সুমিত বিশ্বাস,পুরুলিয়া: দলের নির্বাচনী বৈঠক সেরে বাড়ি ফেরার পথে বিজেপির হামলায় আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের যুব নেতা। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে জখম হয়েছেন আরেক তৃণমূল কর্মী-সহ তাঁর দুই ভাই। সোমবার রাতে পুরুলিয়ার বরাবাজার থানার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে লাঠি, লোহার রড, কুড়ুল-সহ একাধিক ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিজেপির হামলায় দুই তৃণমূল কর্মী-সহ মোট চারজন জখম হয়েছেন। তাঁরা এখন দেবেন মাহাতো পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
[ রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তাল বরাবাজার, মেডিক্যাল অফিসারের মাথা ফাটানোর অভিযোগ ]
জখম চার জনের মধ্যে তৃণমূল নেতা তথা অঞ্চল যুব সভাপতি মনোজিৎ মাহাতোর চোট গুরুতর। তাঁর মাথার তিন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের চোট রয়েছে। এছাড়া গোটা শরীরে আরও একাধিক চোট আছে। রাতের ওই ঘটনার পর এই চারজনকে বরাবাজার ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হলে তাদের চোট গুরুতর থাকায় রেফার করে দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে কোনও অ্যাম্বুল্যান্স না থাকায় তৃণমূল কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার বিপ্লব মণ্ডলের মারধর করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ওই চিকিৎসকের মাথা ফেটে গিয়েছে। এদিকে ওই জখম তৃণমূলকর্মীদের ঝাড়খণ্ডের টাটা মেন হাসপাতালে ভরতি করা হলেও সেখানে বিজেপি প্রভাব খাটায় বলে অভিযোগ। তাঁরা তৃণমূল কর্মী হওয়ায় তাঁদের সেভাবে চিকিৎসা না করে ফেলে রাখা হয়েছিল। তাই এদিন সন্ধ্যায় তাঁদের সকলকে পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। জখম তৃণমূল নেতা মনোজিৎ মাহাতোর স্ত্রী প্রতিমা মাহাতো এবার বরাবাজার পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী। এই হামলার ঘটনায় ওই যুব নেতার বাবা তথা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণেশ চন্দ্র মাহাতো মোট ৩৬জন বিজেপি নেতা-কর্মীর নামে অভিযোগ করেছেন। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাস মঙ্গলবার রাতে বলেন, “ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট এগারোজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।” তবে এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ তৃণমূল রাজেন মাহাতো নামে তাদের এক কর্মীর বাড়িতে হামলা করে তার মোটরবাইক পুড়িয়ে দিয়েছে। তবে এই অভিযোগ স্বীকার করতে চায়নি তৃণমূল।
[ মিড-ডে মিলের লোভে প্রাথমিক স্কুলে হাতির হানা, আতঙ্ক ছড়াল ডুয়ার্সে ]
বরাবাজার ব্লকের ওই নিশ্চিন্তপুর গ্রামটি তুমড়াশোল গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে। ঝাড়খণ্ড লাগোয়া ওই গ্রামে কিছুদিন ধরেই দেওয়াল লেখাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ঝামেলা চলছিল। গত সোমবার সকালেও এই নিয়ে তৃণমূল-বিজেপির ঝামেলা বাধে। তৃণমূল যেসব দেওয়ালে লিখবে বলে আগে থেকে বুক করে নেয়, সেখানে বিজেপি তাদের প্রতীক এঁকে দেয় বলে অভিযোগ। তৃণমূল এই বিষয়ে সরব হলেই উভয় পক্ষের ঝামেলা বাধে। তারপর ওইদিন রাত সাড়ে আটটা নাগাদ লাগোয়া বেলডি মোড় থেকে নির্বাচনী বৈঠক সেরে মোটরবাইক করে বাড়ি ফেরার সময় মনোজিৎ মাহাতোর উপর প্রায় তিরিশ জন বিজেপি নেতা-কর্মী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ওই বাইকে থাকা তৃণমূলকর্মী তপন মাহাতোও তাদের হামলায় আক্রান্ত হন। এই খবর পেয়ে মনোজিতের দাদা সুজিত ও বিশ্বজিৎ ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তারপর হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূল লাঠি নিয়ে বরাবাজারে মিছিল করে। ওই মিছিল থেকে বিজেপির ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ। এদিন ওই মিছিল শেষে বরাবাজারের বাসিন্দা তথা জেলা পরিষদের সদস্য সুমিতা সিং মল্ল ও বরাবাজার পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী সহ-সভাপতি প্রতুল মাহাতো বলেন, “বিজেপি বুঝে গিয়েছে তারা এই এলাকার সব আসনে হারবে। তাই এলাকাকে অশান্ত করে তুলছে।” কিন্তু এই গোটা ঘটনাকে বিজেপি তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব বলছে। বিজেপির জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, “এটা তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের ফল। আমাদের নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হচ্ছে।”
ছবি- অমিত সিং দেও
সর্বশেষ খবর
-
বান্ধবীর বাবার ‘যৌন লালসা’র শিকার তরুণী, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত
-
গুলির অবস্থান জানতে ডিজিটাল এক্স রে, ৩ সদস্যের নজরদারিতে বারুইপুরের প্রভাসের ময়নাতদন্ত
-
ভারতীয়দের বিপদ বাড়ছে? এইচ ১বি দুর্নীতিতে ট্রাম্পের ‘সন্দেহভাজন’ তালিকায় কগনিজ্যান্ট!
-
কোথায় হতে পারে ২১ জুলাই পালন? বিকল্প জায়গা জানাতে রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে ঋতব্রত শিবির
-
হরমুজে জাহাজ চলতে দেওয়া হোক, ট্রাম্পের ‘ভয়ংকর হামলা’র পরই সংযত থাকার বার্তা ভারতের