বাংলার বিরল মৃত্তিকা মৌল-র এবার খননকাজ শুরু করবে কেন্দ্র! বাণিজ্যিকভাবে ওই দুষ্প্রাপ্য খনিজ সম্পদ রেয়ার মেটাল উত্তোলনে চলতি মাসের ১৫ তারিখ ভারত সরকারের খনি মন্ত্রক নিলামের আদেশনামা জারি করেছে। ফলে এই প্রথম বাংলায় কোনও বড় খনিজ ব্লক নিলাম হতে চলেছে। এই বিরল মৃত্তিকা মৌল বা রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস রয়েছে ঝাড়খণ্ড ছুঁয়ে থাকা জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায়। পুরুলিয়া দু’নম্বর ব্লকের বেলমা গ্রাম পঞ্চায়েতের কালাপাথর, রঘুডি গ্রামে এই প্রাচুর্যময় খনিজ ভাণ্ডার রয়েছে। যা বিশ্বের সবচেয়ে বিরল খনিজ সম্পদ। তবে যার সিংহভাগই রয়েছে চিনে।
এছাড়া ভিয়েতনাম, ব্রাজিল, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে আছে। কেন্দ্র যে ২০টি খনিজ প্রকল্পের নিলামের আদেশনামা জারি করেছে, তার মধ্যে রেয়ার মেটাল ই-অকশন শুধু বাংলাতেই। এই রেয়ার আর্থ যেমন সন্ধান মিলেছে বাংলায়। তেমনই এই বঙ্গে সোনা-র খোঁজেও চলছে অনুসন্ধান। এই বিরল মৃত্তিকা খনিজ ১৭টি ধাতব মৌলের একটি বিশেষ গোষ্ঠী। যা উত্তোলন হলে বহু রাজস্ব বাড়বে রাজ্য ও কেন্দ্রের। এই খনিজ প্রকল্পকে ঘিরে হবে কর্মসংস্থানও। খনি মন্ত্রকের আওতায় থাকা ভূতাত্বিক সমীক্ষা সংস্থা বা জিএসআই যে অনুসন্ধান প্রকল্প হাতে নিয়েছিল, সেই কাজেই পুরুলিয়ায় এই রেয়ার আর্থ-র সন্ধান মেলে।
আরও পড়ুন:
এই খনিজ প্রকল্পকে ঘিরে হবে কর্মসংস্থানও। খনি মন্ত্রকের আওতায় থাকা ভূতাত্বিক সমীক্ষা সংস্থা বা জিএসআই যে অনুসন্ধান প্রকল্প হাতে নিয়েছিল, সেই কাজেই পুরুলিয়ায় এই রেয়ার আর্থ-র সন্ধান মেলে।
ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ০.৬৭ মিলিয়ন টন। যা ইলেকট্রনিক্স, প্রতিরক্ষা, নবায়নযোগ্য শক্তি বা রিনিউবেল এনার্জি ও বৈদ্যুতিক যানের ভবিষ্যতের জন্য এই খনিজ সম্পদ ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশন চালু করে কেন্দ্র। এর লক্ষ্য ক্রিটিক্যাল মিনারেলের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং খনিজ অনুসন্ধান খনন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ পর্যন্ত দেশের ক্রিটিকাল মিনারেল ভ্যালু চেনকে শক্তিশালী করা। অর্থাৎ এই ধরনের সমৃদ্ধশালী খনিজ সম্পদে আত্মনির্ভরতায় লক্ষ্য।
কিন্তু এই রাজ্যের বিগত সরকার পুরুলিয়ার ওই কালাপাথর-রঘুডি রেয়ার মেটাল ব্লকের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য কেন্দ্রকে দেয়নি। সেই কারণে বহুদিন এই নিলাম প্রক্রিয়া আটকেছিল বলে অভিযোগ। ফলে জাতীয় অগ্রগতি যেমন ব্যাহত হচ্ছিল। তেমনই রাজ্যের শিল্পায়ন-সহ শিল্পকেন্দ্রিক কর্মসংস্থান ধাক্কা খাচ্ছিল। সেই কারণে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য কেন্দ্রের কয়লা ও খনি মন্ত্রী জি কিশন রেড্ডির কাছে বাংলার বিরল মৃত্তিকা খনিজ সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছিলেন।
বিগত সরকার পুরুলিয়ার ওই কালাপাথর-রঘুডি রেয়ার মেটাল ব্লকের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য কেন্দ্রকে দেয়নি। সেই কারণে বহুদিন এই নিলাম প্রক্রিয়া আটকেছিল বলে অভিযোগ। ফলে জাতীয় অগ্রগতি যেমন ব্যাহত হচ্ছিল। তেমনই রাজ্যের শিল্পায়ন-সহ শিল্পকেন্দ্রিক কর্মসংস্থান ধাক্কা খাচ্ছিল।
চলতি আর্থিক বছরে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় ভূতাত্বিক সমীক্ষা সংস্থা রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস-র উপর অনুসন্ধান প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এছাড়া দার্জিলিং-এও এই রেয়ার আর্থের সন্ধান চলছে। কালিম্পং এলাকায় সোনাও মিলতে পারে বলে আশাবাদী সাংসদ শমিক ভট্টাচার্য। তবে কালাপাথর- রঘুডি ছাড়াও, এই ব্লকের গোলামারা-বারুডি, পশ্চিম কালাপাথর ও কোটশিলার খটঙ্গা-র উত্তর অংশে এই রেয়ার আর্থ রয়েছে। এছাড়া দেশের ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কেরালা তামিলনাডুতে এই বিরল খনিজ পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘ঈশ্বর’ বনাম ‘ঈশ্বরের বরপুত্র’! ইয়ামালের সঙ্গে ভাইরাল ছবি নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মেসি
-
মহাকাশে পাড়ি দেশের প্রথম বেসরকারি রকেট বিক্রম-১-এর! তৈরি হল ইতিহাস
-
ভোটে হারতেই ‘অমাবস্যার চাঁদ’, বাংলার ‘বিগ বস’ দিয়েই কামব্যাক সায়ন্তিকার!
-
বাবার সঙ্গে দেখা হতেই কী বলেন শুটার দময়ন্তী? মেয়েকে ফিরে পেয়ে স্বস্তিতে মা
-
এই সরকারকে বিশ্বাস নেই! সোনমকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আর্জি ‘উদ্বিগ্ন’ মমতার