অংশুপ্রতিম পাল, খড়গপুর: চলছে এসআইআর। রোজ হচ্ছে শুনানি। এবার এই শুনানিতেই চাপে পড়েছে কমিশন। জানা গিয়েছে ভাষা সমস্যায় রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে কমিশনকে। এই ঘটনা ঘটেছে, ওড়িশা লাগোয়া মোহনপুর ও দাঁতন এক নম্বর ব্লকের চারটি গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
জানা গিয়েছে, দাঁতন বিধানসভার মোহনপুর ও দাঁতন এক নম্বর ব্লকের চারটি গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকা, ওড়িশার সীমানায় অবস্থিত। সেখানে রয়েছে ভাষা সংক্রান্ত সমস্যা। এর ফলে, শুনানির কাজ শেষ করতে কখনও কখনও সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে যাচ্ছে। এরকম সমস্যায় পড়তে হবে তা বিন্দুমাত্র আঁচ করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। ফলে, নথি ঘেঁটে শুনানি করতে রীতিমতো নাজেহাল অবস্থা মোহনপুর ও দাঁতন এক ব্লকের প্রশাসনের।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাষাগত এবং নথি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিয়েছে এই এলাকায়। নথিপত্রে উল্লেখ করা ভাষা অনেক সময় বোঝা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। বিশেষ করে এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে ওড়িশা থেকে বিয়ে হয়ে আসা মহিলা ও তরুণীদের ক্ষেত্রে। এঁদের অনেকেরই মাতৃভাষা ওড়িয়া। লেখাপড়াও ওড়িয়া ভাষায়। ফলে নথিপত্র ওড়িয়া ভাষা লেখা থাকায় সেগুলির মানে উদ্ধার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দাবি উঠেছে দোভাষী রাখার।
মোহনপুর ব্লকের নীলদা, তনুয়া ও দাঁতন এক নম্বর ব্লকের আঙ্গুয়া ও চকইসমাইলপুর ওড়িশা সীমানা লাগোয়া। এই চারটি গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকায় সমস্যা বেশি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বিবাহসূত্রে ওড়িশা থেকে আসা বহু মহিলা ও তরুণী এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। এদের মধ্যে, বেশিরভাগেরই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই। এর ফলে, এসআইআরে এঁদের শুনানিতে ডাকা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে শুনানিতে এসে অনেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারছেন না। নথি দেখাতে পারছেন না। আবার তাঁরা ওড়িশার কোন বুথের ভোটার ছিলেন সেটিও সঠিকভাবে বলতে পারছেন না। আবার বললেও ভাষা সমস্যার কারনে সবটা বোধগম্য হচ্ছে না। এর ফলে শুনানি করতে অনেক বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। কখনও কখনও রাত হয়ে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, একজনের শুনানি করতেই প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লেগে যাচ্ছে।
এই বিষয়ে মোহনপুর ব্লকের বিডিও জয়ন্ত সাহা বলেন, “ভাষাগত সমস্যার কারনে শুনানিতে সমস্যা হচ্ছে। এক একজনের জন্য ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লেগে যাচ্ছে। আলাদা করে একজন দোভাষী দেওয়া হলে ভালো হত।” অন্যদিকে, দাঁতন এক নম্বর ব্লকের বিডিও উৎপল সর্দার বলেন, “বিশেষত ওড়িশা লাগোয়া এলাকাগুলিতে ভাষাগত সমস্যার কারনে শুনানিতে সময় লাগছে। কোনও কোনও দিন শুনানি পর্ব শেষ করতে রাত হয়ে যাচ্ছে। বেশিরভাগ নথি ওড়িয়ায় লেখা থাকায় অনুবাদ করতে দেরি হচ্ছে।”
সর্বশেষ খবর
-
‘ভয়ংকর হামলা’র হুমকি দিয়েও ইউ টার্ন! ইরানের সঙ্গে ‘সন্ধি’র পথে ট্রাম্প, আপাতত আক্রমণ স্থগিত
-
‘আইপ্যাকই ভরাডুবির কারণ’, হারের পর বিস্ফোরক নির্বাচনে ‘নিষ্ক্রিয়’ অনুব্রত
-
শাকিরার পাওয়ার, মেক্সিকোর ঐতিহ্যে বিশ্বকাপের বোধন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাতালেন আর কারা?
-
সাড়ে ৫ ঘণ্টা সিআইডির জেরার পর ভবানী ভবন থেকে মমতার বাড়িতে অভিষেক, ১৪ জুন ফের তলব
-
‘গৃহবধূরা দেশ গড়েন’, হোমমেকারদের মাসিক ৩০ হাজার টাকা ‘বেতনে’র পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট