Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১৭ আগস্ট ২০২৬
Mao leader

‘কতবার মরবে, বাঁচবে?’ সারান্ডার জঙ্গলে মাওবাদী ছেলের মৃত্যু, মানতে নারাজ সমীরের মা

যৌথ বাহিনীর সঙ্গে গুলির সংঘর্ষে সমীরের নিহত হওয়ার খবর পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন প্রশাসনিক কর্তারা। তারপরই ভাই হলধর রওনা দেন ঝাড়খণ্ড।

সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ২১:৪৫

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ২১:৪৫

options
link
‘কতবার মরবে, বাঁচবে?’ সারান্ডার জঙ্গলে মাওবাদী ছেলের মৃত্যু, মানতে নারাজ সমীরের মা zoom
নিহত মাও কমান্ডার সমীরের মা ফুলমণি সরেন। ফাইল ছবি
Advertisement

অতীত শিক্ষা দিয়েছে। বারবার মৃত্যুর খবর এসেছে বাড়িতে। আবার তা সংশোধন করে বাড়িতে পোস্টার দেওয়া হয়েছে যে – মাওবাদী কমান্ডার সুরেন্দ্রনাথ সরেন ওরফে সমীর জীবিত। কিন্তু এবার আর সেই সুখবর এল না। বরং এবার মৃত্যু খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সমীরের ভাই গিয়েছেন দাদার মৃতদেহ আনতে। তবু বিশ্বাস হয় না মায়ের। তাই তো ছেলের ছবি নিয়ে মায়ের প্রশ্ন, ‘ও কতবার মরবে, আর কতবার বাঁচবে?’

ঝাড়খণ্ডে নিহত স্পেশাল জোনাল কমিটির সদস্য কমান্ডার সুরেন্দ্রনাথ সরেন ওরফে সমীর। ফাইল ছবি

বুলেটে ঝাঁজরা হয়ে ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূমের চাইবাসার সরকারি হাসপাতালে  পড়ে রয়েছে সিপিআই (মাওবাদী)-র স্পেশাল জোনাল কমিটির সদস্য কমান্ডার সুরেন্দ্রনাথ সরেন ওরফে সমীর। দাদার সেই রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ নিজের বাড়িতে নিয়ে আসতে গ্রামের পড়শি ও চারজন আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে রবিবার ঝাড়খণ্ডে রওনা দেন ভাই হলধর মাহাতো। এদিকে, ‘মেঘাবুরু’ অপারেশনে ১৭ জন মাওবাদী খতম হওয়ার পর ২৬ শে জানুয়ারি, সাধারণতন্ত্র দিবসকে মাথায় রেখে আরও বড়সড় অভিযান শুরু করছে ঝাড়খণ্ডের যৌথ বাহিনী। কারণ ৭২ ঘণ্টার টানা ওই অপারেশনে সিপিআই (মাওবাদী)-র পলিটব্যুরো সদস্য মিশির বেসরা ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির প্রাক্তন সম্পাদক অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ঝাড়খণ্ডের যৌথ বাহিনীর হাত থেকে ফসকে যায়। আকাশ গুলিবিদ্ধ কিনা, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। 

Advertisement

রবিবার দক্ষিণ বাঁকুড়ার খাতড়া মহকুমা পুলিশ থেকে আধিকারিকরা নিহত সমীরের বাড়ি রায়পুর ব্লকের বারিকূল থানার ফুলকুসমা গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দকুড়ি গ্রামে যান। সুরেন্দ্রনাথ সরেন ওরফে সমীরের ঝাড়খণ্ডে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে গুলির সংঘর্ষে নিহতের খবর জানিয়ে বিভিন্ন নথিপত্রে পরিবারকে স্বাক্ষর করানো হয়। আর তারপরেই ভাই হলধর রওনা দেন ঝাড়খণ্ড।

রায়পুর ব্লকের বারিকূল থানার ফুলকুসমা গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দকুড়ি গ্রামে সমীরের বাড়ি। ফাইল ছবি

কিন্তু মা ফুলমণি সরেন কিছুতেই বিশ্বাস করতে চাইছেন না যে তাঁর বড় ছেলে সুরেন্দ্রনাথ ওরফে সমীর মৃত। মায়ের কথায়, “ও মারা যায়নি। ও নিখোঁজ।” এমন মন্তব্যের নেপথ্যে আসলে এক দীর্ঘ অতীত। একবার নয়, একাধিকবার ঝাড়খণ্ড পুলিশ এই পরিবারকে জানিয়েছিল, সমীর মৃত। তারপর আবার ভুল স্বীকার করে বাড়িতে পোস্টার সেঁটে হুলিয়া জারি করে যায়। তাই বছর আটান্নর ফুলমনি বলেন, “ও কতবার মরবে, আর কতবার বাঁচবে? মৃতদেহের ছবি দেখে বুঝতে পারছি না ওটা বড় ছেলে। তাহলে দেহ নেব কী করে?” আসলে মায়ের মন যে কিছুতেই মানে না, পৃথিবী ছেড়ে সন্তান চলে গিয়েছে নক্ষত্রের পথে!

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.