বিপ্লব দত্ত, কৃষ্ণনগর: বাবা একজন নির্মাণকর্মী। কাজ জুটলে দিনের রোজগার সর্বসাকুল্যে মাত্র ৩৫০ টাকা। যদিও রোজ কাজ যে জুটবেই, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। সংসারে অভাবের তাড়নায় বিএ পড়তে পড়তে পড়াটাই ছেড়ে দিতে হয়েছিল বাবাকে। তাই বাবা হরিদাস সেনের মনের যন্ত্রণা মেটানোর একটা জেদ ছিল রাকেশের কাছে। এবারের উচ্চ মাধ্যমিকে রসায়ন বাদে সব বিষয়ে লেটার মার্কস-সহ রাকেশের প্রাপ্ত মোট নম্বর ৪৩৫। চোখে আগামিদিনের একরাশ স্বপ্ন। আর মনের দুশ্চিন্তা রাকেশের চোখে মুখে। কারণ, সে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়তে চায়। আরও ভাল রেজাল্ট করে দুঃখ ঘোচাতে চায় বাবা-মায়ের।
[জ্যৈষ্ঠ মাস মলমাস, ক্রেতাহীন ফুলবাজারে কার্যত মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের]
নদিয়ার চাকদহ পূর্বাচল বিদ্যাপীঠের ছাত্র রাকেশের বাড়ি শিমুরালির মেলাতলা এলাকায়। বাড়িতে বাবা, মা, ভাই ও ঠাকুরমাকে নিয়ে একটা ছোট্ট ঘরে কাটে দিন। ভাই সুকেশ তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। নিজের পড়ার ফাঁকে ভাইকেও পড়িয়ে দিতে হয়। রাকেশ জানিয়েছে, দিনে ১৬-১৭ ঘণ্টা পড়েছে সে। বিকেলে একটু বেরিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে গল্পগুজব বা খেলাধুলা। আবার বই নিয়ে বসা। পড়া ছাড়া তো পথ নেই। এমন বহুদিন কেটেছে, দু’বেলা খাবার জোটেনি। এক বেলা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হয়েছে। যদিও পড়াতে গাফিলতি করেনি রাকেশ। ঠাকুরমা মিনতি সেন একসময় ঘাস কুড়িয়ে বাড়ি বাড়ি বিক্রি করতেন। তখনও রান্নার গ্যাসের প্রচলন হয়নি। সেই ঘাস জোগান দিয়ে যা আয় হত, তা দিয়েই ছেলে হরিদাসকে পড়িয়েছেন তিনি। উচ্চমাধ্যমিকের পর বিএ পড়তে পড়তে অভাবের তাড়নায় হরিদাসবাবুকে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়। সংসার টানতে কাজে যোগ দিতে হয়।
ব্যাগ কারখানায় কাজ করেন রাকেশের মা ডালিয়া সেন। কাছেই বাড়ি পূর্বাচল বিদ্যাপীঠের শিক্ষক কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনিই জানালেন, “শিমুরালি রাউতারি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিকে সব বিষয়ে লেটার পেয়েছিল ছেলে। ৮৯.৭১ শতাংশ নম্বর ছিল তার ঝুলিতে। সেই সময় রাকেশ ৬২৮ নম্বর পেয়েছিল। তবে ওই স্কুলে বিজ্ঞান বিষয় না থাকায় ওঁর বাবার কথায় রাকেশকে আমাদের স্কুলে ভরতি করাই। আমরা সবাই চাই, ও বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করুক।” ঠাকুরমা মিনতি সেন বললেন, “আমার ছেলের মতো ওকে যেন মাঝপথে পড়া ছাড়তে না হয়।” রাকেশ জানিয়েছে, কাজ থেকে ফিরে বাবা ও কাজের ফাঁকে মা সবসময় আমার পড়ার খোঁজ রাখেন। গণিতে ৯৬, বায়োসায়েন্সে ৯১, বাংলায় ৮৭, ইংরেজিতে ৮১, পদার্থবিদ্যায় ৮০ ও রসায়নে ৭৬ পেয়েছে রাকেশ। স্কুলের প্রধান শিক্ষক তিলকরঞ্জন রায় জানিয়েছেন, “দুঃস্থ পরিবারের হওয়ায় অনেক কষ্টে ওকে পড়াশোনা করতে হয়েছে। রাকেশ যদি কোনওভাবে কিছুটা আর্থিক সাহায্য পায়, ভাল হয়। কীভাবে কী হবে, সেই ভবিষৎ এখনও জানা নেই রাকেশের।” তার ইচ্ছা প্রেসিডেন্সি কলেজে ফিজিক্স নিয়ে পড়ার। জয়েন্টে পরীক্ষা ভাল হয়েছে বলে জানিয়েছে রাকেশ। যদি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সুযোগ পায়, তাহলে সেটাই পড়বে বলে জানিয়েছে সে।
[উচ্চমাধ্যমিকে মার্কশিট বিভ্রাট, ৪০-এর মধ্যে ৪১ নম্বর পেয়ে বিপাকে ছাত্রী]
সর্বশেষ খবর
-
২১ জুলাইয়ের অনুমতি পেল ঋতব্রত শিবির! সোম থেকে গান্ধী মূর্তি এলাকায় প্রস্তুতি শুরু ‘আসল’ তৃণমূলের
-
৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে খুন! মলের বেসমেন্টে ছুড়ে ফেলা হল দেহ, উত্তরপ্রদেশে চাঞ্চল্য
-
সাংসারিক অশান্তি, ব্যবসায় মন্দা! ফিটকিরির এই ৫ টোটকায় কাটবে বাস্তুদোষ
-
গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল! পাঁচদিন পর কাকদ্বীপে খোঁজ মিলল শংকরপুরের ১৫ মৎস্যজীবীর
-
১৬ দিন আগেও বিশ্বকাপ খেলেছিলেন! রহস্যজনক মৃত্যু দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডারের