শান্তনু কর, জলপাইগুড়ি: টার্গেট একশৃঙ্গ গণ্ডার। পঞ্চায়েত নির্বাচনের (Panchayat Election) ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে ডুয়ার্সের জঙ্গলে ঢুকে গণ্ডার শিকারের ছক কষেছে চোরাশিকারীরা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে ডুয়ার্সের গরুমারা জাতীয় উদ্যানজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করল বনদপ্তর। সতর্কতা জারি করা হয়েছে গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন একশৃঙ্গ গণ্ডারদের দ্বিতীয় ঠিকানা চাপরামারির জঙ্গলেও। গোয়েন্দা দপ্তর থেকে জানান হয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত থাকবে পুলিশ। ব্যস্ত থাকবে বনসুরক্ষা কমিটির সদস্যরা। এই সুযোগকে কাজে লাগাতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে উত্তর-পূর্বের চোরাশিকারীরা। স্থানীয় দুষ্কৃতীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছে তারা।
ডুয়ার্সের জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার দুষ্কৃতীদের সঙ্গে উত্তর পূর্বের অসম,মণিপুরের চোরাশিকারীদের যোগসূত্র নতুন নয়। সেই কারণে গোয়েন্দা দপ্তর সূত্রে খবর আসার পর বুধবার সকাল থেকে কার্যত নড়েচড়ে বসেছে বনদপ্তর। গরুমারা, চাপরামারি দুই জঙ্গলে হাই অ্যালার্ট জারি করে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে। এসএসবিকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় টহলদারি শুরু করেছেন বনকর্মীরা।জঙ্গল সংলগ্ন লোকালয় এবং বনবস্তি এলাকাতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কে শুরু হয়েছে নাকা চেকিং। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনের তালিকা তৈরি করেছে বনদপ্তর। তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হচ্ছে বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
[আরও পড়ুন: হিন্দু পরিচয়ে বিয়ে, স্ত্রীকে ধর্ষণে মদত, আদ্রার TMC নেতা খুনের মূলচক্রীর কীর্তিতে হতবাক পুলিশ]
এর আগে ২০১৪, ২০১৭, ২০১৮ তিন বছরে গরুমারার জঙ্গলে ঢুকে চারটি গণ্ডার খুন করে খড়্গ কেটে নিয়ে পালিয়ে যায় চোরাশিকারীরা। ২০১৭ গরুমারার জঙ্গলে জোড়া গণ্ডার খুনের ঘটনায় লিংডং মুয়াং নামে মণিপুরের বাসিন্দা এক চোরাশিকারিকে গ্রেপ্তার করে বনদপ্তর। ২০১৭ সালের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে গণ্ডার শিকার করতে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের সাহায্য নিয়ে গরুমারার জঙ্গলে ঢোকে মুয়াং। দু’টি গণ্ডার খুন করে খড়্গ নিয়ে মণিপুরে পালিয়ে যাওয়ার পথে অসম পুলিশ মুয়াংকে আটক করে। পরে বনদপ্তর মুয়াংকে গ্রেপ্তার করে জলপাইগুড়ি নিয়ে আসে। বর্তমানে জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল জেলে বন্দি এই শিকারি।
বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, গোয়েন্দা সূত্রে শিকারী হানার খবর আসার পরেই গরুমারা জাতীয় উদ্যানজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এসএসবি জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে যৌথ টহল শুরু হয়েছে। গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বনবস্তি এলাকা, পর্যটক আবাস এবং হোটেলের উপর নজর রাখা হচ্ছে।সন্দেহভাজন কারোর নজর পড়লেই জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বনকর্মীরা। ইতিমধ্যেই সন্দেহজনক কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছে বনদপ্তর। তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
[আরও পড়ুন: ‘ভুল কর্মীদের, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও ভুল নেই’, ভাঙড় কাণ্ডে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন আরাবুলপুত্র]
সর্বশেষ খবর
-
এবার মাদ্রাসাতেও জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা, নির্দেশিকা জারি স্বাস্থ্যদপ্তরের
-
বিশ্বকাপের ‘দ্বিতীয়’ উদ্বোধনী মঞ্চে আগুন ধরালেন নোরা, কানাডা কাঁপালেন ‘বাংলাদেশি’ ডিজে
-
জুটত না থালাভর্তি ভাতও! অভাবকে পরাস্ত করে আকাদেমি পুরস্কার পাচ্ছেন ২ ছৌ শিল্পী
-
‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যেতেই পদ খোয়ালেন মালা রায়, মহিলা তৃণমূলের নতুন সভানেত্রী কে?
-
সড়কপথে ৩৫০ কিমি পাড়ি, বাংলাদেশ পৌঁছলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী