ভগ্নপ্রায় কুঁড়ে বাড়ি। ত্রিপলের তাপ্তি দেওয়া। এক ফালি ঘর। সূর্য নিভলেই ঘর ভরে অন্ধকারে। ভরসা কেরোসিনের হ্যারিকেন-ল্যাম্প। রাত কাটে মাটির বিছানায়। শৌচাগার নেই। খাবার ভরসা রেশনের চাল।
যখন বিকশিত দেশের দিকে এগোচ্ছে ভারত, তখন বেঁচে থাকার প্রাথমিক শর্ত, রুটি-কাপড়া-মাকান থেকে হাজার যোজন দূরে ছেলে মরা বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। স্বাধীনতার ৮০ বছর পর স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের সাহায্যে তাঁদের ঘরে অবশেষে এল বিদ্যুৎ। আশ্বাস মিলেছে মিলবে আবাসের ঘর। এখন আলোর জোয়ারে ভাসছেন দম্পতি।
আরও পড়ুন:

সাগর (Sagar) বিধানসভার নামখানা গ্রাম পঞ্চায়েতের নারায়ণগঞ্জ এলাকা। এক প্রান্তে থাকেন কল্পনা ও গৌর দাস। বৃদ্ধা কল্পনার বয়স ৭০। স্বামী গৌরের বয়স ৭৫। দেশ গড়তে দেখেছেন তাঁরা। ইন্দিরা গান্ধী থেকে নরেন্দ্র মোদি। জ্যোতি বসু থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়ে শুভেন্দু অধিকারী। কত সরকার গঠন দেখেছেন। রাজনৈতিক দল ভেঙে যেতে দেখেছেন। থেকেছেন দেশেই, কিন্তু চরম অন্ধকারে।
ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন একটি ঘর পেয়েছিলেন। অনেক আশা নিয়ে ঘর বেঁধেছিলেন। এক ছেলেও জন্মায়। তবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে সেই ছেলে। সন্তানকে বাঁচাতে পারেননি দম্পতি। সরকারি বিভিন্ন স্তরে সাহায্যের আর্জি জানাতে জানাতে তাঁদের কোমর ঝুঁকে গিয়েছে। কিন্তু অবস্থার উন্নতি হয়নি। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার কোনও সুযোগ তাঁদের দিতে পারেনি রাষ্ট্র! এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি পৌঁছলেও, অর্থাভাব এবং প্রশাসনিক উদাসীনতায় তাঁদের ঘরে মিটার বসেনি। বিদ্যুৎ তো দূর, বাড়িতে একটি শৌচালয় বা শোওয়ার খাটও ছিল না।

পালাবদলের পর বিজেপির বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডলের কাছে খবর পৌঁছয়। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। জানতে পারেন, ওই দম্পতি ওই এলাকার দীর্ঘ দিনের বাসিন্দা। প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিয়ে আসছেন। কিন্তু পাননি কোনও সাহায্য। তারপরই সবার প্রথম বিদ্য়ুতের ব্যবস্থা করেন তিনি। বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে তিনি একটি খাট দিয়েছেন। বিডিও-র সঙ্গে কথা বলে শৌচাগার তৈরির কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সার্ভে হয়েছে। আশ্বাস মিলেছে পাওয়া যাবে আবাস যোজনার ঘর। এত যুগ বিদ্যুৎ নেই, ব্যবস্থা করেননি? প্রশ্নের উত্তরে বৃদ্ধা কল্পনা জানান, “ছেলেটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। অনেকে কথা বলত না। অনেকবার বিদ্যুৎ দপ্তরে গিয়েছিলাম। কাজ হয়নি। অনেক কষ্ট করেছি। বাবু এসে কারেন্ট দিয়েছে। সুখে থাকুক।”

এলাকার বিজেপি বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল বলেন, “স্থানীয়কর্মীদের থেকে জানতে পারি বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এইভাবে দিন কাটাছেন। কথা বলে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। শৌচাগার তৈরির কথা বলেছি। আবাসের সার্ভে করিয়েছি। যাঁরা পিছিয়ে আছেন, তাঁদের সার্বিক উন্নতি আমাদের লক্ষ্য। সরকার এই দিকে নজর দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “৩৪ বছরের বাম আমল। তৃণমূলের ১৫। প্রায় ৫০ বছর। কী করেছে ওরা। সেই প্রশ্ন করুন। এই বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে আলো এসেছে তা আনন্দের। পাশাপাশি কালা দিনও বটে।” ঘরে বিদ্যুৎ এসেছে। অবাক চোখে সুইচ টিপছেন দম্পতি। হতে পারে পাকা ঘরও। শেষ জীবনে দিন বদলের আশায় বুক বেঁধেছেন ওঁরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘আইফেল টাওয়ার থেকে মহিলাদের সরাতে হবে’, শর্ত ঘিরে বিতর্ক, ক্ষমা চাইল হিন্দু সংস্থা
-
আইসিএনইউ ২০২৬: আন্তর্জাতিক পুষ্টি সম্মেলন, চিকিৎসায় পুষ্টির নতুন দিশা
-
প্রতীক কার? উপনির্বাচনের আগেই তৃণমূলের ভাগ্য নির্ধারণ, দু’পক্ষকেই তলবের পথে কমিশন
-
‘উচ্চশিক্ষা দপ্তর দেখছে…’, লক্ষ্মীবারে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে আসছে নয়া বিল, কী জানালেন শুভেন্দু?
-
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নয়া অঙ্ক? প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে তারেকের উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে দীনেশ