Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Raghunathpur

আলোয় আঁধার! বছর না ঘুরতেই বাতিস্তম্ভের জরাজীর্ণ দশা রঘুনাথপুরে

গোটা ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়ে রঘুনাথপুর মহকুমাশাসকের কাছে অভিযোগ করেন রঘুনাথপুর শহর কংগ্রেস সভাপতি তারকনাথ প্রামানিক।

Advertisement
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১৪:৫১

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১৪:৫১

options
link
আলোয় আঁধার! বছর না ঘুরতেই বাতিস্তম্ভের জরাজীর্ণ দশা রঘুনাথপুরে zoom

বছর না ঘুরতেই গ্রিন সিটি মিশন প্রকল্পের আলো জ্বলছে না শিল্পশহর রঘুনাথপুরে (Raghunathpur)। প্রায় ৮-৯ মাস আগে রঘুনাথপুর পুরসভা ওই প্রকল্পে এই শিল্পশহরের যে সকল বিশেষ বিশেষ জায়গায় বাতিস্তম্ভ বসিয়েছিল, তার মধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গা এখন আঁধার। প্রায় প্রত্যেকটি বাতিস্তম্ভে মরচে পড়ে গিয়েছে। কয়েকটি জায়গায় বাতিস্তম্ভ হেলে পড়েছে। এই ঘটনায় রঘুনাথপুর পুরসভা এতটাই উদাসীন যে সাধারণ মানুষজনকে সম্মিলিতভাবে সেই আলো ঠিক করতে হচ্ছে। কিন্তু তৃণমূল পরিচালিত এই পুরসভার কোনও হুঁশ নেই বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় রঘুনাথপুর শহর কংগ্রেস কমিটি প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বেনিয়মের অভিযোগ তুলে রঘুনাথপুরের তৃণমূল পুরপ্রধান তরনি বাউরিকে কাঠগড়ায় তুলেছে। এই গোটা ঘটনার তদন্ত-র দাবি জানিয়ে রঘুনাথপুর মহকুমাশাসকের কাছে অভিযোগ করেন রঘুনাথপুর শহর কংগ্রেস সভাপতি তারকনাথ প্রামানিক। তবে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে রঘুনাথপুর মহকুমাশাসক বিবেক পঙ্কজ-র প্রতিক্রিয়া নিতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোন সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করেও উত্তর মেলেনি। অন্যদিকে যে তৃণমূল পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই তরনি বাউরি বলেন, “আমি মিটিংয়ে আছি।” তারপরেই ফোন কেটে দেন।

পুরুলিয়ার শিল্পশহর রঘুনাথপুরের আইটিআই এলাকায় পথবাতি বেহাল। নিজস্ব চিত্র।

বিধানসভা ভোটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরসভা থেকে এই শিল্পশহরের মানুষজন আলো সংক্রান্ত পরিষেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ জমছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রঘুনাথপুর আসনে হেরে যায় তৃণমূল। বর্তমানে এই পুর শহরে শাসক দলের অবস্থা আরও খারাপ। তারপরও পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে টনক নড়েনি পুর কর্তৃপক্ষের। শাসকদলের কাউন্সিলররা দলের পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে বেনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন। ফলে রাজ্য প্রশাসক বসিয়েছিল। কিন্তু হাই কোর্টের নির্দেশে ওই পুরপ্রধান আবার চেয়ারে বসেন। রঘুনাথপুর শহর কংগ্রেসের সভাপতি তারকনাথ প্রামানিক বলেন, “গ্রিন সিটি মিশন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া এক বছরও হয়নি। অথচ ওই প্রকল্পের বিভিন্ন বাতিস্তম্ভে আলো জ্বলছে না। কোথাও কোথাও বাতিস্তম্ভ হেলে গিয়েছে। প্রায় সব বাতিস্তম্ভ মরচে পড়ে গিয়েছে। ফলে সেগুলো আর টেকসই হবে না। কথা ছিল বাতিস্তম্ভে যাতে মরচে না পড়ে তার জন্য পাউডার কোটিং করার। ওই কাজ করলে বৈদ্যুতিক শক থেকেও রক্ষা মেলে। তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা এসব কোনো কাজই করেনি। এই কাজে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বেনিয়ম হয়েছে বলে আমাদের কাছে খবর এসেছে। এই বেনিয়মে যুক্ত পুরপ্রধান। অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত চাই। সেই কারণেই আমরা রঘুনাথপুর মহকুমাশাসকের কাছে অভিযোগ করেছি।” যদি এই ঘটনার কোন তদন্ত না হয় তাহলে রঘুনাথপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেস বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে সেই কথাও রঘুনাথপুর মহকুমা প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছে।

Advertisement

গ্রিন সিটি মিশন প্রকল্পে নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে নন্দুয়ারা মোড় অর্থাৎ সাত, আট, নয়, দশ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় পথবাতি বসানো হয়েছিল। এছাড়া ওই আলো বসানো হয়েছিল রঘুনাথপুর মহকুমা স্টেডিয়াম থেকে আইটিআই পর্যন্ত। এটি ১১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া এক নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় বাঁকুড়া রোডের ট্রাফিক মোড় থেকে লোহারপুল এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় চেলিয়ামা যাবার রাস্তায় ট্রাফিক মোড় থেকে চাটান কালি। ওই ওয়ার্ডেই রঘুনাথপুর এ টিম গ্রাউন্ড থেকে শ্মশান পর্যন্ত এই পথবাতি বসানো হয়। তার মধ্যে নন্দুয়াড়া মোড়ের কাছে অধিকাংশ পথবাতিতে আলো জ্বলছে না। একই অবস্থা আইটিআই-র কাছেও। সেখানে একটি স্তম্ভ কার্যত হেলে পড়েছে। রঘুনাথপুর এটিম গ্রাউন্ড থেকে শ্মশান পর্যন্ত ওই এলাকায় কিছু বাতি না জ্বললেও শ্মশান কমিটির উদ্যোগে তা ঠিক করা হয়। বিভিন্ন কবরস্থানেও এই পথবাতি বসানো হয়। শহরের মানুষের অভিযোগ, এক বছর আগে এই প্রকল্পের কাজ হওয়ার পরেও এমন কেন অবস্থা? কেন আলো জ্বলবে না? শহরবাসীর এই প্রশ্নের কোন উত্তর-ই দিতে পারছে না তৃণমূল পরিচালিত ওই পুরসভা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.