নন্দন দত্ত, সিউড়ি: ঘরের ভিতর আগ্নেয়াস্ত্র-সহ চার ডাকাত। বাইরে বাড়ি ঘিরে ফেলে দাঁড়িয়ে পুলিশ। ঘন্টাদেড়েক পর দরজা ভেঙে ডাকাত ধরতে ঘরে ঢুকে পুলিশ দেখে ঘর ফাঁকা। সোনার দোকানের রুপোর গয়না নিয়ে চম্পট দিয়েছে ডাকাত দল। যদিও সেই দলকে ভোররাতের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ও ডাকাতি করা সামগ্রী-সহ পুলিশ ধরে ফেলে। সেকথা জানান রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্র।
জাতীয় সড়কের পাশে রামপুরহাট নিউটাউনের কাছে ভল্লা মোড়ে বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে হইচই শুরু হয়। ওই এলাকায় একটি বাড়ি লাগোয়া ইমাম মন্ডলের সোনার দোকানে ঢুকে পরে চারজনের সশস্ত্র ডাকাত।বাড়িতে থাকা মমতাজ বেগম জানান, তিনি তখন নমাজ পড়ছিলেন। তখনও তারাবি পড়া শেষ হয়নি। তখন তাঁর কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে নগদ টাকা ও সোনা দাবি করে। মমতাজ বেগম জানান, “দেখি আমার স্বামীর কপালেও আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়েছে। আমি তাদের বলি যা নেওয়ার নাও। কিন্তু স্বামী অসুস্থ তাকে ছেড়ে দাও। এরপর তারা আমার কানের সোনার দুল, স্বামীর হাতের সোনার আংটি খুলে নেয়। ঘরের খাট বিছানা তুলে তছনছ করে টাকার খোঁজ করে। আমি সুযোগ বুঝে দরজায় শিকল তুলে বাইরে পালিয়ে আসি। কিছুক্ষণ পরে সোনার দোকানের শাটার নামিয়ে স্বামীও চলে আসে।আমাদের ডাকে লোকজন জড়ো হয়।”
[আরও পড়ুন: প্রখর দাবদাহে পুরুলিয়ার জঙ্গলে আগুন, নেভাতে গিয়ে ডিহাইড্রেশনে আক্রান্ত বনকর্মীরা]
তারাই পুলিশকে খবর দেয়। মাড়গ্রাম থানার পুলিশ সঙ্গে রামপুরহাট থানা, নলহাটি থানার পুলিশ হাজির হয়। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক হ্যান্ড মাইকে ডাকাতদের আগ্নেয়াস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দেয়। ঘন্টাদেড়েক টানাপোড়েনের পর দরজা খুলে পুলিশ ভিতরে ঢুকে দেখে দোকান তছনছ করে ডাকাতদল পালিয়েছে। পুলিশ দাবি করে, পাঁচিল টপকে ডাকাতদল বাড়ির ভিতরে ঢুকেছিল। মিনিট পনেরোর মধ্যে তারা কাজ শেষ করে আবার পাঁচিল টপকে পিছনের মাঠ দিয়ে পালিয়েছে। সেদিকেই দু’টি নম্বরবিহীন মোটর বাইক পায় পুলিশ। তারই সূত্র ধরে সকালের মধ্যেই চারজনকে ধরে ফেলে। যারা সকলেই রামপুরহাট থানা এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে তারা কাদাসিম গ্রামের বাসিন্দা রোহন শেখ, বড়পাকুড়িয়ার লালু শেখ, শ্রীপুরের আঙ্গুর শেখ ও বগটুই গ্রামের বাবাই শেখ। ধীমান মিত্র দাবি করেন, তাদের কাছে একটি নাইন এম এম পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি কার্তুজ ও দুটি মোটরবাইক উদ্ধার করা গিয়েছে। সঙ্গে ইমাম শেখে বাড়ি থেকে ডাকাতি করা সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।কিন্তু সন্ধেবেলা জাতীয় সড়কের পাশে কী করে এত বড়সড় ডাকাতির ছক কষেছিল ডাকাতরা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্র জানান, তার তদন্ত চলছে। এর সঙ্গে আরও কোনও দল যুক্ত কিনা তা খতিয়ে দেখা চলছে। তবে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পুলিশ ছিল। তাই দ্রুত ডাকাতদের ধরতে পেরেছেন তারা।
[আরও পড়ুন: ৩০০ কোটির ঘুষ মামলায় জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন রাজ্যপাল সত্যপালকে সমন CBI-এর]
সর্বশেষ খবর
-
মন্দিরের প্রণামী বাক্স ‘দখলের চেষ্টা’র অভিযোগ, কী বলছেন বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথের স্বামী?
-
চেতলা অগ্রণীর দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে শুভেন্দু অধিকারী! চক্ষুদান করবেন? কী জানাল ক্লাব
-
রাষ্ট্রপতি সফরে প্রোটোকল ভঙ্গ, অভিযুক্ত আমলাকে ‘রিলিজ’ নবান্নের
-
প্রণব রায়ের বিরুদ্ধে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সিএবি’তে, পঙ্কজ-পুত্রের পালটা, ‘সব অপপ্রচার’
-
‘দরিদ্র সেবাই শিবের পুজো’, বিবেকানন্দের মন্ত্রে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা খুললেন জীতু