চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয় না। বেড়াতে যাওয়া মানেই মোটা টাকার ধাক্কা। সরকারি কর্মী বা বড় ব্যবসায়ীদের কাছে যা জলভাত তা অস্থায়ী কর্মীদের কাছে সহজ নয়। সাধ থাকলেও সাধ্যি না থাকায় স্বল্প রোজগেরে শ্রমিকরা পরিবার নিয়ে বেড়াতে যেতে পারেন না। তাই তাঁদের কথা মাথায় রেখে শ্রম দপ্তরের তরফে হলিডে হোমে বিশেষ ছাড়ের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এবার মাত্র ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা ভাড়া দিয়েই থাকতে পারবেন দার্জিলিং, দিঘা, বকখালি, গ্যাংটক ও পুরীর মতো টুরিস্ট স্পটে। রাজ্য শ্রম দপ্তরের হলিডে হোমে মিলবে এই সুযোগ। সুযোগের সদ্বব্যবহার করতে পারবেন রাজ্যের সংগঠিত ও অসংগঠিত শ্রমিকরা। তবে এই সুযোগ পাবেন শুধুমাত্র সামাজিক সুরক্ষা যোজনার আওতায় থাকা শ্রমিকরা। রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক জানান, মাত্র ২০ টাকায় পাওয়া যাবে সাধারণ রুম। ২০০টাকা ভাড়া দিয়েই এসি ডবল-বেড রুম নিয়ে হলিডে হোমে থাকতে পারবেন সংগঠিত ও অসংগঠিত শ্রমিকরা। তাই হলিডে হোমগুলিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।
[পুরস্কারের ফাঁদে কিশোর, মোবাইলের বদলে পার্সেলে এল নুড়িপাথর]
শ্রম দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দার্জিলিংয়ে ডবল বেড রুমের ভাড়া মাত্র ৫০ টাকা। গ্যাংটকের ক্ষেত্রে সেই রুম পাওয়া যাবে ১০০ টাকায়। দিঘাতে নন-এসি রুম মিলবে মাত্র ২০টাকায়। এসি ডবলবেড রুম হলে ৩০০টাকা। শুধু তাই নয়, বকখালি দিঘার মতো জায়গায় কটেজ করে দেওয়া হয়েছে শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য। ১০০ টাকাতে পাওয়া যাবে সেই সমস্ত কটেজ। হলিডে হোমের বিষয়টি দেখে রাজ্য শ্রম দপ্তরের ওয়েলফেয়ার বিভাগ। ওয়েলফেয়ার বিভাগের এক আধিকারিক জানান, যাঁরা শ্রম দপ্তরের সুরক্ষা যোজনার বাইরে তাঁরাও এই পরিষেবা পাবেন তবে তাঁদের মূল্য দিতে হবে সামান্য বেশী। যেমন দিঘা দার্জিলিংয়ের জন্য ১০০ টাকা ও আবার রাজ্যের বাইরে পুরী গ্যাংটকের জন্য ২০০টাকা ডবল বেডের জন্য।
শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, “বেশিরভাগ সময়েই রাজ্যের পর্যটনকেন্দ্র গুলিতে হোটেল ভাড়া দিয়ে অসংগঠিত শ্রমিকদের থাকার সামর্থ্য থাকে না। এসব কথা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় এই হলিডে হোমগুলিকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। রুমের সংখ্যা অনেক বাড়ানো হয়েছে। এরাজ্য তো বটেই রাজ্যের বাইরে পুরী বা গ্যাংটকের মতো জায়গায় ভাল হোটেল দেখে লিজ নিয়ে এই পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছ’বছর আগেও শ্রমিকরা শ্রম দপ্তর সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। এই দপ্তরের কী কাজ হয় সেটাও তাঁদের ধারণার বাইরে ছিল। এই কয়েক বছরে প্রায় এক কোটি শ্রমিককে সামাজিক সুরক্ষা যোজনার অন্তর্ভুক্ত করেছি আমরা।” তাঁর কথায়, শুধুমাত্র সংগঠিত শ্রমিকরাই নন, অসংগঠিত শ্রমিকদেরও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। বিভিন্ন ক্যাম্প করে শ্রমিকদের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকরা শ্রম দপ্তরের অফিসে গিয়ে একটি ফর্ম ফিলাপ করলেই এই যোজনার আওতায় চলে আসবেন। দু’কোটি শ্রমিককে এই যোজনার মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই কাজ হয়েছে।
[অমানবিক! বৃদ্ধা মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়াল গুণধর ছেলে]
সর্বশেষ খবর
-
বদলার ম্যাচে নিষ্ফলা মরক্কো, এমবাপে-দেম্বেলে জোড়া ফলায় সেমিফাইনালে ফ্রান্স
-
বিশ্বজয়ের পাঁচ মাসেই পথ হারাল টিম ইন্ডিয়া! আয়ারল্যান্ডের পর ইংল্যান্ডের কাছেও সিরিজ হার শ্রেয়সদের
-
মহারাষ্ট্রে ফের বিরোধী শিবিরে ভাঙন! পওয়ারের ‘অস্থিরচিত্ত’ বিধায়কদের ‘সন্দেহ’ কংগ্রেসের
-
১৬ বছর পর কলকাতা পেল মহিলা ওসি, একসঙ্গে রদবদল ৩৩ ইন্সপেক্টরের
-
খেয়াল রাখতে হবে অভিযোগকারিণীর মানসিক দিকটিও, লালবাজারে বিশেষ প্রশিক্ষণ ১৮৩ মহিলা পুলিশকে