নিজস্ব সংবাদদাতা: ছেলেকে কেন অধ্যাপক পদ থেকে বরখাস্ত করা হল সেই প্রশ্নের জবাব চেয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যর ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন অনুপম হাজরার বাবা৷ শুক্রবার রীতিমতো মেঝেতে শুয়ে বিক্ষোভ দেখান তিনি৷ বাবার মাথার সামনে তখন বসে সাংসদ অনুপম হাজরা৷ পরে অবশ্য কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার লিখিত আশ্বাস দিলে অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নেন তাঁরা৷
এদিন সকাল ১১.২০ নাগাদ লালবাতি লাগানো গাড়িতে চেপে বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় অফিসে আসেন অনুপম হাজরা ও তাঁর বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মী দেবনাথ হাজরা৷ সঙ্গে ছিলেন অনুপমবাবুর ব্যক্তিগত সচিব ও দুই দেহরক্ষী৷ বিশ্বভারতী সূত্রে খবর, প্রথমে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য স্বপন দত্তর সঙ্গে তাঁর অফিসে কথা বলতে ঢোকেন অনুপমবাবু ও তাঁর বাবা৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে দু’পক্ষ৷ অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য দেবনাথবাবুর সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করে তাঁদের অফিস থেকে চলে যেতে বলেন৷ এরপরই দেবনাথবাবু উপাচার্যর ঘরের দরজার বাইরে শুয়ে চিৎকার শুরু করেন৷ দেবনাথবাবুর দাবি, তাঁর ছেলেকে জোর করে বরখাস্ত করা হয়েছে৷ বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য স্বপন দত্ত সব কিছু জেনেও কোনও পদক্ষেপ করছেন না৷ সেই কারণেই এই অবস্থান৷
এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন দেবনাথবাবু৷ বিশ্বভারতীর পিয়ারসন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এসে তাঁকে দেখে যান৷ অন্যদিকে অনুপম হাজরা জানান, উপাচার্য স্বপন দত্ত তাঁদের আশ্বাস না দিলে এই অবস্থান চলবে৷ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে৷ অসুস্থ হয়ে পড়েন ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব দেবাশিস ভট্টাচার্যও৷ তাঁকেও চিকিৎসক এসে দেখে যান৷ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিশ্বভারতীর নিরাপত্তা আধিকারিকরা৷ উপাচার্যের অফিসের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ উপাচার্য স্বপন দত্ত অনুপম হাজরাকে দু’টি চিঠি দেন৷
অসম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বিশ্বভারতীর সমাজবিদ্যা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যাণ্ট প্রফেসর পদে যোগ দেন অনুপম হাজরা৷ তাঁকে এক বছরের জন্য লিয়েনে আনা হয়৷ এরই মধ্যে লোকসভা ভোটে তৃণমূলের হয়ে বোলপুরের প্রার্থী হন তিনি৷ ভোটে জিতে সাংসদও হন৷ ২০১৪ সালের ৩১ মে এক বছরের জন্য বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে এক বছরের ছুটির আবেদন করেন অনুপম৷ ২০১৪ সালের ৭ জুন তাঁর এক বছরের ছুটির আবেদন মঞ্জুর করা হয়৷ কিন্তু ২০১৫ সালের ৩১ মে তাঁকে কাজে যোগ দিতে বলা হয় বিশ্বভারতীর তরফে৷ কিন্তু অনুপমবাবু কাজে না যোগ দেওয়ায় ২ জুন বরখাস্ত করা হয়৷ এদিন অনুপম হাজরা বলেন, “আমাকে বেআইনিভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে৷ আমি বারবার আমাকে বরখাস্ত করার কারণ জানতে চেয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি৷ আজ তাই উপাচার্যর কাছে এসেছিলাম৷ কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেন৷ এরজন্যই এই অবস্থান বিক্ষোভ৷’’
ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য স্বপন দত্ত জানান, যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক৷ শুধু বিশ্বভারতী নয়, কোনও বিশ্ববিদ্যালয়েই এমন ঘটনা কাম্য নয়৷ পুরো বিষয়টি কর্মসমিতি দেখছে৷
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ‘গোবর্ধন লীলা’র অন্য পাঠ, প্রকৃতিকে ভালোবাসার অনন্য দর্শন
-
অভয়ার ন্যায় চেয়ে তৃণমূল জমানায় সাসপেন্ড! সেই শুভঙ্করকে কাজে ফেরালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
-
হাঁটা নাকি যোগ! ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে কোনটা বেশি জরুরি জানেন
-
শনি-রবি শিয়ালদহ ডিভিশনে বাতিল একাধিক লোকাল, তালিকায় কোন কোন ট্রেন?
-
টিআরপিতে বিরাট রদবদল! বেঙ্গল টপার ‘জোয়ার ভাঁটা’, সেরা দশে কোন কোন বাংলা মেগা?