BREAKING NEWS

২৮ আষাঢ়  ১৪২৭  মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

সিসিটিভি খুলে রেখে ব্যাংকে তাণ্ডব, লক্ষাধিক টাকা নিয়ে উধাও দুষ্কৃতীরা

Published by: Tiyasha Sarkar |    Posted: December 3, 2019 8:05 pm|    Updated: December 3, 2019 8:05 pm

An Images

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: মাঝরাতে ব্যাংকের ভল্ট কেটে দুঃসাহসিক চুরি। ভল্ট থেকে লক্ষাধিক টাকা গায়েব করল চোরের দল। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে আগেভাগেই সিসিটিভিও খুলে নেয় দুষ্কৃতীরা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কাঁকসার কুলডিহায়।

মঙ্গলবার সকালে নির্দিষ্ট সময়ে কুলডিহার ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে যান শাখা ম্যানেজার তন্ময় কবিরাজ ও সাফাই কর্মী নিমাই হাজরা। ভিতরে ঢুকে ভল্টের কাছে যেতেই তাঁরা দেখেন ভল্টের দরজা খোলা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা খবর দেন পুলিশকে। পুলিশ গিয়ে শুরু করে তদন্ত। পুলিশ ও ব্যাংক সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত পৌনে একটা নাগাদ ব্যাংকের পিছনের দরজা ও গেটের তালা ভেঙে ব্যাংকে ঢোকে দুষ্কৃতীরা। ব্যাংকের উপরই একটি মন্দির রয়েছে। প্রথমে দুষ্কৃতীরা ওই মন্দিরে প্রবেশের দরজা তালা ভাঙে। তারপর অন্য একটি দরজার তালা ভেঙে সরাসরি ভল্টের কাছে চলে যায় তারা। ভল্টের সিমেন্টের দেওয়াল ভাঙার পর ভল্ট কাটে দুষ্কৃতীরা। সেখান থেকে মোট ৪ লক্ষ ১৬ হাজার ২৩০ টাকা চুরি করে পালায় অভিযুক্তরা। খুলে নিয়ে যায় ব্যাংকের ছ’টি সিসিটিভি। কিন্তু হার্ড ডিস্ক না নিয়ে যাওয়ায় সেটাই এখন তুরুপের তাস পুলিশের কাছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ওই হার্ড ডিস্কের মাধ্যমেই হদিশ মিলবে দুষ্কৃতীদের।

[আরও পড়ুন:মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে লরিতে তুলে চম্পট, তাড়া করে ধরল পুলিশ]

জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে ব্যাংকের বিপদ সংকেত বাজলেও গুরুত্ব দেননি কেউ। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাংকের সামনে ভিড় জমান উদ্বিগ্ন গ্রাহকরা। ব্যাংকের ম্যানেজার তন্ময় কবিরাজ জানান,“ভল্টে মোট নয় লক্ষ সত্তর হাজার টাকা ছিল। ভল্টের যে দিকে দুষ্কৃতীরা কেটেছিলো সেই অংশেরই টাকা নিতে পেরেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। দোষীদের ধরতে আমরা পুলিশকে সম্পূর্ন সহযোগিতা করব।” সিসিটিভির হার্ড ডিস্ক থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুষ্কৃতীদের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে কাঁকসা থানার পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, যেভাবে ভল্ট কাটা হয়েছে তা স্থানীয় কোনও দলের কাজ নয়। বিহার, ঝাড়খন্ড কিংবা বীরভুমের কোনও পেশাদার দুষ্কৃতীরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

ব্যাংকের বাইরে সিসিটিভি না থাকায় দুষ্কৃতীরা মোট কতজন ও কিসে এসেছিল বা কোনদিকেই বা গেল তা এখনও বোঝা যায়নি। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসি–১ (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা জানান,“ ব্যাংকে রাতে নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন না। অ্যালার্মও সঠিক সময়ে কাজ করেনি। কিছু সিসিটিভির ফুটেজ পাওয়া গেছে। এছাড়াও কিছু সূত্রও মিলেছে। আমরা খুব তাড়াতাড়িই ওই দুষ্কৃতীদের পাকড়াও করতে পারব বলে মনে করছি।”

ছবি: উদয়ন গুহরায়

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement