স্টাফ রিপোর্টার: বন্ধে রাজ্যকে সচল রাখতে সব রকমের প্রস্তুতি নিল প্রশাসন৷ বামপন্থী-সহ কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা শুক্রবারের সাধারণ ধর্মঘটকে কড়া হাতেই মোকাবিলা করা হবে বলে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ধর্মঘটের ঠিক আগের দিন তাঁর স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া, “আগামিকাল কোনও বন্ধ হচ্ছে না৷ বাংলাকে সচল রাখার রাজনীতিটা করি৷ আর বন্ধ বোনাস নয়৷ অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে৷” ধর্মঘটে ভাঙচুর হলে ভাঙচুরকারীদেরই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, এমন আইন করার পরিকল্পনাও নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ সে ব্যাপারে প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীও তাই বলেছেন, “গাড়ি চালান৷ গাড়ি ভাঙচুর হলে ক্ষতিপূরণ পাবেন৷ কোনও দোকান ভাঙচুর হলে ক্ষতিপূরণ পাবেন৷ স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি, আইন করছি, ভাঙচুর হলে ক্ষতিপূরণ তাঁদের থেকে আদায় করার৷”
বন্ধের মোকাবিলায় আগেই বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা জানিয়েছিল সরকার৷ ছুটি বাতিল করা হয়েছে সরকারি কর্মচারীদের৷ শুক্রবার কাজে যোগ না দিলে বেতন কাটা যাবে ও কর্মজীবনে ছেদ পড়বে, বলা হয়েছে নির্দেশিকায়৷ সুপ্রিম কোর্টে সিঙ্গুরের জয়ের পর বুধবারই ২ সেপ্টেম্বর ‘সিঙ্গুর দিবস’ পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি এদিনও বলেন, “কাল সিঙ্গুর দিবস পালিত হবে, বন্ধ হচ্ছে না৷” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ব্লকে ব্লকে ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিঙ্গুরের রায়ের পর উৎসব পালন করা হবে৷ জমি-আন্দোলনের ঐতিহাসিক জয়ের সেই অনুষ্ঠানেই রাজ্যের মানুষকে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রীরাও৷ সেই মতো নিজের নিজের এলাকায় তৃণমূলের মন্ত্রী-বিধায়কদের উদ্যোগ নিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ ধর্মঘট ব্যর্থ করতে প্রশাসনিকভাবে সবরকম উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে৷ প্রতিটি সরকারি অফিসেই রাতে রয়েছেন দূরের কর্মীরা৷ নবান্ন, মহাকরণ, নব মহাকরণ, খাদ্য ভবন-সহ সর্বত্র নিশিযাপন সরকারি কর্মীদের৷ সেখানে আহারেরও ব্যবস্থা ছিল৷ পর্যাপ্ত সরকারি বাস-ট্রামের পাশাপাশি বেসরকারি বাসও রাস্তায় নামবে৷ প্রতিটি এলাকায় তৃণমূলের কর্মীরাও রাজ্যকে সচল রাখতে ভূমিকা নেবেন৷
ধর্মঘট ব্যর্থ করে রাজ্যকে সচল রাখার আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “মানুষের কাছে আবেদন করছি বাংলাকে সচল রাখুন৷ সামনেই পুজো৷ বিশ্বকর্মা পুজো৷ শিক্ষক দিবস রয়েছে৷ বাংলাকে এগিয়ে দেওয়ার কাজ করি৷ প্রত্যেকবার দেখি পুজোর আগে বোনাসের মতো একটা বন্ধ হয়৷ আর ধর্মঘট বোনাস নয়৷ আমি শ্রমিকদের সঙ্গে থাকি শ্রমিকদের কথাই ভাবি৷ ধর্মঘট করে সমস্যার সমাধান হবে না৷ তাই ধর্মঘট বন্ধ করে দিয়েছি৷ সরকার হোর্ডিং, ব্যানার দিয়ে বন্ধের বিরোধিতা করছে৷”
সর্বশেষ খবর
-
৩ বছর একই অফিসে কর্মরত পঞ্চায়েত কর্মীদের বদলির নির্দেশ, ১১,১৫৪টি শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ
-
সাইয়ের ২০০ কোটির প্রকল্প আটকে দিয়েছিল তৃণমূল! মমতা-অরূপকে কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক দিন্দা
-
খালি পায়ে সাড়ে তিন হাজার সিঁড়ি বেয়ে তিরুপতিতে জাহ্নবী, কেন এই কঠিন ব্রত?
-
সই-কাণ্ডে ফিরহাদের বাড়িতে সিআইডি, মিটিংয়ে কী ঘটেছিল? জিজ্ঞাসাবাদ মেয়রকে
-
ভুল নিয়মে পরলেই ঘোর অমঙ্গল, শুক্রের কৃপা পেতে কীভাবে হিরে ধারণ করবেন?