১২ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

কঠিন প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে রবিবাসরীয় প্রচারে রাহুল-লকেট

Published by: Tanujit Das |    Posted: March 24, 2019 5:28 pm|    Updated: April 22, 2019 4:04 pm

An Images

রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ও দেবাদৃতা মণ্ডল: ‘আগেরবার ৫০ হাজার ভোটে হেরেছি৷ এবার কত ভোটে জিতব তারই প্রচার চলছে৷’ প্রতিপক্ষ তৃণমূলের প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঠিক এভাবেই কটাক্ষ করলেন উত্তর কলকাতার বিজেপির প্রার্থী রাহুল সিনহা৷ স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, ‘‘তৃণমূল কংগ্রেস এখন অতীত, এবার এই কেন্দ্র পদ্মফুল ফুটবে৷ মানুষ মোদিজীর নেতৃত্বে নয়াদিল্লিতে শক্তিশালী সরকার গড়তে চাইছে৷’’

[ আরও পড়ুন: চড়া রোদেই হেঁটে প্রচার তৃণমূল প্রার্থী মালা রায়ের, রং-তুলিতে দেওয়াল লিখন শোভনদেবের  ]

মধ্য কলকাতার ঠনঠনিয়া কালি বাড়িতে পুজো দিয়ে রবিবার প্রথমদিনের প্রচার শুরু করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি৷ এরপর মধ্য কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, গলিতে গলিতে প্রচার করেন৷ পায়ে হেঁটে মানুষের কাছে পৌঁছান৷ তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনেন৷ কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্পের কথা যতটা সম্ভব মানুষের সামনে তুলে ধরেন৷ অভিযোগ করেন, তোলাবাজি ও লুটপাটের যে সরকার তৃণমূল চালাচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষ বিরক্ত৷ তিনি জানান, ‘‘মানুষ সাড়া দিচ্ছে৷ মানুষ সদর্থক ভাবে বিজেপিকে চাইছে৷ কারণ তাঁরা বুঝতে পারেছেন বিজেপিই একমাত্র বিপল্প৷ অর্থাৎ আমি এই কেন্দ্র থেকে জয়ের বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত৷’’

গঙ্গার এপাড়ে যখন হাঁটছেন রাহুল সিনহা, তখন ওপাড়ে প্রচারে ঝড় তুলেছেন হুগলির বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়৷ এদিনের নির্বাচনী প্রচারে শিল্পাঞ্চলের মূল সমস্যা বেকারত্ব এবং সিঙ্গুরকে হাতিয়ার করেন কৌশলী লকেট৷ রাজ্য সরকারকে বিঁধে জানান, ‘‘আমরা কাছে হুগলির প্রতিটি এলাকাই গুরুত্বপূর্ণ৷ শিল্প যেমন গুরুত্বপূর্ণ, কৃষকও তেমন গুরুত্বপূর্ণ৷ সর্বোপরি মানুষ গুরুত্বপূর্ণ৷ এখানের প্রচুর মিল বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ বেকারের সংখ্যা বেড়েছে৷ শাসকদল যতই প্রচার করুক উন্নয়নে বাংলা, এগিয়ে বাংলা৷ আসলে পশ্চিমবঙ্গ বেকারত্বের দিকে এগিয়ে৷ বেকারত্বে প্রথম পশ্চিমবঙ্গ৷ সিঙ্গুরের কৃষকদের সঙ্গে বেইমানি করেছে রাজ্য সরকার৷’’ এখানেই শেষ নয়, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তথা হুগলির তৃণমূল প্রার্থী রত্না দে নাগকেও একহাত নেন বিজেপি নেত্রী৷ প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে বলেন, ‘‘উনি আমার থেকে বড়৷ কিন্তু তাও বলব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে হাঁড়ি মাথায় দিয়ে উনি নাচতে পারেন৷ কিন্তু এলাকার উন্নয়ন করতে পারেন না৷ হুগলিতে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে৷ প্রকাশ্যে বন্দুক নিয়ে ঘুরছে দুষ্কৃতীরা৷ নারী নিরাপত্তা বিপন্ন৷’’

[ আরও পড়ুন: সোনা-সহ স্ত্রীর ধরা পড়ার খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো, দাবি অভিষেকের ]

রবিবার সকালে ভদ্রেশ্বর গেটের কাছে একটি মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী৷ এরপর পায়ে হেঁটে পৌঁছে যান এলাকার একের পর এক বাড়িতে৷ মানুষের কাছে গিয়ে বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী মোদির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন তিনি৷ বেকারত্ব প্রসঙ্গে জানান, ‘‘বিজেপি চায় বেকাররা চাকরি পান৷ তাঁদের স্বপ্ন সত্যি হোক৷ ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই আমরা নেমেছি৷’’ কঠিন লড়াই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘কোনও লড়াই সহজ নয়৷ আমার কাছে সব লড়াই এক৷ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নারী সুরক্ষার লড়াই, কখনই সহজ হয় না৷’’ সকালের দিকে ভদ্রেশ্বরে প্রচার সেরে দুপুরে হুগলি সাংগঠনিক জেলার পার্টি অফিসে মহিলা মোর্চার মহা সমাবেশে যোগ দেন লকেট চট্টোপাধ্যায়৷ সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনগর মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর৷ এরপর চন্দননগরে পথসভা করে অংশগ্রহণ করবেন হুগলির বিজেপি প্রার্থী৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement