সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাহাড়ের আরও বিপাকে মোর্চা। এবার এসআই অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত মোর্চার সমর্থকদের বিরুদ্ধে UAPA ধারায় মামলা রুজু করল রাজ্য। ঘটনায় বিমল গুরুং, দীপেন মালে, প্রবীণ সুব্বা-সহ ২০ মোর্চা নেতার বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এফআইআর দায়ের করল দার্জিলিং সদর থানার পুলিশ। ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে UAPA ছাড়াও খুন, অস্ত্র, বিস্ফোরক আইনেও মামলা দায়ের হয়েছে। প্রসঙ্গত, এই দার্জিলিং সদর থানায় কর্মরত ছিলেন নিহত এসআই অমিতাভ মালিক। এদিকে, পাহাড়ের উন্নয়ন জন্য ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার।
[বাংলাকে ভাগ হতে দেব না, সংকল্প ছিল শহিদ অমিতাভের]
গত ৮ জুন রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঘিরে পাহাড়ে অশান্তির সূত্রপাত। সেদিন মোর্চা সমর্থক তাণ্ডবে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল জিটিএ-র প্রশাসন দপ্তর ভানুভবন লাগোয়া এলাকা। ঘটনায় ইতিমধ্যেই মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে UAPA ধারায় মামলা রুজু করেছে রাজ্য। গ্রেপ্তারি এড়াতে এখন পাহাড়-জঙ্গলে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিমল গুরু। বহু চেষ্টা করে এখনও তাঁর নাগাল মেলেনি। উলটে গুরুংয়ের সন্ধানে শুক্রবার শিরুবাড়ির জঙ্গলে পুলিশি অভিযানে মোর্চার সমর্থকদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন দার্জিলিং সদর থানার এসআই অমিতাভ মালিক। সদ্য বিবাহিত তরুণ এই পুলিশকর্মীর মৃত্যুতে রাজ্য জুড়ে গুরুং বিরোধী জনমত তীব্র হয়েছে। মোর্চার সুপ্রিমোর শাস্তির দাবি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে এসআই অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর ঘটনায় ফের নতুন করে বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে UAPA ধারায় মামলা দায়ের হল। তবে মোর্চা সুপ্রিমোই নন, দীপেন মালে, প্রবীণ সুব্বা-সহ ২০ মোর্চা নেতাকে রাষ্ট্রদোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সোমবারই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এফআইআর দায়ের করে দার্জিলিং সদর থানার পুলিশ। মামলা দায়ের করা হয়েছে খুন, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে। এদিকে অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর পর পাহাড়ে কর্মরত পুলিশকর্মীদের মনোবল ঠিক রাখতে উত্তরবঙ্গে গিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সুরজিৎ করপুরকায়স্থ। মঙ্গলবার কালিম্পংয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
[‘গুরুং মাথায় গুলি খেলে শান্তি পাবে অমিতাভ’, ডিজির কাছে আরজি বিউটির]
একদিকে পাহাড়ে মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুংয়ের প্যাঁচে ফেলতে যখন উঠেপড়ে লেগেছে প্রশাসন, অন্যদিকে তখন উন্নয়নের বার্তা দিতে পাহাড়ের জন্য ৫০০ কোটি বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রক থেকে জিটিএ-কে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ১০৪ দিনের বনধে পাহাড়ে প্রায় ১০০০ কোটি ক্ষতি হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বহু সরকারি অফিস। থমকে গিয়েছে একশো দিনের কাজ-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ। সরকারি অফিস মেরামতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করার জন্য জিটিএ-কে ৫০০ কোটি টাকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তবে টাকা কোন খাতে খরচ করা হয়েছে, তার হিসেব দিতে বলা হয়েছে জিটিএ-কে।]
[‘অমিতাভকে চিনতাম, খুবই সাহসী ছেলে’, বললেন শোকস্তব্ধ মুখ্যমন্ত্রী]
সর্বশেষ খবর
-
‘রেল মানচিত্রে জুড়বে গোটা বাংলা’, নবান্নে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ শুভেন্দুর
-
উচ্ছিষ্ট ফুল থেকেই তৈরি হবে ধূপবাতি! রাজ্যের উদ্যোগে আশার আলো তারাপীঠ-সহ বীরভূমের বিভিন্ন মন্দিরে
-
কৃষ্ণনগরে হস্টেলের শৌচালয়ে খুদে ছাত্রীর দেহ! খুনের অভিযোগ পরিবারের
-
হতশ্রী ফুটবল! এবার তাজিকিস্তানের কাছেও হার খালিদ জামিলের ভারতের
-
‘যা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণাতেই…’, স্বরূপের গ্রেপ্তারির পর স্বস্তিতে ঋত্বিক!