দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: বর্ষাকে আহ্বান জানাতে রীতিমতো ভূরিভোজ, পাত পেড়ে খেলেন চুঁচুড়ার বাসিন্দারা। শনিবার চুঁচুড়ায় পালিত হল পান্তা উৎসব। প্রতিবছর বর্ষাকে আগমন জানাতেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘আরোগ্য’ এই পান্তা উৎসবের আয়োজন করে থাকে। এবারেও চুঁচুড়ার কারবালা মোড়ে ধুমধাম করে পালিত হল পান্তা উৎসব। এবছর এই উৎসব নবম বর্ষে পা দিল। প্রচন্ড গরমে যখন মানুষ হাসফাঁস করছে তখন এই পান্তা উৎসবকে কেন্দ্র করে মেতে উঠলেন চুঁচুড়াবাসী। এদিন এই উৎসবে প্রায় ৫০০জন অংশগ্রহণ করেন। পান্তাভাত-সহ অন্যান্য মুখরোচক খাদ্য দিয়ে দুপুরের আহার সারেন ও একযোগে বর্ষাকে আহ্বান জানান।
[উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর আপ্ত-সহায়ক পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত]
এদিনের পান্তা উৎসবে ছিল রাজকীয় আহারের আয়োজন। মেনু দেখে জিভে জল চলে আসার মতো ব্যাপার আর কি। মুখ্য খাবার ছিল পান্তাভাত, সঙ্গে আলু সেদ্ধ। খেতে বসে পাতে কাঁচা পিঁয়াজ, লঙ্কা ও গন্ধরাজ লেবু পড়তেই দৃশ্যটা বদলে গেল। লেবু মেখে পিঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা সহযোগে গ্রাস মুখে তুলতেই অতীতের সুখস্মৃতি একেবারে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়বে মানসপটে। সেই গ্রাম বাংলার আদি অকৃত্রিম হারিয়ে যাওয়ার পান্তার আস্বাদ। আধুনিকতার চাপে যখন প্রাতরাশের টেবিলে টোস্ট, ওমলেট, ফলের রসেরা ডাইনিং টেবিল দখল করেছে। তখন একটা দিন না হওয়ায় মাটির দাওয়ায় বসে পান্তা খাওয়ার গেঁয়ো স্মৃতি মনকে নাড়া দিয়ে গেল, ক্ষতি কি? এর হাত ধরে যদি চাঁদি ফাটা গরমে গ্রাম বাংলায় বৃষ্টি নামে তাহলে তো সোনায় সোহাগা।

ফিরে আসি পান্তা উৎসবে। ফাস্টফুড জ্বরে জর্জরিত বাঙালি যে আজও পান্তা পেলে সবার আগে তাকেই গুরুত্ব দেবেন, আজকের এই উৎসবের উদ্দীপনা যেন সেই কথাই বলছে। তবে মেনুর তখনও অনেকটাই বাকি। একে একে এল পোস্তর বড়া, ডালের বড়া, পিঁয়াজি, ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে ঘ্যাঁট, মৌরলা মাছের চচ্চড়ি, কাতলা মাছ, ভাপা ইলিশ আর শেষ পাতে চাটনি। মিষ্টিমুখের জন্য রইল আম, কাঁঠাল ও আইসক্রিম। পুরো মেনুই বলে দিচ্ছে বাঙালি আজও খাদ্যরসিক। এদিনের এই উৎসবে এলাকাবাসীর ছিল অবাধ প্রবেশাধিকার। কেউ কেউ বলেই ফেললেন, আকাশছোঁয়া দামের জন্য ইলিশ তো এখনও মুখেই তুলতে পারিনি। তবু পান্তা উৎসবের দৌলতে অন্তত ইলিশ তো খেতে পারলাম। আগত অতিথিরা জানান, প্রতিবছর এই দিনটার জন্য তাঁরা অপেক্ষা করে থাকেন। অন্যদিকে আয়োজক সংস্থার কর্ণধার ইন্দ্রজিৎ দত্ত জানান, বিগত ন’বছর ধরে তাঁরা এই উৎসব করছেন। বর্ষাকে আহ্বান করতেই এই উৎসবের সূচনা। এবং প্রতিবছর উৎসব পালনের পরই বর্ষা আসে। তাই তাঁদের ধারণা এবছরও পান্তা উৎসবের সঙ্গে সঙ্গে বাংলায় বর্ষা আসবে। এদিন এই উৎসবে বিশিষ্ট অতিথি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রত্না দে নাগ।
[ক্রেতা সেজে দোকানদারের নাবালিকা কন্যার শ্লীলতাহানি, গ্রেপ্তার প্রৌঢ়]
সর্বশেষ খবর
-
অযোধ্যা, বৈষ্ণো দেবীর পর চুরির অভিযোগ গুজরাটের অম্বাজি মন্দিরেও! সিসিটিভিই চিনিয়ে দিল অভিযুক্তদের
-
ফের রণক্ষেত্র মণিপুর! অসম রাইফেলসের ক্যাম্পে হামলা উন্মত্ত জনতার, একাধিক গাড়িতে আগুন
-
‘লাভ জেহাদ’-এর অভিযোগ থেকে ‘ফতোয়া’ জারি, নীরবতা ভেঙে আমির বললেন…
-
ফের বঙ্গে নিম্নচাপের ভ্রুকুটি! রথে দক্ষিণবঙ্গে প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা, কেমন থাকবে উত্তরের আবহাওয়া?
-
‘দম থাকলে ব্রিগেডে যান’, একুশে জুলাই নিয়ে ‘কালীঘাট তৃণমূল’কে তোপ দিলীপের