২ কার্তিক  ১৪২৬  রবিবার ২০ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সায়নী সেন: মানাসলু শৃঙ্গ জয় হয়েছে আগেই৷ সাফল্যের ঝুলিতে জুড়েছে প্রথম বাঙালি মহিলা হিসাবে শৃঙ্গজয়ের রেকর্ড৷ এবার লক্ষ্য এভারেস্ট৷ ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন চন্দননগরের পিয়ালি বসাক৷ আর্থিক সাহায্য নিয়েই চিন্তিত সাহসিনী পর্বতারোহী৷

[সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর আক্রমণের যোগ্য জবাব দিলেন নুসরত]

চন্দননগরের কাঁটাপুকুরের বাসিন্দা পিয়ালি৷ আপনজন বলতে বাবা, মা আর বোন ছাড়া কেউই নেই৷ ছোটবেলায় বইয়ের পাতায় প্রথম দেখা তেনজিং নোরগেকে৷ ব্যস! তখন থেকেই কিশোরীর মন দখল নিতে শুরু করে পাহাড়৷ ছোটবেলা বাবা-মায়ের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার জন্য পাহাড়কেই বারবার বেছে নিতেন পিয়ালি৷ আর পাঁচটা মেয়ে যখন খেলাধূলা, নাচ নিয়ে ব্যস্ত থাকত৷ কিশোরী পিয়ালি তখন তাইকোন্ডো আর সাঁতারে মজে৷ বরাবর সমাজের উলটো স্রোতে হাঁটাই অভ্যাস৷ একের পর এক বসন্ত কেটেছে, কৈশোর থেকে যৌবনে পা দিয়েছেন পিয়ালি৷ ভাললাগার পাহাড়ই তখন হয়ে উঠেছে তাঁর ভালবাসা৷ 

PIYALI-BASAK

[শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের পর পৃথক মহাভোজ, ফের প্রকাশ্যে বড়মার পরিবারের তরজা]

পাহাড়ের চড়াই-উতরাই যতই টানুক তাঁকে, পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটেনি৷ অঙ্কে স্নাতক এই পাহাড়প্রেমী৷ পড়াশোনা শেষ করে রুটিরুজির ইঁদুর দৌড়ে শামিল হননি পিয়ালি৷ কারণ ততক্ষণে প্রায় পুরো মনটাই দখল করে নিয়েছে পাহাড়৷ সেই টানে ‘হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট’-এ নাম লেখান সমাজের উলটো স্রোতে হাঁটা মেয়েটা৷ ২০১০ সালে মুলকিলা অভিযান সফল হয়৷ তার পরের বছরই কামেট৷ ২০১৩ সালে খারাপ আবহাওয়ায় ভাগীরথী ২ অভিযানে সাফল্য পাননি পিয়ালি৷ তাতেও লড়াকু মেয়ের মনের জোর এতটুকু টলেনি৷ ২০১৮ সালের জুনে তেনজিং নোরগের গ্রামে গিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান পিয়ালি৷ ওই বছরই পৃথিবীর অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ মানাসলুতে পা রাখেন৷

PIYALI-BASAK

সাহসিনীর এবার লক্ষ্য এভারেস্ট৷ চলতি বছর বাংলা থেকে একমাত্র পিয়ালিই এভারেস্ট অভিযানে যাচ্ছেন৷ এভারেস্টের পাশাপাশি ওই একই অভিযানে ৮,৫১৬ মিটার উচ্চতার মাউন্ট লোৎসের চূড়াতেও পা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে পিয়ালির৷ আপাতত দিল্লিতে রয়েছেন তিনি৷ কাজ মিটিয়ে ২৪ মার্চ পাড়ি দেবেন কাঠমাণ্ডুর উদ্দেশে৷ এর আগে ২০১৩ সালে হাওড়ার ছন্দা গায়েন এবং দমদমের টুসি দাস এভারেস্ট অভিযান করেন৷ তবে তাঁরা পিয়ালির থেকে দু’জনেই বয়সে বড়৷ তাই সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী মাসেই হয় তো কনিষ্ঠতম বাঙালি মহিলা এভারেস্ট অভিযানকারী হিসাবে সাফল্যের পালক জুড়তে পারে পিয়ালির মুকুটে৷ কিন্তু দুশ্চিন্তা একটাই, এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার জন্য প্রয়োজন ২৫ লক্ষ টাকা৷ সেই আর্থিক সাহায্য মিলবে তো? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং