেখানে ভোট পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে৷ এদিকে কে কে মন্ত্রী হবেন তা চূড়ান্ত করছেন মমতা নিজেই৷ দল তাঁকে সেই দায়িত্ব দিয়েছে৷ জেলাভিত্তিক ভারসাম্য রেখেই নেত্রী মন্ত্রীদের নাম চূড়ান্ত করছেন৷ তবে শৃঙ্খলার প্রশ্নে তিনি এবার অত্যন্ত কঠোর৷ মালদহ, হলদিয়া-তমলুক, যাদবপুর, রানাঘাট মহকুমার দুই আসন, নানুর, দুর্গাপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও বেশ কয়েকটি এলাকায় দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ের রিপোর্ট মমতা চেয়েছেন৷ হাতে পেলে বেশ কয়েকজনকে তিনি দল থেকে তাড়াবেন৷

আগের বৈঠকেই নেত্রী বলে দিয়েছিলেন, যুদ্ধের সময় যাঁরা গদ্দারি করেন তাঁদের কোনও ভাবেই ক্ষমা নয়৷
এদিকে শপথের প্রস্তুতি চূড়ান্ত৷ মুখ্যসচিব সোমবার বাসুদেব বন্দ্যেপাধ্যায় এদিন নবান্নে জানিয়েছেন, “মঙ্গলবার সকাল থেকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রেড রোড৷ ২৭ তারিখ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর সন্ধ্যা থেকে খুলে দেওয়া হবে রেড রোড৷” বাসুদেববাবু আরও জানান, “শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য একটিই বড় মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে৷ সেখানেই একদিকে বসবেন রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী৷

অন্যদিকে বসবেন নির্বাচিত জন প্রতিনিধিরা৷ মাঝখানে থাকবে শপথ পরবর্তী সইয়ের ব্যবস্থা৷ পাশে থাকছে বিদেশি অতিথিদের মঞ্চ৷” নবান্ন সূত্রে খবর, রেড রোডে প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ যাঁরা বসে দেখতে পারবেন না তাঁদের জন্য থাকছে বড় স্ক্রিন৷ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিদের কাছে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পৌঁছতে শুরু করেছে সোমবার থেকে৷ আসার কথা রয়েছে ভূটানের প্রধানমন্ত্রীর৷ পুরো শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে সুষ্টভাবে করতে এদিন নবান্নে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে সব দফতরের সচিবদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়৷ এই বৈঠকে ছিল কলকাতা পুলিশের কমিশনার রাজীব কুমারও৷

মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতেও এদিন বহুমানুষ আসেন শুভেচ্ছা জানাতে৷ দুপুর থেকেই বৃষ্টি নামে৷ প্রবল বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়েও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন সবাই৷ পাহাড় থেকে আসেন লেপচা জনজাতির একটি প্রতিনিধি দল৷ বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে রাত অবধি বহু মানুষ আসেন মমতার কাছে৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement