Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
বঙ্গে পালাবদল
Arambag

আরামবাগে দুর্নীতির অট্টালিকা! তৃণমূলী দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফুঁসছে গ্রাম, কাটমানি ফেরত চেয়ে পোস্টার

দুই ভাইয়ের এই প্রতিপত্তির উৎস আসলে কাটমানি, তোলাবাজি ও দুর্নীতি টাকা থেকেই বলে দাবি এলাকার মানুষের। শুধু প্রভাব-প্রতিপত্তিই নয়, তৃণমূল নেতা ও তার দলবলের লালসার শিকার হতে হয়েছে বহু মহিলাকেও।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: মে ২৫, ২০২৬, ১৫:৩৯

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: মে ২৫, ২০২৬, ১৫:৩৯

options
link
আরামবাগে দুর্নীতির অট্টালিকা! তৃণমূলী দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফুঁসছে গ্রাম, কাটমানি ফেরত চেয়ে পোস্টার zoom
আরামবাগে দুই তৃণমূলী ভাইয়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফুঁসছে গ্রাম।

দিনের পর দিন অত্যাচার। লাগামহীন তোলাবাজি, কাটমানি। তৃণমূল জমানায় উল্কার গতিতে উত্থান হয়েছে আরামবাগের () দুই ভাইয়ের। গোঘাটের দুই তৃণমূল নেতা শাহাবুদ্দিন ও গিয়াসউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগে ফুঁসছে গ্রাম। বাংলা থেকে ‘ভয় আউট’ হতেই আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ডুবে থাকা দুই নেতার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। কাটমানির টাকা ফেরানোর দাবিতে বাড়িতে পড়ল পোস্টার।

দাদা শাহাবুদ্দিন খান একসময় গোঘাট-২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ও ব্লক তৃণমূলের সভাপতির পদ পান। তারপর কয়েকবছর কার্যত গোটা গোঘাট শাসন করতে থাকেন। দাদার হাত ধরেই রাজনীতিতে উত্থান ভাই গিয়াসউদ্দিনের।

একসময় জরাজীর্ণ মাটির বাড়ি থেকে তিনতলা অট্টালিকা। তৃণমূল আমলে পদে বসেই উল্কার গতিতে উত্থান। এক দশকে এলাকার ত্রাস হয়ে ওঠে দুই ভাই। রাজ্যে পালাবদল হতেই কাটমানি ও দুর্নীতির টাকা ফেরত চেয়ে এবার ওই দুই তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে পড়ল পোস্টার। গোঘাটের শ্যামবাজারে এই ঘটনায় শোরগোল। দাদা শাহাবুদ্দিন খান একসময় গোঘাট-২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ও ব্লক তৃণমূলের সভাপতির পদ পান। তারপর কয়েকবছর কার্যত গোটা গোঘাট শাসন করতে থাকেন। দাদার হাত ধরেই রাজনীতিতে উত্থান ভাই গিয়াসউদ্দিনের। ২০১৮ সালে শ্যামবাজার পঞ্চায়েতের প্রধান পদে বসার পর থেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাটির বাড়ি ছেড়ে তিনতলা পেল্লাই বাড়ি।

Advertisement

দুই ভাইয়ের এই প্রতিপত্তির উৎস আসলে কাটমানি, তোলাবাজি ও দুর্নীতি টাকা থেকেই বলে দাবি এলাকার মানুষের। শুধু প্রভাব-প্রতিপত্তিই নয়, তৃণমূল নেতা ও তার দলবলের লালসার শিকার হতে হয়েছে বহু মহিলাকেও।

দুই ভাইয়ের এই প্রতিপত্তির উৎস আসলে কাটমানি, তোলাবাজি ও দুর্নীতি টাকা থেকেই বলে দাবি এলাকার মানুষের। শুধু প্রভাব-প্রতিপত্তিই নয়, তৃণমূল নেতা ও তার দলবলের লালসার শিকার হতে হয়েছে বহু মহিলাকেও। এমনকী নেতারা বাজারের ব্যাগ নিয়ে গেলে বিনা পয়সায় সব্জির ব্যাগ ভরে দিতে হতো বিক্রেতাদের। প্রতিবাদ করলেই মারধর, বাড়ি ভাঙচুর, আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদল হতেই এবার মুখ খুলছেন এলাকার মানুষ।

গোঘাট ২-এর বিজেপির মণ্ডল সভাপতি তমাল ঘোষের অভিযোগ, “একুশের ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসে যুক্ত তৃণমূল নেতারা। কোনও পুলিশকে এলাকায় থাকতে দিত না। বহু খুন করেছে তৃণমূল নেতারা। ভোটের রেজাল্টের আগের দিন পর্যন্ত ধমক-চমক দিয়েছে।”

গোঘাট ২-এর বিজেপির মণ্ডল সভাপতি তমাল ঘোষের অভিযোগ, “একুশের ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসে যুক্ত তৃণমূল নেতারা। কোনও পুলিশকে এলাকায় থাকতে দিত না। বহু খুন করেছে তৃণমূল নেতারা। ভোটের রেজাল্টের আগের দিন পর্যন্ত ধমক-চমক দিয়েছে। মহিলারা ভয়ে সন্ধের পর বাড়ি থেকে বেরতে পারত না।” পাল্টা অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা গিয়াসউদ্দিন খানের দাবি, “সব ঘটনা মিথ্যা। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”

বঙ্গে নির্বাচনে মানুষের আস্থা পেতে ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ প্রচারেই জোর দিয়েছিল বিজেপি। তৃণমূল জমানায় দিকে দিকে হিংসা-সন্ত্রাসের অভিযোগ থেকে মানুষকে ভয়মুক্ত পরিবেশ দেওয়াকেই পাখির চোখ করে প্রচার চালিয়েছিলেন নেতারা। জনতার রায়ে বিজেপির পালে হাওয়া লাগতেই এবার মুখ খুলতে শুরু করেছেন মানুষ। বিচারের আশায় নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে আরামবাগ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.