সন্দীপ মজুমদার, উলুবেড়িয়া: লালগড়ের আতঙ্ক শেষ। আদিম উন্মাদনার আক্রোশে দেড় মাস ধরে চলা রয়্যাল বেঙ্গল রহস্যে যবনিকা পড়েছে। তীর, বল্লমের আঘাতে বেঘোরে মরতে হয়েছে সেই রয়্যাল বেঙ্গলকে, ক্ষুধার রাজ্যে যার কাছে পৃথিবীটা “গদ্যময়” হয়ে উঠেছিল আর পূর্ণিমার চাঁদটাকে সে হয়তো সত্যি সত্যিই “ঝলসানো রুটি” ভেবে বসেছিল, নিজের জীবন দিয়ে তারই মাশুল দিতে হয়েছে বেচারি বাঘকে। আর এই ঘটনাটার পরেই পরিবেশবিদ ও প্রকৃতি প্রেমিকরা আদিবাসীদের যত্রতত্র নৃশংসভাবে বন্যপ্রাণী হত্যার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
[‘বাঘটিকে আস্তানায় ফিরিয়ে দিতে পারলাম না, লজ্জায় মরা উচিত’]
পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রায়শই আদিবাসীরা হাওড়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে দলবদ্ধভাবে হানা দিয়ে বিপন্ন প্রজাতির বন্যজন্তুদের শিকার করে| তারপর শিকার করা জন্তুকে কাঁধে ঝুলিয়ে বীরোচিত ভঙ্গিমায় প্রকাশ্য রাজপথ দিয়ে হেঁটে যায়। কারও কোনও রকম আপত্তি বা অনুরোধের ধার ধারেনা এই সব ‘শিকারী’রা। গ্রামবাসীরা বাধা দিতে গেলে অনেক সময় ওরা তীর-ধনুক অথবা বাঁটুল উঁচিয়ে তেড়ে আসে। ওদের ভয়ে গ্রামবাসীরা বাধা দেওয়ার সাহস পান না। পরিবেশবিদ অধ্যাপক আক্রামূল হক জানান, গ্রামের মধ্যে প্রকাশ্য দিবালোকে যেভাবে আদিম নৃশংসতার মধ্যে দিয়ে নিরীহ বন্যপ্রাণীদের নির্বিচারে হত্যা করা হয় সেই বর্বরতা গ্রামের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে শিশুদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। এটা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। তিনি প্রশ্ন তোলেন রাজ্য সরকার আদিবাসীদের জন্য বেশ কিছু প্রকল্প চালু করেছে, তা সত্ত্বেও কেন তাদের বন্যপ্রাণী হত্যা করতে হবে?
কিছুদিন আগেই বন্যপ্রাণ রক্ষার দাবিতে ফেসবুকের মাধ্যমে আন্দোলনে নামেন প্রখ্যাত শিল্পী ও ভাস্কর তপন কর। হাওড়া জেলার প্রায় ৮০ শতাংশই গ্রামাঞ্চল। যার মধ্যে অধিকাংশ এলাকাই জল ও জঙ্গলাকীর্ণ। এই সব এলাকায় বেশ কিছু বিপন্ন ও লুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীর বসবাস। এর মধ্যে বাঘরোল বা ফিসিং ক্যাট, খটাস, ভাম, নেউল, খরগোশ, কাঠবিড়ালি, গোসাপ, শিয়াল ও বন্যশূকর উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও আছে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ। প্রায়শই এই সব মূল্যবান বন্যপ্রাণীরা আদিবাসীদের লোলুপতার শিকার হয়। আমতা, জয়পুর, উদয়নারায়ণপুর, শ্যামপুর, বাগনান, পাঁচলা, জগৎবল্লভপুর, ডোমজুড়, সাঁকরাইল এবং উলুবেড়িয়া থানা এলাকার সর্বত্রই এই সব শিকারীদের দাপট ক্রমশই বেড়ে চলেছে। কখনও খাবার জন্য আবার কখনও অস্থি, লেজ ও চামড়ার লোভে তারা এই প্রাণীগুলিকে হত্যা করে।
[ভোটের ময়দানে লড়াই থাকলেও দোকানে একাকার রাজনীতি]
কলকাতার নিউ মার্কেট এবং অন্যান্য জায়গায় ভাল দামে এই সব পশুর চামড়া ও হাড়গোড় বিক্রি করা হয় বলে জানা গিয়েছে। গৃহসজ্জা এবং বাহনসজ্জার অঙ্গ হিসাবে ফিসিং ক্যাট এবং কাঠবিড়ালির ছাল ও লেজ ব্যবহৃত হতেও দেখা যায়। উলুবেড়িয়া বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার উৎপল সরকার জানান, এই ঘটনা বন্ধ করার জন্য তাঁরা গ্রামে গ্রামে সচেতনতা শিবির করেন। তাঁদের পরিকাঠামো গত কিছু সমস্যা আছে। ৭৭ টি গ্রাম পঞ্চায়েত তাঁদের অধীনে আছে, তাই সব সময় সর্বত্র নজরদারি চালানো সম্ভব হয় না। এরা যাতে কোনও ভাবেই গ্রামে ঢুকতে না পারে তার জন্য গ্রামবাসী ও গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে রুখে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন ১৯৭২-এ এইসব বন্যপ্রাণী হত্যার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চার বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান আছে। এটাও ওইসব আদিবাসীদের বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন।
সর্বশেষ খবর
-
বান্ধবীর বাবার ‘যৌন লালসা’র শিকার তরুণী, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত
-
গুলির অবস্থান জানতে ডিজিটাল এক্স রে, ৩ সদস্যের নজরদারিতে বারুইপুরের প্রভাসের ময়নাতদন্ত
-
ভারতীয়দের বিপদ বাড়ছে? এইচ ১বি দুর্নীতিতে ট্রাম্পের ‘সন্দেহভাজন’ তালিকায় কগনিজ্যান্ট!
-
কোথায় হতে পারে ২১ জুলাই পালন? বিকল্প জায়গা জানাতে রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে ঋতব্রত শিবির
-
হরমুজে জাহাজ চলতে দেওয়া হোক, ট্রাম্পের ‘ভয়ংকর হামলা’র পরই সংযত থাকার বার্তা ভারতের