Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
Salboni

বাণিজ্য সম্মেলনে ১৬ হাজার কোটির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঘোষণা জিন্দালের, স্বপ্ন দেখছে শালবনি

কাজ না হলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি জমিদাতাদের।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৫, ২০:২৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৫, ২০:২৩

options
link
বাণিজ্য সম্মেলনে ১৬ হাজার কোটির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঘোষণা জিন্দালের, স্বপ্ন দেখছে শালবনি zoom
Advertisement

সম্য়ক খান, মেদিনীপুর: তাপবিদ‌্যুৎ কেন্দ্র গড়ার ঘোষণায় আশার আলো দেখছেন শালবনির বাসিন্দারা। বিশেষ করে বেকার যুবক-যুবতীরা। মাত্র একদিন আগেই জিন্দাল গোষ্ঠীর কর্ণধার সজ্জন জিন্দাল শালবনিতে নিজেদের জমিতে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ‌্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ‌্যুৎ কেন্দ্র গড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। যার জন‌্য ১৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। ওই ঘোষণার পরই ফের নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন এলাকার জমিদাতা থেকে শুরু করে বাসিন্দারা।

শালবনি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নেপাল সিংহের কথায়, “শালবনিতে বিদ‌্যুৎ কারখানা হলে এলাকার অর্থনীতি পালটে যাবে। সুযোগ বাড়বে কর্মসংস্থানের।” তবে না আঁচালে বিশ্বাস নেই বলে মন্তব‌্য করেছেন শালবনি ল‌্যাণ্ড লুজার ওয়েলফেয়ার অ‌্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক পরিষ্কার মাহাতো। তাঁর কথায়, “এর আগেও একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু কিছুই হয়নি। আগে কাজ শুরু করুক। তারপর ঘোষণা করুক।” পরিষ্কারবাবুর হুমকি, আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত দেখবেন। কোনও কাজ না এগোলে জমিদাতারা আন্দোলনের পথে যেতে বাধ‌্য হবেন।

Advertisement

উল্লেখ্য, বিগত ২০০৭ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে শালবনিতে প্রায় সাড়ে চার হাজার একর জমি জিন্দালদের দেওয়া হয় ইস্পাত কারখানার জন‌্য। যার মধ‌্যে ব‌্যক্তি মালিকানাধীন জমি ছিল প্রায় সাড়ে চারশো একর। ৮৯৪ টি পরিবারের হাতে ওই জমির মালিকানাধীন সত্ত্ব ছিল। তারা স্বেচ্ছায় জমিও দিয়েছিলেন। বাকি পুরোটাই ছিল সরকারি খাসজমি ও বনভূমি। ঘটা করে ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানও হয়। ৩ বছরের মধ‌্যে কারখানার উৎপাদন শুরু করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর আর ইস্পাত কারখানা গড়ে ওঠেনি। তার বদলে পরবর্তীকালে সেই জমির একাংশে সিমেন্ট কারখানা গড়া হয়। বাকি জমি পতিত অবস্থাতে তাদের দখলেই আছে। একাধিকবার ওই জমিতে রং কারখানা থেকে শুরু করে তাপবিদ‌্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলারও প্রস্তাব রাখা হয় জিন্দাল গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে। তবে তার বাস্তবায়ন ঘটেনি।

গত ২০১৪ সালে ওই প্রকল্পের মধ‌্যে ৪৫৪ একর জমিতে তাপবিদ‌্যুৎ কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনাও হয়। জনশুনানিও করা হয়। কিন্তু সেই কাজও আর এগোয়নি। এখন ফের সজ্জন জিন্দাল তাপবিদ‌্যুৎ কেন্দ্র গড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। যা শুনে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন। শালবনি পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ‌্যক্ষ তথা তৃণমূলের যুবনেতা সন্দীপ সিংহ বলেন, “জিন্দাল কর্ণধারের ঘোষণাকে স্বাগত জানাই। তবে এবার যেন সত্যি সত্যি শালবনির জমিতে দ্রুত কারখানা গড়ে তোলা হয়। কারণ, ইস্পাত কারখানা যে স্বপ্ন শালবনিবাসীকে দেখিয়েছিল তা করে উঠতে পারেনি। তাপবিদ‌্যুৎ কেন্দ্র হলে এলাকার বেকার যুবক-যুবতীরা কাজ পাবেন।” তবে শালবনি ল‌্যাণ্ড লুজার ওয়েলফেয়ার অ‌্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক পরিষ্কার মাহাতো বলেন, “জমিদাতাদের মাত্র ১৫০ জনকে কাজে নিয়েছে জিন্দাল গোষ্ঠী। বাকি এখনও ৯০০ জমিদাতা পরিবারের সদস‌্যরা কাজ পাওয়ার লাইনে আছেন। তাদের কর্মসংস্থান হয়নি। প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণা না করে অন্ততঃপক্ষে কিছু কাজ করে দেখাক জিন্দাল কর্তৃপক্ষ। মানুষকে অনেক আশা দেখিয়েও তারা তা পূরণ করতে পারেনি। আশা না দেখিয়ে এবার তার বাস্তবায়ন হোক।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.