Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১৭ আগস্ট ২০২৬
Shantiniketan

ভারী যানে ক্ষতিগ্রস্ত কবিগুরুর ঐতিহ্যবাহী রাস্তা, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু শরণে বিশ্বভারতী

তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য স্বপন কুমার দত্তের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৭ সালে রাজ্য সরকার রাস্তার দায়িত্ব বিশ্বভারতীর হাতে তুলে দেয়। তবে পরে ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাজ্য সরকার পুনরায় রাস্তার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নেয়।

দেব গোস্বামী
দেব গোস্বামী

শেষ আপডেট: মে ৯, ২০২৬, ১৯:২০

link
দেব গোস্বামী
দেব গোস্বামী

শেষ আপডেট: মে ৯, ২০২৬, ১৯:২০

options
link
ভারী যানে ক্ষতিগ্রস্ত কবিগুরুর ঐতিহ্যবাহী রাস্তা, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু শরণে বিশ্বভারতী zoom
এই রাস্তা ঘিরেই বিতর্ক।
Advertisement

দীর্ঘ ১৫ বছর পর রাজ্যে ফের পালাবদল। ফের একবার পরিবর্তনের সাক্ষী বাংলার মানুষ। এরপরেই ঐতিহ্যবাহী উপাসনা গৃহ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিতে চলেছে বিশ্বভারতী। দূষণ এবং যানজটে ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহ্যবাহী এই রাস্তা। এবার সেই রাস্তা ফেরত চায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মন্ত্রিসভা গঠনের পর শীঘ্রই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন বিশ্বভারতী জানাবে বলে খবর। শান্তিনিকেতনের ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ স্বীকৃত ঐতিহ্য রক্ষা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে ওই রাস্তার উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভারী যান চলাচল ও যানজটের ফলে রাস্তার দু’পাশে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ভবন, ভাস্কর্য ও স্থাপত্য ক্রমশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, ”ধীরে ধীরে এই কাজগুলি করা হবে। রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই বিশ্ববিদ্যালয় এগোবে। ঐতিহ্যপূর্ণ এই রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

উল্লেখ্য, শান্তিনিকেতন রোড থেকে তালধ্বজের সামনে দিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা শ্রীনিকেতনের দিকে গিয়েছে। এই রাস্তার দু’পাশে রয়েছে উপাসনা গৃহ, শান্তিনিকেতন গৃহ, ছাতিমতলা, রবীন্দ্রভবন, নন্দন আর্ট গ্যালারি, নাট্যঘর, কলাভবন, সঙ্গীতভবন, শিক্ষাভবন-সহ একাধিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এছাড়াও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের বাড়ি এবং প্রখ্যাত শিল্পী রামকিঙ্কর বেইজের একাধিক ভাস্কর্যও এই এলাকার অন্তর্গত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এই রাস্তা দিয়ে ভারী যান চলাচল এবং দীর্ঘক্ষণ যানজটের কারণে দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার প্রভাব পড়ছে প্রাচীন ভবন, ভাস্কর্য ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের উপর।

Advertisement

শান্তিনিকেতন রোড থেকে তালধ্বজের সামনে দিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা শ্রীনিকেতনের দিকে গিয়েছে। এই রাস্তার দু’পাশে রয়েছে উপাসনা গৃহ, শান্তিনিকেতন গৃহ, ছাতিমতলা, রবীন্দ্রভবন, নন্দন আর্ট গ্যালারি, নাট্যঘর, কলাভবন, সঙ্গীতভবন, শিক্ষাভবন-সহ একাধিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এছাড়াও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের বাড়ি এবং প্রখ্যাত শিল্পী রামকিঙ্কর বেইজের একাধিক ভাস্কর্যও এই এলাকার অন্তর্গত।

প্রসঙ্গত, তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য স্বপন কুমার দত্তের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৭ সালে রাজ্য সরকার রাস্তার দায়িত্ব বিশ্বভারতীর হাতে তুলে দেয়। তবে পরে ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাজ্য সরকার পুনরায় রাস্তার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নেয়। এরপর একাধিকবার চিঠি দিয়ে রাস্তা পুনরায় হস্তান্তরের আবেদন জানানো হলেও কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে দাবি। বিশ্বভারতী দেশের একমাত্র কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরিদর্শক রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং আচার্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি ইউনেসকোর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ স্বীকৃতি পাওয়া বিশ্বের একমাত্র চলমান বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবেও বিশ্বভারতীর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরেই রাজ্য সরকারের কাছে রাস্তা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক দাবি জানাবে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। আর ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও ভাস্কর্যগুলির সুরক্ষার স্বার্থে নয়া সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে ভূমিকা নেবে মনে করছেন শান্তিনিকেতনের পড়ুয়া প্রাক্তনী এবং প্রবীণ আশ্রমিকেরা।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.