দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: এযেন হিন্দি সিনেমার প্লট। গ্রাহক সেজে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে দুঃসাহসিক ডাকাতি। এহেন ব্যাংক লুটের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল ডানকুনিতে।বুধবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে ডানকুনি হাউজিং লাগোয়া এলাকার সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার।
[ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় যুবককে পিটিয়ে খুন, ধুন্ধুমার কৃষ্ণনগরে]
এদিন দুপুরে রীতিমতো হিন্দি সিনেমার কায়দায় পাঁচ জনের ডাকাত দলটি ব্যাংকের ভিতরে ঢোকে। গ্রাহক সেজে ঢোকায় কেউই তেমন একটা গা করেননি। তবে ওই দলের একজনের মাথায় হেলমেট থাকায় কর্তব্যরত সিভিক ভলানটিয়ারের সন্দেহ হয়। হেলমেট পড়ে ব্যাংকে ঢোকা যাবে না বলতেই ওই ডাকাত তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ঢুকে যায় বলে অভিযোগ। ততক্ষণে ব্যাঙ্কের ভিতরে ঢুকে ছদ্ম পরিচয় থেকে বেরিয়ে এসেছে চার ডাকাত। ব্যাংকে সেসময় অনেক গ্রাহক ছিলেন। ডাকাতের উপস্থিতি জানাজানি হতে সময় নেয়নি। ঝামেলা এড়াতে তড়িঘড়ি ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যেতে চাইছিলেন গ্রাহকরা। ডাকাতরা তা টের পেতেই গ্রাহকদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে সকলের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেয়। তারপর সকলকে একটা ঘরে ঢুকিয়ে বন্ধ করে দেয় দরজা। এরপর ব্যাংকের কর্মীচারীদের ভল্ট খুলতে বাধ্য করে। ভল্ট থেকে নগদ টাকা লুটের পর সদলবলে ব্যাংক ছাড়ে ডাকাত দল। তবে যাওয়ার আগে সমস্ত সিসিটিভির হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যায়।
[দলবিরোধী কাজের অভিযোগ, অভিষেকের নির্দেশে সরানো হল ঝালদার শহর সভাপতিকে]
আটকে পড়া গ্রাহকদের বক্তব্য অনুযায়ী ডাকাতরা হিন্দি ভাষী। শুধু তাই নয়, রীতিমতো ছক কষেই ডাকাতির পরিকল্পনা ছিল ওই পাঁচজনের। আটকে পড়া গ্রাহক কল্পনা দাস-সহ অন্যান্যরা জানান, ডাকাতরা সকলেই হিন্দিতে কথা বলছিল। পাশাপাশি, ব্যাংকের দোতলায় উঠে রাস্তার ধারে যে ঘরটি ছিল সেই ঘরে গ্রাহকদের তালাবন্ধ করেনি ডাকাতরা। সম্পূর্ণ অন্য একটি ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই ঘর থেকে শত চিৎকার করলেও বাইরে আওয়াজ পৌঁছাবে না। এর থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার ডাকাতরা এর আগেও বেশ কয়েকবার রেইকি করে গিয়েছে। নয়তো ঘরের অবস্থান সম্পর্কে এতটা নিখুঁত জ্ঞান থাকত না। ডাকাতির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার। পুলিশ ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য জানার চেষ্টা করছে।
পাশাপাশি, হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যাওয়ায় কোনও সিসিটিভির ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সমস্যায় পড়েছে পুলিশ। তবে, এলাকায় আশপাশের বেশকিছু জায়গার সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডানকুনির একটি গাড়ির শোরুমের সিসিটিভির ফুটেজে সন্দেহজনক কালো রঙের গাড়ি দেখা গিয়েছে। ডাকাতির ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ আগে গাড়িটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ওই গাড়িটি থেকে চার জনকে নামতেও দেখা গিয়েছে। ফুটেজ দেখে গাড়ির আরোহীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এই প্রসঙ্গে ডানকুনি পুরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর কৃষ্ণেন্দু মিত্র জানান, ভরদুপুরে এরকম একটা জনবহুল এলাকায় এই ঘটনা অশনি সংকেত। তবে ঠিক কত টাকা ডাকাতরা লুট করেছে, তা নিয়ে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
সর্বশেষ খবর
-
রোজ ইনসুলিনের ঝামেলা শেষ! কীভাবে কাজ করবে বিশ্বের প্রথম সাপ্তাহিক ইনসুলিন?
-
বিশ্বকাপের ক্ষত না শুকোতেই ইঙ্গিতবাহী পোস্ট! রোনাল্ডোর মন্তব্যে দ্বিধাবিভক্ত নেটপাড়া
-
জীবিত ব্যক্তির পাঁজর ভেঙে ‘ডানা’! সত্যিই কি নিষ্ঠুরতা আর ভাইকিং ছিল সমার্থক?
-
অধিকৃত কাশ্মীরে গণহত্যার ছক পাকিস্তানের! বিদ্রোহ দমনে আরও ৪০০০ সেনা, ৭ রেঞ্জার্স উইং
-
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে টানা ১৪ দিন অনশন, অসুস্থ সোনম ওয়াংচুক বলছেন, ‘আমি গান্ধী নই’