শাহজাদ হোসেন, ফরাক্কা: জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তবুও ইচ্ছাশক্তি এবং জেদের কাছে হার মানতে বাধ্য হল প্রতিবন্ধকতা। ছোট থেকে দু’হাত অকেজো। তবুও দিব্যি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে মুর্শিদাবাদের সুতির লক্ষ্মীপুরের চোদ্দ বছরের মোক্তার শেখ। পাড়া-পড়শিদের কাছে সে এখন ‘বিস্ময় বালক’। লড়াইয়ের আরেক নাম।
[উধাও মোবাইল থেকে খাবারের নুন, বৈদ্যবাটিতে ভূতের জ্বালায় অস্থির পরিবার!]
জ্ঞান হতেই গ্রামের আর পাঁচটা শিশুর মতো স্কুলে যাওয়ার জেদ। চলাফেরা করতে পারে না, সেই সন্তানকে নিয়মিত স্কুলে দিয়ে আসা নিয়ে আসা তো বিড়ম্বনার! কিন্তু সন্তানের জেদের কাছে হার মানতে হল মা-বাবাকেও। একরত্তি ছেলেকে কোলে করে বাড়ির পাশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিয়ে আসতেন মা শেফালি বিবি। প্রতিবন্ধী হওয়ার দরুণ জামা কাপড় পরা থেকে খাবার খাওয়ানো এমনকী, শৌচালয়ে নিয়ে যাওয়া আসা সবই করাতে হয় পরিবারের সদস্যদের। দেখতে দেখতে সব প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে চোদ্দ বছরের মোক্তার শেখ বর্তমানে নবম শ্রেনীর ছাত্র। হাতে ক্ষমতা নেই পেন ধরে লেখার। কিন্তু ঈশ্বর মোক্তারকে দিয়েছেন প্রবল ইচ্ছা শক্তি। আর তার বলেই পা দিয়ে সহজেই পেন ধরে লিখে ফেলতে পারে সব প্রশ্নের উত্তর। স্কুলের শিক্ষক থেকে পাড়া প্রতিবেশীরা যখন প্রতিবন্ধী সন্তানের মেধার প্রশাংসা করেন, তখন আনন্দে চোখের জল ধরে রাখতে পারেন না বাবা ফানসুর শেখ ও মা শেফালি বিবি। গর্ববোধ করেন সন্তানকে নিয়েই।
[প্রেমিকার সঙ্গে টানাপোড়েন, ভিডিও কল চলাকালীন আত্মঘাতী ছাত্র]
শেখ দম্পতির দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। মোক্তার ছোট সন্তান। ফানসুর ও তাঁর স্ত্রী শেফালি বিবি বিড়ি বেঁধে খুবই কষ্টে সংসার চালান। মোক্তারকে স্কুলে দিয়ে আসেন শেফালি বিবি। কোনওদিন কল্পনা করতে পারেননি শেফালি বিবি তাঁর প্রতিবন্ধী সন্তান নিজের ইচ্ছা শক্তির জোরেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে পারবে। মোক্তারের ইচ্ছে ভাল রেজাল্ট করে কোনও সরকারি উচ্চপদে চাকরি করবে সে। লক্ষ্মীপুর প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিলাসকুমার দাস জানান, ‘মোক্তার ক্লাসে ভাল রেজাল্ট করে। প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও ওর মধ্যে পড়াশোনার প্রতি জেদ আমাদের মুগ্ধ করেছে।’
বাড়ির পাশে এক বেসরকারি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পাঠরত এখন মোক্তার। আর্থিক স্বচ্ছলতা নেই। সে কারণেই স্কুল কর্তৃপক্ষ মেধাবী প্রতিবন্ধী মোক্তারকে বিনা পয়সায় পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছে। মোক্তার জানায়, ‘পৃথিবীতে প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নিলেও পরিবারের কাছে আমি যে অভিশাপ নই, সেটাই প্রমাণ করব।’ এটাই মোক্তারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। আর তাই তো মোক্তার প্রতিবন্ধীদের কাছে অনুপ্রেরণা। স্বাভাবিকভাবেই মোক্তারের এই লড়াইয়ে এলাকাবাসীও তাঁকে নিয়ে গর্বিত। পড়শিরাও বলছেন, ছেলেটার মধ্যে কিছু করার জেদ রয়েছে। ওকে দেখে সব প্রতিবন্ধীরাই উদ্বুদ্ধ হবে। আর পড়শিদের একথা শুনে মোক্তারের পরিবারেরও ছেলের জন্য গর্বে বুক ফুলে ওঠে।
[আরটিআই করেও দুটি বিষয়ে শূন্য, সংসদের ভূমিকায় বিতর্ক]
সর্বশেষ খবর
-
মিড ডে মিলের মাংস দিয়ে স্যারের বিবাহ বার্ষিকীর ভোজ! শান্তিপুরের স্কুলে তুমুল শোরগোল
-
অফিসের ২৫ জনকে পুলিশি হেনস্তা! ভয় দেখিয়ে মিথ্যা বয়ান রেকর্ড, দাবি অভিষেকের
-
হোয়াটসঅ্যাপের পরে টেলিগ্রাম, সিগন্যাল! ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে নোটিস কেন্দ্রের
-
ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতান্তর! বৈঠকে প্রশ্ন একাধিক সাংসদের
-
অ্যাসিড হামলায় কড়া আইনের দাবি, সরব মহিলাদের ক্ষমতায়ন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি