জ্যোতি চক্রবর্তী, বনগাঁ: রাস্তার পাশে অশীতিপর বৃদ্ধা ঠাকুমাকে দাঁড় করিয়ে বেপাত্তা হয়েছিল নাতি। সরল মনে, বিশ্বাসে ঠাকুমা রাস্তায় অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু নাতি আর আসেনি। দুমাস বাড়িছাড়া হয়ে হাসপাতালে দিন কাটিয়েছিলেন বৃদ্ধা নির্মলা হালদার। হ্যাম রেডিওর মাধ্যমে বৃদ্ধার বাড়ির ঠিকানা উদ্ধার হয়। শনিবার বৃদ্ধার ছেলে হাসপাতালে যান। হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে বৃদ্ধা মাকে ফের বাড়ি নিয়ে গেলেন। ঘটনাটি বনগাঁর গোপালনগর থানার বনগাঁ চাকদহ সড়কের জোড়া রাস্তার মোড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, বছর ৮৫ বয়সের বৃদ্ধা নির্মলা হালদারের বাড়ি, নদিয়া জেলার শিমুরালি পালপাড়ায়। দুই ছেলে, নাতিপুতি নিয়ে ভরা সংসার। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে ছোট ছেলে অনন্ত হালদারের সংসারে থাকতেন তিনি। অনন্তর ছেলেকে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছেন ঠাকুমা। দুমাস আগে সেই নাতিই ঠাকুমাকে নিয়ে রাস্তায় বেরোয়। চাকদহ সড়কের জোড়া রাস্তার মোড়ে ঠাকুমাকে অপেক্ষা করতে বলে উধাও হয় ওই গুণধর।
দীর্ঘ সময় রাস্তাতেই অপেক্ষা করেছিলেন তিনি। স্থানীয়রা বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে। কিন্তু কোনওভাবেই বাড়ির ঠিকানা বলতে পারেননি তিনি। গোপালনগর থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানেই গত দু’মাস ধরে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। অনেকটাই সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। হাসপাতালের পক্ষ থেকে হ্যাম রেডিওর মাধ্যমে তাঁর ঠিকানার সন্ধান শুরু হয়। দিন কয়েক আগে সেই বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যদের সন্ধান হ্যাম রেডিওর সদস্যরা।
শনিবার বৃদ্ধার ছেলে অনন্ত হালদার ও তাঁর স্ত্রী হাসপাতালে যান। সকলের কাছে ঘটনার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন। বৃদ্ধাকে বাড়ি থেকে বার করার ষড়যন্ত্রে ছেলেও যুক্ত। তেমনই মনে করছেন অন্যান্যরা। ছেলেকে দেখে অঝোরে কেঁদে ফেললেন ওই বৃদ্ধা মা। বৃদ্ধার সঙ্গে আর এমন কিছু করবেন না পরিবারের লোকজন। সেই প্রতিশ্রুতিই দিয়েছেন তাঁরা।
সর্বশেষ খবর
-
মমতার তিরস্কার, শুভেন্দুর পুরস্কার! দময়ন্তী সেন-সহ ৬ আইপিএসকে স্বাধীনতা দিবসে সম্মান মুখ্যমন্ত্রীর
-
কলকাতা মেডিক্যালে মহিলা কর্মীর আত্মহত্যার চেষ্টা! নেপথ্যে কী কারণ?
-
কার্যালয়ে কার্তুজ, গোপন ডেরায় ইসিএলের নথি! দেড় মাস পর পুলিশের জালে বিধায়ক পুত্র ‘বাহুবলী’ প্রেমপাল
-
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ‘তিজ’ উদযাপনে কাকলি-শতাব্দী-রচনারা, মেহেন্দি-সেলফিতে হুল্লোড়, শামিল কঙ্গনাও
-
অনুশীলন সমিতি থেকে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান আর্মির সদস্য! ফিরে দেখা ঝাড়গ্রামের বিস্মৃতপ্রায় বিপ্লবীকে