সম্যক খান, মেদিনীপুর: পৃথিবীর আলো দেখার পর থেকে মাকে কাছে পায়নি সে। মাতৃদুগ্ধ দূর অস্ত, মায়ের ছোঁয়াটুকুও পায়নি। সেই অভাবে পাঁচদিনের মধ্যেই অসুস্থ শিশু। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে সন্তান প্রসবের পর মৃত মামনি রুইদাসের পুত্রসন্তানকে ভর্তি করা হল হাসপাতালে। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, তার ঠান্ডা লেগেছে। চোখ খানিকটা হলুদ। চিকিৎসকরা বলেছেন, তার কিছু পরীক্ষা প্রয়োজন। সেসব রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসা হবে।
গত বুধবার প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন কেশপুরের মামনি রুইদাস। পুত্রসন্তান প্রসবের পর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, যে স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল তার বিষক্রিয়াতেই প্রাণহানি হয়েছে সদ্য মা হওয়া মামনির। এনিয়ে তুমুল শোরগোল শুরু হয়। ঘটনার তদন্তে ১৩ সদস্যে কমিটি গড়ে দেয় স্বাস্থ্যভবন। যদিও তারা তদন্তের ভিত্তিতে নবান্নে জমা দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই স্যালাইনের কারণে মৃত্যু নয়। এর নেপথ্যে ‘হিউম্যান এরর’ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃত্যুর কারণ যাই হোক, জন্মের পর থেকে মা-হারা শিশুপুত্র। তাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে পরিবার। কিন্তু পরিবারের নবাগতর আগমনে আনন্দ নেই। কারণ, একজনকে পেয়ে আরেকজনকে হারাতে হয়েছে। তবে সেই শিশুও সুস্থ নেই। পাঁচদিনের মধ্যে সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সোমবার বিকেলে পিসি তাকে নিয়ে আসে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে। পিসির কথায়, ”ওর ঠান্ডা লেগেছে। সর্দি-কাশি হয়েছে। তাই নিয়ে এলাম। আসলে মায়ের দুধ তো পাচ্ছে না। তোলা খাবার খাওয়াতে হচ্ছে। সেটা অসুবিধার।” মামনির মৃত্যুর তদন্ত তো চলছে। কিন্তু মাতৃহারা সদ্য়োজাত কীভাবে বড় হয়ে উঠবে, সেটাই এখন চিন্তা পরিবারের সদস্যদের।
সর্বশেষ খবর
-
ভিক্ষার আড়ালে দুষ্টচক্র! ট্রেনের মধ্যে ভিক্ষুক রুখতে মোটা জরিমানার সিদ্ধান্ত সরকারের
-
কী কারণে আচমকা বন্ধ ৩ অ্যাকাউন্ট? প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টে ‘কালীঘাট তৃণমূল’
-
সরকারি চাকরিতে ১ লক্ষ নিয়োগ, ৩৩% মহিলা সংরক্ষণ! বেতন বাড়ছে সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশের
-
আলোচনা ‘বানচাল’ হলেও ৬০ দিনের রোডম্যাপ তৈরি, কী উঠে এল ইরান-আমেরিকার বৈঠকে?
-
সমস্ত সামাজিক প্রকল্প অব্যাহত, দরিদ্রদের হাত শক্ত করাই লক্ষ্য, বাজেটে ঘোষণা অর্থমন্ত্রী স্বপনের