সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: দলের দুই কর্মীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এবার ওই কর্মীদের পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে অবস্থানে বসল বিজেপি। পুরুলিয়ার বলরামপুরের সুপুরডি গ্রামের বাসিন্দা ত্রিলোচন মাহাতো ও ডাভা গ্রামের দুলাল কুমারের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত মঙ্গলবার থেকে শহরে মিছিল করে জেলাশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান শুরু করে পুরুলিয়া জেলা বিজেপি। এই অবস্থান আপাতত ৮ তারিখ পর্যন্ত চলবে। তবে এই অবস্থান বিক্ষোভের সময়সীমা আরও বাড়তে পারে। বুধবার শহর পুরুলিয়ার মানভূম ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশন থেকে বেলা বারোটা নাগাদ মিছিল শুরু হয়। তারপর শহর পরিক্রমা করে জেলাশাসক কার্যালয় তথা জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত অবস্থান চলে।
এদিন অবস্থান বিক্ষোভের কর্মসূচি ছাড়াও ওই পরিবারের সদস্যরা মিছিলেও হাঁটেন। এছাড়া মিছিল ও অবস্থান বিক্ষোভে ছিলেন রাজ্য মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় ও রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু। তারা ৮ তারিখ পর্যন্ত এই অবস্থানে থাকবেন। এদিনের অবস্থান বিক্ষোভ থেকে ওই পরিবারগুলির সদস্যরা দাবি করেন, এই দুই ঘটনার কিনারায় সিবিআই তদন্ত চাই। তাদের সিআইডিতে ভরসা নেই। এদিকে আজ, বৃহস্পতিবার অবস্হান বিক্ষোভে শামিল হবেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা। তাছাড়া আগামী ১১ জুন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই জেলায় ওই দুই মৃত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে যাবেন। তাছাড়া আগামী ২৮ জুন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহও বলরামপুরে এই দুই কর্মীর বাড়িতে যাবেন। ওই ব্লক শহরে তিনি রাজনৈতিক সভাও করবেন বলে জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিকে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর সফরে প্রস্তুতিও শুরু করেছেন জেলা বিজেপির নেতা-কর্মীরা। ওই সফরকে ঘিরে তারা ইতিমধ্যেই প্রচার চালাচ্ছেন।
এদিন মানভূম ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশন থেকে দলের পতাকা, ব্যানার নিয়ে মিছিল শুরু হয়। সঙ্গে ছিল প্ল্যাকার্ডও। সেখানে লেখা ছিল ত্রিলোচন মাহাতো ও দুলাল কুমারের ‘খুনি’দের শাস্তি দিতে হবে। মিছিল থেকে স্লোগানও ওঠে। এদিন মৃত ত্রিলোচন মাহাতোর বাবা হাড়িরাম মাহাতো ও তার দাদা বিষ্ণুপদ মাহাতো এবং মৃত দুলাল কুমারের বাবা মহাবীর কুমার মিছিলে হেঁটে জেলা প্রশাসনিক ভবনের মুখোমুখি অবস্হান বিক্ষোভে আসেন। মহাবীর কুমার বলেন, “আমার ছেলেকে অপহরন করে জীবন্ত অবস্হায় বিদ্যুতের টাওয়ারে ঝুলিয়ে খুন করা হয়েছে। অথচ পুলিশ বলছে আত্মহত্যা। তাই আমরা এই ঘটনায় সিবিআই চায়।” একই কথা ত্রিলোচন মাহাতোর বাবা হাড়িরাম মাহাতোর। তাঁর কথায়, “ভোটের আগেই তৃণমূল বলেছিল বিজেপি করছিস শেষ করে দেব। ওরা পরিকল্পিতভাবে খু্ন করে পোস্টারেও সেই কথা লিখে দিয়ে গেল। অথচ পুলিশ এখনও ‘খুনি’-দের গ্রেপ্তার করতে পারছে না। তাই আমরাও পুলিশি উদাসীনতার বিরুদ্ধে মিছিলে হেঁটে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হয়েছি।”
ছবি- সুনীতা সিং
সর্বশেষ খবর
-
রোজ ইনসুলিনের ঝামেলা শেষ! কীভাবে কাজ করবে বিশ্বের প্রথম সাপ্তাহিক ইনসুলিন?
-
বিশ্বকাপের ক্ষত না শুকোতেই ইঙ্গিতবাহী পোস্ট! রোনাল্ডোর মন্তব্যে দ্বিধাবিভক্ত নেটপাড়া
-
জীবিত ব্যক্তির পাঁজর ভেঙে ‘ডানা’! সত্যিই কি নিষ্ঠুরতা আর ভাইকিং ছিল সমার্থক?
-
অধিকৃত কাশ্মীরে গণহত্যার ছক পাকিস্তানের! বিদ্রোহ দমনে আরও ৪০০০ সেনা, ৭ রেঞ্জার্স উইং
-
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে টানা ১৪ দিন অনশন, অসুস্থ সোনম ওয়াংচুক বলছেন, ‘আমি গান্ধী নই’