সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: কাল তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন অমিত শাহ, আজ তাঁরা তৃণমূল ভবনে। জনসম্পর্ক অভিযানের অংশ হিসেবে পুরুলিয়া ১ নং ব্লকের লাগদা গ্রামের দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই শাসকদলে যোগ দেওয়ার জন্য তৃণমূল ভবনে গেলেন শিশুবালা রাজওয়াড় এবং অষ্টমী রাজওয়াড় নামের ওই দুই গৃহকর্ত্রী। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন দুই পরিবারের আরও দুই সদস্য।
[দার্জিলিংয়ের ভোটার তালিকা থেকে কাটা পড়ল বিমল গুরুংয়ের নাম]
স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের দাবি, অমিত শাহ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরই তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন শিশুবালা দেবী এবং অষ্টমী দেবী। যোগাযোগ করেন স্থানীয় জেলা নেতাদের সঙ্গে। তারপরই ওই দুই পরিবারকে দলে যোগদান করানোর জন্য কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা করিয়ে দিয়েছে জেলা নেতৃত্ব। গতকাল রাতেই তাঁরা পুরুলিয়া থেকে রওনা দেন কলকাতার উদ্দেশ্যে। আজ সাতসকালেই হাজির হয়েছেন তৃণমূল ভবনে। আপাতত তাঁরা রয়েছেন সেখানেই। স্থানীয় বিজেপি নেতাদের দাবি, দুই পরিবারই বিজেপি সমর্থক। কিন্তু অমিত শাহের সফরের পরই তাঁদের ভয় দেখিয়ে দলে যোগদান করানোর চেষ্টা করছে শাসক দল। বিজেপি জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ওই দুই পরিবার বিজেপিকেই সমর্থন করেন, কিন্তু তৃণমূল তাদের ভয় দেখিয়ে কলকাতায় এনেছে । যথারীতি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসক দল।
[খোঁজ মিলল টিটাগড় থেকে নিখোঁজ মা-মেয়ের, গ্রেপ্তার গৃহবধূর প্রেমিক]
বছর খানেক আগে নকশালবাড়িতে যে ঘটনা ঘটেছিল এ যেন তারই পুনরাবৃত্তি। জনসংযোগ অভিযানের অংশ হিসেবে নকশালবাড়ির মোহালি পরিবারে মধ্যাহ্নভোজন করেছিলেন অমিত শাহ। দিন দু’য়েক বাদেই তৃণমূলে যোগ দেয় সেই মোহালি পরিবার, তাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন উত্তরবঙ্গে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। সেই ঘটনায় রীতিমতো বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল বিজেপি নেতৃত্বকে। প্রায় একই ধাঁচে পুরুলিয়ার এই দুই পরিবারকে দলে টেনে বিজেপি সভাপতির বিড়ম্বনা বাড়াল শাসকদল।
[লোকাল ট্রেনের ছাদে উঠে ঘোরাঘুরি যুবকের, চাঞ্চল্য ছড়াল চুঁচুড়া স্টেশনে]
অমিত শাহ রাজ্যে এসে ঢাকঢোল পিটিয়ে তৃণমূল উৎখাতের ডাক দিচ্ছেন। অথচ যাঁদের সঙ্গে তিনি দেখা করছেন, বা যাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন ২৪ ঘণ্টাও তাদের নিজেদের দলে টিকিয়ে রাখতে পারছে না রাজ্য নেতৃত্ব। শুধু এই দুই ঘটনা নয়, এর আগেও বিজেপি সভাপতির বিড়ম্বনা বাড়িয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। তৃণমূলের দাবি, এই ঘটনা রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই প্রকাশ্যে আনছে। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির রাজনীতিতে প্রবেশ করার পর অমিত শাহ-র রাজ্য সফরের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষিতেও। তাই বিজেপি সভাপতির সফরে নজর রয়েছে গোটা দেশের। পুঙ্খানুপুঙ্খ অমিত শাহ-র সফরের দিকে নজর রাখছে জাতীয় সংবাদমাধ্যম। এহেন সফরে এহেন বিড়ম্বনা কীভাবে চাপা দেবে রাজ্য বিজেপি? নেতাত তৃণমূলের সন্ত্রাসের উপর দোষ চাপিয়েই কি দায় এড়াতে পারবেন দিলীপ ঘোষরা, প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের।
সর্বশেষ খবর
-
‘ভারত থেকে অনেক কামাচ্ছি’, নতুন শুল্ক ঘোষণার পরই ‘প্রিয় বন্ধু’ মোদির প্রশংসায় ট্রাম্প
-
‘উচ্চতর মেধাকে নিম্ন পদে নয়’, উচ্চশিক্ষা গোপন করা নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট
-
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের দিনই তৃণমূলের সাংসদ ভাঙন? জল্পনায় আরও চাপে কালীঘাট!
-
‘সিনেমাতেই মনোযোগ দিতে চাই’, ‘ফুলপিসি’তে বিনির চরিত্রে প্রশংসিত হতেই ভবিষ্যৎ ভাবনা শ্যামৌপ্তির
-
৫ জুন ২০২৬: মীন রাশির আজকের দিন