Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১৯ আগস্ট ২০২৬
Maoist

‘আকাশ’ থেকে ‘মনোজ’, আত্মসমর্পণের পথে না হেঁটে নতুন নামে আড়াল খুঁজছেন মাওবাদী নেতা

'মাওবাদ মুক্ত ভারতে' আত্মসমর্পনে 'না' আকাশের, কারণ কী? তার ব্যাখ্যা জেনেছেন গোয়েন্দারা।

সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জুলাই ৩, ২০২৬, ২২:০৪

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জুলাই ৩, ২০২৬, ২২:০৪

options
link
‘আকাশ’ থেকে ‘মনোজ’, আত্মসমর্পণের পথে না হেঁটে নতুন নামে আড়াল খুঁজছেন মাওবাদী নেতা zoom
আত্মসমর্পণের পথ নয়, জঙ্গলযুদ্ধ চালিয়ে যেতে নামবদল মাওবাদী নেতা আকাশের, প্রতীকী ছবি
Advertisement

সারান্ডা থেকে তাড়া খেয়ে একেবারে আড়াল করে রাখতেই জঙ্গল যুদ্ধে নিজের নাম বদলে ফেললেন শীর্ষ মাওবাদী নেতা আকাশ। সিপিআই (মাওবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ এখন মাও স্কোয়াডে নতুন নাম নিয়ে ‘মনোজ’। ঝাড়খণ্ডের সরাইকেল্লা-খরসোওয়া এলাকাতে একেবারে ছোট স্কোয়াড নিয়ে আত্মগোপন করে রয়েছেন বলে বাংলা-ঝাড়খণ্ড পুলিশের গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে। ভারত ‘মাওবাদী মুক্ত’ ঘোষিত হওয়ার পর কোণঠাসা বঙ্গের মাও ব্রিগেডের আত্মসমর্পণের আবহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু আকাশ সেই আত্মসমর্পণের পথে পা বাড়াতে চান না। বাংলা-ঝাড়খণ্ড পুলিশের গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

কোটি টাকা মাথার দাম মাওবাদী কমান্ডার আকাশ ওরফে মনোজের, ফাইল ছবি

একদিকে আকাশের আত্মসমর্পণে অনীহা। অন্যদিকে পুরুলিয়া ছুঁয়ে থাকা ঝাড়খণ্ডের নিমডি, বড়াম, কমলপুর, পটমদা এবং গালুডি থানা এলাকায় ১০ থেকে ১২ জন যুবককে নিজেদের দলে টেনেছেন মাওবাদীরা। গোয়েন্দাদের এই তথ্যের সঙ্গে আকাশ আত্মসমর্পণে অরাজি – এই দুই তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তাদের কার্যকলাপ হালকাভাবে দেখছেন না বাংলা-ঝাড়খণ্ডের গোয়েন্দারা।

Advertisement

কেন আত্মসমর্পণ নয়? আকাশের সেই ব্যাখ্যাও এখন গোয়েন্দাদের হাতে। ৬২ বছর বয়সে নতুন করে আর কোনও কিছু পাওয়ার নেই তাঁর। অর্থাৎ ডবল ইঞ্জিন সরকারের মাওবাদী আত্মসমর্পণের প্যাকেজ নিয়ে কোন উৎসাহই নেই।তাছাড়া এখনও তাঁকে সামনে রেখে যে সামান্য স্কোয়াডটুকু রয়েছে, সেই কমরেডদের কাছে আকাশ বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবেন। তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে জঙ্গল যুদ্ধে যৌথবাহিনীর গুলিতে নিহত মাও নেতানেত্রী থেকে সাধারণ সদস্যের পরিবারেও। তাই এই কঠিন অবস্থায় গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে ‘শহিদ’ হয়ে গেলেও সকলে তাঁকে মনে রাখবেন।

কেন আত্মসমর্পণ নয়? আকাশের সেই ব্যাখ্যাও এখন গোয়েন্দাদের হাতে। ৬২ বছর বয়সে নতুন করে আর কোনও কিছু পাওয়ার নেই তাঁর। অর্থাৎ ডবল ইঞ্জিন সরকারের মাওবাদী আত্মসমর্পণের প্যাকেজ নিয়ে কোন উৎসাহই নেই।তাছাড়া এখনও তাঁকে সামনে রেখে যে সামান্য স্কোয়াডটুকু রয়েছে, সেই কমরেডদের কাছে আকাশ বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবেন। তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে জঙ্গল যুদ্ধে যৌথবাহিনীর গুলিতে নিহত মাও নেতানেত্রী থেকে সাধারণ সদস্যের পরিবারেও। তাই এই কঠিন অবস্থায় গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে ‘শহিদ’ হয়ে গেলেও সকলে তাঁকে মনে রাখবেন। এই ভাবনাতেই মূল স্রোতে ফিরতে চান না তিনি। তার বদলে নতুন নাম নিয়ে মাও কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া মনোজ ওরফে আকাশ। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানার ফুলচক গ্রামের বাসিন্দা আকাশের মাথার দাম এখন ১ কোটি টাকা।

আসলে এই শীর্ষ মাও নেতার কোনও পিছুটান নেই। ২০০০ সাল নাগাদ জনযুদ্ধ গোষ্ঠীর নেত্রী অণু মাইতি ওরফে কল্পনা মাইতির সঙ্গে আকাশের কমরেড ম্যারেজ হলেও স্ত্রী এখন প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বন্দি। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ড থেকে আসা ১০-১২ জনের সশস্ত্র মাওবাদী দলটি দুটি দলে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একটি দল দলমা পাহাড় বা সন্নিহিত এলাকায়, আর আকাশের সঙ্গে থাকা ছোট দলটি রয়েছে ঝাড়খণ্ডের সরাইকেল্লা-খরসোওয়াতে। এখনও দুটি দল মিলিত হতে পারেনি। গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী দলমা এলাকায় রয়েছে বীরেন। তবে আরও দুই দুর্ধর্ষ ‘ফাইটার’ শচীন, মদন দলমায় নাকি আকাশের সঙ্গে, তা পরিষ্কার হয়নি গোয়েন্দাদের কাছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.