দীপঙ্কর মণ্ডল ও কিংশুক প্রামাণিক: সদ্য অতীতের গাথা শুনেই দিন কাটাচ্ছে মহাকরণ৷
রেড রোডে সবে শেষ মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সতীর্থদের শপথ৷ অফিসপাড়ায় গুজব৷ মহাকরণে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ গুটিগুটি পায়ে লালদিঘির পাড়ে হাজির কিছু কৌতূহলী মানুষ৷ শুক্রবার সবার মুখে একটাই আলোচনা৷ পাঁচ বছর আগে কী দেখেছিল এই চত্বর৷ ২০১১-র ২০ মে৷ ডালহৌসি চত্বর ভেসে গিয়েছিল জনসুনামিতে৷ গাড়ি ছেড়ে হেঁটেই বড় লাল বাড়িতে ঢুকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ভিড়ের চাপে ভবনের কাচও ভেঙেছিল৷ এ দিন ইতিউতি কিছু মানুষ ঘুরে বেড়ালেও রাস্তা প্রায় ফাঁকা৷ রাস্তায় কিছু যাত্রী বোঝাই বাস৷ কিছু ছোট গাড়ি৷ আর পথচলতি মানুষ৷ মহাকরণের অন্দরে যেন দীর্ঘশ্বাস৷ ঐতিহাসিক ভবনটিতে এদিন কয়েক মিনিটের জন্য শুধু পা রাখলেন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়৷
দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসন অবসানে গোটা রাজ্যই উৎসবে মেতেছিল পাঁচ বছর আগে৷ বাম জমানায় যে মহাকরণ থেকে একসময় মমতাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল সেখানেই রাজকীয় সংবর্ধনা ছিল৷ পুলিশ প্রশাসন মুখ্যমন্ত্রীকে সাদরে বরণ করেছিল৷ আর যারা পরিবর্তনের মূল কান্ডারি, সেই আম জনতা উচ্ছ্বাসের বন্যায় ভেসে গিয়েছিল৷ নিচের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা জনস্রোতের আবদার মেটাতে বারবার জানলার সামনে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ হাত নেড়েছিলেন৷ ভিতরে ক্যাবিনেট চলছিল, ঠায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন মানুষ৷ এদিন পথচলতি কয়েকজনের মুখে শোনা গিয়েছে, ‘‘ওই জানলার সামনে এসে হাত নেড়েছিলেন মমতা৷’’
এদিন কে বা কারা যেন গুজব রটিয়ে দেয় ফের মহাকরণে আসছেন মমতা৷ তবে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচিতে আদৌ তা ছিল না৷ শপথের পর নানা প্রথা৷ শপথের পর অবশ্য কয়েক মিনিটের জন্য মহাকরণে দেখা গিয়েছে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ এছাড়া কাউকে দেখা যায়নি৷ মহাকরণে সংস্কারের কাজ চলায় বেশিরভাগ সরকারি দফতরই এখন নবান্নে৷ মুখ্যমন্ত্রী-সহ বেশিরভাগ মন্ত্রীর ঘর বন্ধ৷ যাঁরা থেকে গিয়েছেন সেইসব কর্মী নিয়ম মেনে হাজিরা দিয়েছেন৷ পুলিশ কর্মীরা পাহারায়৷ বাইরের ওয়াচ টাওয়ারেও নিরন্তর নজরদারি৷ তবে স্বাভাবিকভাবেই আগের সেই জৌলুস উধাও৷ নেই ব্যস্ততা৷
অন্য দিকে সন্ধে সাতটার পরে নবান্ন থেকে যখন বেরোচ্ছেন মমতা, তখন বাইরে অপেক্ষায় হাজার হাজার মানুষ৷ নবান্নের কর্মীরাও এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে এসে তাঁকে সংবর্ধনা জানিয়ে যান৷ ২১১টি গোলাপ দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসকে স্মরণীয় করে রাখেন নবান্নে কর্মরত সাংবাদিকরাও৷ দিনের শেষে নিজের ঘরে পা দিয়ে খুব তৃপ্ত দেখাচ্ছিল মুখ্যমন্ত্রীকে৷ প্রচার শেষ করার পর মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মাথা উঁচু করেই আবার নবান্নে ঢুকবেন৷ নিজের সেই ইচ্ছা পূরণ করেছে বাংলার মানুষ৷ তাই শুক্রবার থেকেই মমতারও নতুন স্বপ্ন হল মানুষের প্রত্যাশা পূরণের৷
সর্বশেষ খবর
-
পালাবদলে বাড়ছে শক্তি! আরএসএস শিক্ষক সংগঠনে একধাক্কায় ৩০ হাজার সদস্যবৃদ্ধি
-
বড় ধাক্কা টিম ইন্ডিয়ার, আফগানিস্তান সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন বিরাট কোহলি!
-
পুলিশের জালে কলকাতার আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলর, এবার শ্লীলতাহানির অভিযোগ
-
হোমিওপ্যাথিই শ্রেষ্ঠ! পোস্ট করে বিপাকে অনুষ্কা শর্মা, ‘অশিক্ষিত সেলেব’ বলে কটাক্ষ চিকিৎসকের
-
বঙ্গভবনে ক্ষণিকের ‘সৌজন্য সাক্ষাতে’ই বদলাল রাজ্য রাজনীতির ভাগ্য! ঋতব্রতর আড়ালে কার হাত?