Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
SIR in West Bengal

দেশ ছাড়তে হবে না তো? ২০০২ এর তালিকায় নাম না থাকায় ‘আতঙ্কে’ মৃত্যু মতুয়া বৃদ্ধের

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হন পেশায় কাঠমিস্ত্রী বছর ৭২ এর নিখিলচন্দ্র দাস। কিন্তু রাত হয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেননি তিনি।

Advertisement
অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ২০:৩৭

link
অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ২০:৩৭

options
link
দেশ ছাড়তে হবে না তো? ২০০২ এর তালিকায় নাম না থাকায় ‘আতঙ্কে’ মৃত্যু মতুয়া বৃদ্ধের zoom

এসআইআর (SIR in West Bengal) পর্বে মৃত্যু মিছিলের তালিকায় এবার যুক্ত হলেন একজন মতুয়া। বেনাগরিক হওয়ার আতঙ্কের ভার বইতে না পেরে শুনানির আগেই ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন অশোকনগরের বাসিন্দা বছর বাষট্টির নিখিল চন্দ্র দাস। দেশ ছাড়া হওয়ার আতঙ্কেই তিনি এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন বলেই দাবি পরিবারের। বুধবার সন্ধ্যায় মৃতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ঘটনা নিয়ে সরব হন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী। একজন মতুয়ার আত্মঘাতী হওয়া নিয়ে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর চল্লিশ আগে ওপার বাংলা থেকে এদেশে এসে অশোকনগর থানার গুমা ২ পঞ্চায়েতের শান্তিনগরে এলাকায় বসবাস শুরু করেছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের নিখিল চন্দ্র দাস। আগে তিনি কাঠের কাজ করতেন। এসআইআর শুরু হওয়ার সময় থেকেই দেশ ছাড়া হওয়ার ভয় মনে চেপে বসেছিল তাঁর। এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় নিখিল-সহ তাঁর পরিবারের মোট পাঁচ জনকে শুনানিতে হাজির হওয়ার নোটিশ কয়েক দিন আগে পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় ১৩৩ নম্বর বুথের দীর্ঘদিনের ভোটার হওয়া সত্ত্বেও নোটিশ পেয়ে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় নিখিলবাবুর।

Advertisement

তাঁর পুত্রবধূ শ্রাবণী দাসের কথায়, “এসআইআর (SIR in West Bengal) নিয়ে শ্বশুর ভীষণ আতঙ্কে ছিলেন। বারবার বলতেন বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেবে।” নাতনি কোয়েল দাস বলেন, “কাগজপত্র নিয়ে দাদু সমসময় চিন্তায় থাকত। সবার কাছে জিজ্ঞাসা করত, ভোটে নাম বাদ যাবে কি না।” এরইমধ্যে বুধবার গুমা রেনেসাঁ ক্লাবে শুনানির আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে বেপাত্তা হয়ে যান তিনি। প্রথমে পরিবারের অন্যান্যরা ভেবেছিলেন কোন আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছেন। শেষে বুধবার সকালে পরিবার জানতে পারেন গুমা স্টেশন সংলগ্ন রেল লাইনে মঙ্গলবার রাতে ডাউন বনগাঁ লোকালের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন বৃদ্ধ মতুয়া।

তাঁর বড় ছেলে লিটন বলেন, “৪০ বছর হল আমরা এদেশে এসেছে। তারপরও শুনানিতে ডাকা, এসআইআর নিয়ে বাবা চিন্তায় ছিল। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর আমাদের সম্প্রদায়কে আশ্বাস দিয়েছেন। তারপরও বাবা কেন এই রাস্তা বেছে নিল বুজতে পারছি না।” মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর জানার পরেই মৃতের মৃতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে অশোকনগরের বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী বলেন, “বিজেপি, নির্বাচন কমিশন কি চাইছে? আর কত মানুষকে প্রাণ দিতে হবে?” রাজ্যের মধ্যে সম্ভবত প্রথম কোন মতুয়া এভাবে আত্মঘাতীর ঘটনা জানাজানি হতেই শোরগোল পরে গিয়েছে।

সরব হয়ে তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলেন, “মতুয়ারা এসআইআর নিয়ে সত্যিই যে কতটা আতঙ্কে আছে এটা তারই প্রমাণ। নির্বাচন কমিশন মতুয়াদের রক্তে নিজেদের হাত লাল করল। আসলে এসআইআরের নামে মতুয়াদের নিধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আর কত মতুয়া প্রাণ যাবে তা নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি।” এই প্রসঙ্গে পাল্টা ঠাকুর বাড়ির প্রতিনিধি তথা গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর বলেন, “এসআইআরে’র বিরোধিতা করে, অপপ্রচার করে তৃণমূল মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.